এখনো চাঁদ দেখা যায়নি, কমিটির বৈঠক চলছে
ঈদুল ফিতর জাতীয় শাওয়ালের চাঁদমঙ্গলবার মাগরিব নামাজের পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শুরু হয়েছে।
এ সভায় ১৪৪০ হিজরি বর্ষের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে কাল (বুধবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ।
সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম উপস্থিত আছেন।
সভায় চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৪ জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ৪৭টি কেন্দ্র এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭- এসব টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার নাগরিকরা জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাতে পারবেন।
মঞ্জুর শাহরিয়ারকে তাৎক্ষণিক বদলির নেপথ্যে!
স্যোশাল মিডিয়াকোন ঘটনার গভীরে না গিয়ে কেন আমরা এমন মন্তব্যের ঝর তুলি! আপনি যদি ভেবে থাকেন যে,গতকাল শুধু আড়ং এ হানা দেয়ায় কারণেই মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে ঢাকা থেকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে? তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি কারণ শুধু এটা ই নয়।
চলুন একটু পেছনের দিকে যাই, মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ভোক্তা অধিকারের ব্যাপারে শুরু থেকেই সততা নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে আসছিলেন। অনেকটা মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন বছরের পর বছর নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের, তখন তিনি আর কাউকে তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশের অনেক বড় বড় বেনিয়াদের অপরাধ এবং অপকর্মের আখড়ায় হাত দিয়ে ফেলেছিলেন।
কিন্তু সমস্যা হলো যাদের আখড়ায় ভদ্রলোক হাত দিয়েছিলেন তারা সবাই বাংলাদেশের এক একজন অঘোষিত মাফিয়া। এরা যখন যে রাজনৈতিক দলের সরকার ক্ষমতায় আসে তখন সে দলে কোটি কোটি টাকা ডোনেট করে। অঢেল টাকার উপহার সামগ্রীর বিনিময়ে কিনে ফেলে হোমরাচোমরা নেতাদেরকে। আর সচিবালয়ের সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও খুব সহজেই চলে আসে এই বিকিকিনির হাটে।
তবে যে সব সৎ এবং দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের ওরা বাগে আনতে না পারে তাদের নামের তালিকাও এই ব্যবসায়ী নামক মাফিয়া সিন্ডিকেটের কাছে থাকে। এই মাফিয়া সিন্ডিকেট ওৎ পেতে থাকে কখন কিভাবে সেই লিস্টেড কর্মকর্তাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা যায়। সেই সিন্ডিকেটে শুধু ব্যাবসায়ী মালিক নয় বরং মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা ভোগকারী দালালরাও থাকে। সঙ্গত কারণেই সেই সিন্ডিকেট মাফিয়াদের শেকড় বা পিলার অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
যেহেতু মঞ্জুর মোহাম্মদ একদিকে সৎ তাকে কোন ভাবে এতো দিনেও কিনে ফেলা যায়নি,তার উপর উল্টো এই লোক ঢাকা শহরের নামকরা শপিংমল, নারী মাফিয়াদের বিউটি পার্লার, বড় বড় হসপিটাল কাউকেই ছাড় দেয়নি তাই সব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সিন্ডিকেট তলোয়ারে শান দিয়েই ছিলো।
এরপর গতকাল যখন আড়ং-এ হাত দিয়েছে সেখানেও বর্তমান কর্ণধার আরেক ব্যবসায়ী মাফিয়া নারী তামারা হাসান আবেদ, যার বাবা ফজলে হাসান আবেদ ব্রাক এর প্রতিষ্ঠাতা। ব্রাক এবং আড়ং একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ব্রাক যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে লোন দেয় তাদের ভাগ্য উন্নয়ন করবে বলে কিন্তু কোন কারণে সেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে সেই দরিদ্র ব্যক্তির গোয়ালের গরু, ঘরের চালের টিন খুলে আনার খবর আমরা অনেকেই জানি।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আড়ং এবং প্রতিষ্ঠাতা বাবার দায়িত্ব যে কন্যা তামারা আরো শক্ত হাতে পরিচালনা করছে তার ফল তো কয়েক বছর থেকে আরো নোংরা ভাবেই দেখে আসছি ১৭০ টাকার বিছানার চাদরের গায়ে কারখানার প্রাইস ট্যাগ না উঠিয়ে তার উপরে নতুন করে আড়ং এর ২৫০০ টাকার প্রাইস ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রির প্রতিবাদ দুবছর আগেই তো দেখেছিলাম। তারপরেও কি আড়ংয়ের কেউ কিছু করতে পেরেছিলো! পারেনি তো, আর পারবেইবা কেন ১৯৭৮ সালে জিয়ার প্রিয়ভাজন হয়ে সে আমলেই যখন খুটি গেড়েছিল সে কি আর এমনি এমনি! গত ৪১ বছর আড়ং যা পরিয়েছে সমাজের তথাকথিত এলিট শ্রেণী সেটা পরেছে মহানন্দে। নতুন নতুন টাকা চোখে দেখা লোক জনেরা পণ্য নয় শুধু ব্রান্ডনেম কিনে নিজেদের এলিট সাজাতে ছুটে যায় আড়ং এ। কারণ ওদের টাকা তো আর আমাদের মতো কষ্টার্জিত সৎ পথের নয় তাই পণ্যের মান বোঝার সামর্থ্য ওদের নেই।
যা বলছিলাম, বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চিকে যারা প্রতিনিয়ত বিষাক্ত করে তুলছে। বাচ্চাদের খাবার,পানি, ওষুধ, দুধ, ফল, মাছ,সবজি সহ সকল কিছুতে যখন ভেজাল মিশিয়ে মানুষের জন্য মৃত্যুকূপ তৈরী করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় বানানো ব্যাবসায়ী মাফিয়াদের কমবেশি আমরা সবাই চিনি এবং চিনে ফেলেছিলো মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার নিজেও। তাই সেই চেনা মাফিয়াদের ডেরায় যখন একের পর এক হাত দিয়ে যাচ্ছিলো এই ভদ্রলোক! তাহলে ওরাই বা ছাড়বে কেন? শুধু তো ট্রান্সফার করিয়েছে ঢাকা থেকে খুলনায় ভাগ্যিস পৃথিবী থেকেই ট্রান্সফার করে দেয়নি!
এসব ব্যবসায়ী মাফিয়াদের সমস্ত শক্তি হচ্ছে ব্লাক মানি বা কালোটাকা। শক্তির উৎস কালো টাক দিয়েই এরা রাজনীতি ও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সেখানে যখন পর পর এতো বার এতো জন বাধাগ্রস্ত হয়েছে তবে কি এভাবে দেখতেই থাকবে মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এর বিরত্বগাথা!
তাই সব ব্যবসায়ী মাফিয়া সিন্ডিকেট কাল একত্র হয়ে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে বেচারাকে স্ট্যান্ড রিলিজ শুধু নয় সেই সাথে দপ্তর বদলে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতার কিছুটা ঝলক দেখিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে ওরা মৌন ম্যাসেজ দিয়ে সবাইকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছে যে,পরবর্তীতে কেউ ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে তাদের অবস্থা আরো খারাপ করার ক্ষমতা ওরা রাখে।
ওরা এভাবেই সারা জীবন বাংলাদেশের মানুষের রক্ত চুষে খাবে আর টাকার পাহাড় বানিয়ে নিজেরা এবং নিজেদের আপন জনদের বিদেশে পাঠিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করে বাংলাদেশের মানুষকে ধুকে ধুকে মেরে ফেলবে। তবু ওদের বিরুদ্ধে টু শব্দ টি করার অধিকার ও কারো থাকতে পারবেনা! [মাকসুদা সুলতানা ঐক্য]। (লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)
লন্ডনে ঈদের নামাজ আদায় করলেন টাইগাররা
২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ঈদুল ফিতর খেলাধুলা বিশ্বকাপদেশের আট দশটা সাধারণ মানুষের মতো পরিবারের সঙ্গে হয়তো ঈদ করার করা ছিল বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের, যদি না বিশ্বকাপ থাকতো। বিশ্বকাপের কারণে টিম বাংলাদেশ এই মুহূর্তে অবস্থান করছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।
অন্যদিকে লন্ডনে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে আজ। সাকিব-মুশফিকরা লন্ডনের স্থানীয় সময় ১০টার পরে ঈদের নামজ আদায় করেছেন। তবে টিমবাসে করে দলবদ্ধ হয়ে যাননি সাকিব-মুশফিকরা। আলাদাভাবে বিচ্ছিন্নভাবে গিয়ে নামাজ আদায় করে নিয়েছেন তারা।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কারণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার পরও, কোনো ক্রিকেটার কিংবা দলকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। তাই তারা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে যেতে নিষেধ করেছে এবং নিরাপত্তা প্রদানেও অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এর আগে টিম টাইগারদের ঈদের নামাজ পড়া নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন, একসঙ্গেই ঈদের নামাজ পড়বে টাইগাররা। তবে সেটি হবে শুধুই সাধারণ মানুষদের মতো। অর্থাৎ, হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ট্যাক্সি বা মাইক্রোবাস নিয়ে নামাজ পড়তে যাবেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক-সাকিবরা।
এক্ষেত্রে কোলাহলপূর্ণ জায়গা ছেড়ে শহর থেকে দূরে কোনো মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে যাবেন টাইগার ক্রিকেটাররা। যেখানে মানুষের ভিড় থাকবে কম বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্বকাপের কারণে বাংলাদেশ দল লন্ডনে থাকায় বাংলাদেশি লন্ডন থেকে শুরু করে দেশের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ভিডিও সাক্ষাৎকারে মাশরাফী বলেন, ‘সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন দোয়া করবেন। আমাদের খেলাই ঈদ।’
রংপুর নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮ টায়
ঈদের জামাত রংপুরস্টাফ রিপোর্টার:
উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় রংপুর মহানগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া অনূকূলে না থাকলে বিকল্প স্থান হিসেবে কাচারী বাজার কোর্ট জামে মসজিদে দুই পর্বে সকাল ৯ টায় ও সাড়ে ৯ টায় ওই জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
রংপুরে ঈদের প্রধান জামাতে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে রংপুর সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বিভাগীয় কমিশনার কে.এম. তরিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ, পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমানসহ সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ প্রায় ২০ হাজার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।
এদিকে পুলিশ লাইন্স স্কুল মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায়, শাপলা চত্ত¡র আশরাফিয়া জামে মসজিদ, মুলাটোল হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠ ও মুন্সিপাড়া ঈদগাহ মাঠ, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মসজিদ, সদর উপজেলা পরিষদ মাঠ, মাহিগঞ্জ শাহী মসজিদ মাঠ, বড় ময়দান ঈদগাহ মাঠ ও কেরামতিয়া জামে মসজিদ মাঠে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯ টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও সাতমাথা ঈদগাহ মাঠ, খাসবাগ, তাজহাট, রবাটসনগঞ্জ, তাতীপাড়া, শালবন, নুরপুর, বাবুপাড়া, জামতলা ঈদগাহ মাঠ, মিঠাপুকুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বদরগঞ্জ চান্দামাড়ি কারামতিয়া ঈদগাহ পীরগাছা জেএন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কাউনিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, তারাগঞ্জ চৌপথি ঈদগাহ, পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও সদর উপজেলা পরিষদ ঈদগাহে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৃষ্টি হলে স্ব স্ব এলাকার মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে রংপুরের বুড়িরহাট মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জাতীয় সংসদের বিরোধি দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি নামাজ আদায় করবেন। বদরগঞ্জে নিজ গ্রামের ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ৭৫টি ঈদগাহে নামাজ আদায় হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। ঈদকে ঘিরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও চত্ত¡রগুলোসহ সড়কের মোড়ে মোড়ে আলোক সজ্জ্বা, ঈদ মোবারক লেখা রঙিন পতাকা সাটানো হয়েছে।
এ বছর রংপুর মহানগরীর ৭৫টিসহ জেলার প্রায় ১ হাজার ২’শ ঈদগাহ্ মাঠে জামাত আদায় করবেন মুসল্লিরা। ঈদের এসব জামাতে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর সম্প্রীতি কামনা করে মোনাজাত করা হবে।
দিনাজপুরে জামাতের জন্য প্রস্তুত এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান
গোর-এ শহীদ ময়দান দিনাজপুরদিনাজপুর প্রতিনিধি:
জামাতের জন্য প্রস্তুত এশিয়ার সর্ববৃহৎ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দান। বৃহৎ এই জামাত অনুষ্ঠানে ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে সবরকম প্রস্তুতি। দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই জামাত। এতে ঈমামতি করবেন মাওলানা সামশুল আল কাসেমী।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, এবার এই ৫ লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ১ মাস ধরে জেলার ১৩টি উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে সভা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইমাম, খতিব, আলেম, মাশায়েখদের নিয়ে একাধিকবার ঈদের জামাতের প্রস্তুতির ব্যাপারে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম জানান, বৃহত্তম এই ঈদের জামাতে নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন করবে র্যা ব, পুলিশ, আনসার এবং সাদা পোশাকের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে ঈদগাহের ভুমি সমতলসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাইক, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশনের যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।
দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে দেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম।
দেশের মধ্যে আয়তনে বড় ২২ একর বিশাল এই মাঠে একসঙ্গে যেন ৫ লক্ষাধিক মানুষের নামাজ আদায় করতে পারে তারই প্রস্তুতি হিসেবে এই সহযোগিতা কামনা করেন হুইপ ইকবালুর রহিম। তিনি জানান, ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
হুইপ ইকবালুর রহিম জানান, ঈদগাহ মাঠটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও মনোরম প্রকৃতির সৌন্দর্য ও নান্দনিক হিসেবে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাব (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) তার উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ।
তিনি জানান, এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ঈদগাহ মিনারে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ। প্রধান গম্বুজের সামনে রয়েছে মেহেরাব।
ঈদগাহ মাঠের দুধারে করা হয়েছে ওজুর ব্যবস্থা। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। রাত হলে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে উঠে।
সোমবার বিকালে বৃহত্তম ঈদগাহর উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনাকারী জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে মুসল্লিরা যেন বৃহত্তম জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও গড়ে উঠবে বিভিন্ন নতুন নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। দূর-দুরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের থাকার জন্য নির্মাণ করা হবে উন্নত মানের আবাসিক হোটেল। বাণিজ্যের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েক হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।
রংপুরে কারমাইকেল কলেজছাত্রের আত্মহত্যা
আত্মহত্যা রংপুরস্টাফ রিপোর্টার: রংপুরে পরিবারের সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আরাফাত হোসেন (২৫) নামে এক কলেজছাত্র আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার (৩ জুন) রাত সোয়া ১১টার দিকে নগরীর কলেজ পাড়ার আকবারিয়া মসজিদ সংলগ্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আরাফাত হোসেন ভূমি কর্মকর্তা মরহুম ওয়াদুদ আলীর বড় ছেলে। তিনি কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সম্মান (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
পারিবারের সাথে অভিমান করে আরাফাত জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ ধারনা করলেও নিহতের পরিবার আরাফাতকে অসুস্থ বলে দাবি করছেন।
তাজহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আরাফাত হোসেন এরআগেও দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। আমরা তার পরিবারের সাথে কথা বলে আত্নহত্যার কারণ জানার চেষ্টা করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গাইবান্ধায় ঈদের জামাতের সূচি
ঈদের জামাত গাইবান্ধাগাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে প্রথম ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে পৌর গোরস্থান মসজিদে সকাল পৌনে ৯ টায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮ টায়।
এনএইচ মডার্ণ হাইস্কুল মাঠ, পুলিশ লাইন ময়দান, পুলবন্দি ঈদগা মাঠ, রেল ষ্টেশন জামে মসজিদ, গাওছুল আযম জামে মসজিদ, ডেভিডকোম্পানীপাড়া জামে মসজিদ, ফকিরপাড়া জামে মসজিদ, খানকা শরীফ মাদ্রাসা মসজিদ, গোবিন্দপুর জামে মসজিদ, ভিএইড রোড জামে মসজিদ, সুখ নগর জামে মসজিদ, ব্রীজ রোড আহলে হাদীস জামে মসজিদ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ জামে মসজিদসহ পৌরসভার বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগা মাঠে ঈদের জামাত সকাল ৯ টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জেলা ইমাম সমিতি সুত্রে জানা গেছে।
ঈদযাত্রার শেষদিনে পথে পথে দুর্ভোগ উত্তরের মানুষদের
ঈদযাত্রা ঈদুল ফিতর জাতীয় হাইলাইটপরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি বগুড়াতে ঈদ করতে যাচ্ছেন রহমত উল্লাহ। সড়কে যাতে যানজটে পড়তে না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে ভাড়া করা মাইক্রোতে করে গুলশান থেকে মঙ্গলবার সকাল সকাল রওনা হন বাড়ির উদ্দেশে। সাতটার মধ্যে টাঙ্গাইল পৌঁছার পর তাদের গাড়ি আটকে যায় যানজটে।
যানজটের ভয়াবহতা এতটা ভয়াবহ যে দুপুর একটা নাগাদ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে তাদের গাড়ি। সামনের সড়কের পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ যে কখন নাগাদ গন্তব্য পৌঁছতে পারবেন তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। পরিবার নিয়ে আনন্দের ঈদযাত্রা সীমাহীন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে এই পরিবারটির জন্য।
শুধু রহমত উল্লাহই নয়, ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের দিকে যাওয়া সবাইকে যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে। জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ অংশে যানজটের কারণে সেতুতে টোল আদায় সকাল থেকে বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। সেতুর পশ্চিমপাড় স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় টোল আদায় শুরু হবে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতুপুর্ব থেকে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্লা পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এছাড়া সড়কে বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, রাবনা বাইপাস, বাঐখোলা, করটিয়া হাটবাইপাস, নাটিয়াপাড়া ও পাকুল্লায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
হানিফ পরিবহনের চালক নাজমুল মিয়া জানান, মহাসড়কে গাড়ির প্রচুর চাপ। ফলে সকাল থেকে মির্জাপুরের পাকুল্লা থেকে টাঙ্গাইলের বাঐখোলা আসতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। যা অন্য সময় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগতো।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, গাড়ির অতিরিক্ত চাপ থাকায় থেমে থেমে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পার থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সিরাজগঞ্জ থেকে গাড়ি টানতে না পাড়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সোলায়মান নামের একজন যাত্রী রাস্তায় যানজটের কথা তুলে ধরে বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবো তাই সোমবার বিকাল পাঁচটায় রওনা দিয়ে রাত ২টায় টাঙ্গাইলে আসলাম।
যদিও গত কয়েকদিনে সড়কে যাত্রী চাপ থাকলেও এতটা দুর্ভোগে পড়তে হয়নি। রাস্তা অনেকটা ফাঁকাই ছিল। তবে গার্মেন্টস ছুটি হওয়ায় এই এলাকায় সড়কে যাত্রী চাপ বেড়েছে বহুগুণ। এছাড়া বৃষ্টির কারণেও গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। এর মধ্যে ভোরে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চারজন নিহত হলে যানজট আরও তীব্র হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ২৭১টি গাড়ি পার হয়েছে। এতে সেতুর টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৪৪ হাজার ৯৬০ টাকা।
উত্তরের পথে তীব্র যানজট থাকলেও ভিন্নচিত্র আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেকটা স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার যাত্রীরা। যদিও মঙ্গলবার কুমিল্লা এলাকায় হালকা যানজটের খবর পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইল যেতেই ১২ ঘণ্টা, রংপুর যেতে কত?
ঈদুল ফিতর জাতীয় যানজট হাইলাইটঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষজন। কিন্তু তাদের এ যাত্রা এখন মোটেও সুখকর হচ্ছে না। কারণ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গগামী গাড়ির যাত্রীরা দীর্ঘ যানজটে আটকা রয়েছেন।
সোমবার (০৩ জুন) দিনগত রাত নয়টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস মঙ্গলবার (৪ জুন) সকাল ৮টায়ও বঙ্গবন্ধু সেতুতে উঠতে পারেনি। দীর্ঘ যানজটে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনগুলো দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া এবং অনেক স্থানে বিকল হয়ে পড়ার কারণে যান চলাচল থেমে গেছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কন্ট্রোল রুম জানাচ্ছে, টাঙ্গাইলের পর ফোর লেন টু লেন হওয়া, বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে চাপ বৃদ্ধি এবং সিরাজগঞ্জে একটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়াসহ গাড়ির চাপের কারণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।দীর্ঘ যানজট।
কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, কিছুক্ষণ আগে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের (এসপি)সঙ্গে কথা হয়েছে সড়কের অবস্থা নিয়ে, তারপরও আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দেখছি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের মধ্যে সন্তান প্রসব
জাতীয় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যানজট সন্তান প্রসব হাইলাইটঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের মধ্যে সন্তান প্রসব করেছেন এক মা। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর এলাকায় ওই নারীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে সড়কের ওপরই সন্তান প্রসব করেন তিনি।
নবজাতকের পিতার নাম হাবিব হোসন। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩নং ভোগদাঙ্গা ইউনিয়নের পোরার ভিটা গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। হাবিব মহাসড়কে জন্ম নেয়া তার মেয়ের নাম রেখেছেন স্মরণী।
হাবিব হোসেন তার সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর থেকে লোকাল একটি পরিবহনে রওনা দেন কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে। বর্তমানে মা ও মেয়ে দুইজনই সুস্থ রয়েছেন। পরে ভুঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই নার্স সেতু এলাকায় এসে শিশু সন্তানসহ মাকে চিকিৎসা দেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, হাবিব হোসেন তার স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুরে বসবাস করেন। তিনি গাজীপুর শহরে কখনও রিকশা, কখনও শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে স্ত্রীকে নিয়ে কুড়িগ্রামে রওনা দেন লোকাল একটি পরিবহনে। মাঝে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সেতুর গোলচত্বর এলাকায় স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয়।
হাবিব হোসেন জানান, গাড়িতে প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে ধরে সড়কের পাশে রাখা হয়। এ সময় গাড়ির একজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী আফরোজা বেগম কন্যা শিশু জন্ম দেন। এর পর ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে নার্সসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। পরে নার্সরা স্ত্রীকে চিকিৎসা সেবা দেন। বর্তমানে মা ও মেয়ে দুইজনই সুস্থ রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স সাজেদা খাতুন জানান, ঘটনাস্থলে আসার আগেই সড়কের ওপরেই ওই নারীর সন্তান প্রসব হয়েছে। এরপর মা-মেয়েকে চেকআপসহ চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মা ও শিশু সুস্থ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্বকাপে নজর কাড়ছেন এই পাকিস্তানি সুন্দরী
খেলাধুলা পাক সুন্দরী বিশ্বকাপবিশ্বকাপের যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। বেশির ভাগ দেশই তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এ বারের বিশ্বকাপে ক্রিকেটাররা ছাড়াও নজর থাকছে বেশ কয়েক জনের দিকেও। এরকমই একজন ধারাভাষ্যকারের সঙ্গে পরিচয় করা যাক। ডাকসাইটে সুন্দরী এই ধারাভাষ্যকার পাকিস্তানের ক্রীড়া সাংবাদিক।
এই তরুণীকে নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপে সংবাদমাধ্যমের নজর থাকবে এই তরুণীর দিকে। ছোট থেকেই পরিবারের সঙ্গে ক্রিকেট দেখতে দেখতে দক্ষতা জন্মায় তাঁর। কোনওরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়ার জন্য আবেদন করেন। ক্রিকেটে দক্ষতার কারণেই মেলে সুযোগ।
জয়নাব আব্বাস নামে এই তরুণীর মা পাকিস্তানে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পাকিস্তানি সুপার লিগের কারণে জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময় পাকিস্তানের ‘ন্যাশনাল লাকি চার্ম’ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই সঞ্চালিকা অফার পেয়েছেন নায়িকা হওয়ারও।
মডেলিংও করেছেন কিছু বিজ্ঞাপনী ছবিতে। মণীশ মলহোত্রর ফ্যাশন শো’য়ে র্যাম্পে হেঁটেছেন তিনি। নিজেও মেক ওভার আর্টিস্ট হিসাবে কাজ করেন তিনি। বিরাট কোহালি ও এবি ডেভিলিয়ার্সের সঙ্গে ছবি তোলার কারণে ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। আইপিএলের একটি ম্যাচে আরসিবিকে সমর্থনের জন্যেও পাকিস্তানে ট্রোলিংয়ের শিকার হন তিনি।

জয়নাব পড়াশোনা করেছেন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১২ জনের পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, তাই আদরেই মানুষ। সে কারণেই কাজে কখনও বাধা আসেনি পরিবারের তরফে, জানান জয়নাব।
তবে শুধুমাত্র মহিলা হওয়ার কারণে পাকিস্তানের এক বিখ্যাত ক্রিকেটার তাঁকে সাক্ষাৎকার দিতে চাননি, এমনটাও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। ক্রিকেটারের নাম অবশ্য গোপনই রেখেছিলেন জয়নাব।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়নাব জানিয়েছেন, তিনি বেশ ভুলো মনের। এর ফলে নাকি একবার বিমানও মিস করেছিলেন এক বার। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা, বলিউড তারকা বিপাশা বসু, কিয়ারা আডবাণীর সঙ্গেও বন্ধুত্ব রয়েছে তাঁর।
টাঙ্গাইলে ডিসি-ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে আগুন-ভাঙচুর
আগুন-ভাঙচুর জাতীয় ঢাকা-টাঙ্গাইল সারাদেশঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বিক্রমহাটি এলাকায় যানজটের প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন থেকে যাত্রীরা নেমে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় ডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেট তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা ডিসির গাড়ি ভাঙচুর ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে মহাসড়কের দুইপাশে অন্তত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার বিক্রমহাটিতে এ আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
সাধারণ যাত্রীরা জানান, ঢাকাগামী যানবাহন ধীরগতিতে চললেও উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এতে করে নারী ও শিশুসহ তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের প্রায় পুরো এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রমহাটি এলাকায় সাধারণ যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করছে।
টাঙ্গাইল পুলিশ কন্ট্রোল রুমের এক কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকে সিরাজগঞ্জের যানজট থাকায় এ পাশ থেকে গাড়ি ছাড়তে না পারায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পারে টোল আদায় বন্ধ থাকে। সে কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওই এলাকায় টায়ারে আগুন দেয়। এসময় নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট রোকনুজ্জামানের গাড়িতে আগুন ধড়িয়ে দেয়। এ অবস্থা দেখে জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উত্তেজিত যাত্রীরা তার গাড়িটিও ভাঙচুর করে।
বঙ্গবন্ধু সেতুতে ক্রিকেট খেলছে ঘরমুখো মানুষ
জাতীয়অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর পশ্চিম প্রান্তে যানবাহনের ধীরগতির জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ।
এর মধ্যে দেখা গেল যানজটে আটকে পড়া একদল যাত্রী রাস্তার অপরপাশে ক্রিকেট খেলে সময় কাটাচ্ছেন।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আজ সকালে বাস থেকে নেমে বিক্ষোভ করে। তবে বেলা একটার দিকে যানবাহন ধীরগতিতে হলেও চলতে শুরু করেছে।

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার গাড়িগুলো টাঙ্গাইল অংশে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত আটকে রয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে তথা সিরাজগঞ্জ প্রান্তে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজট রয়েছে।
এতে হাজার হাজার নারী-শিশুসহ ঘরমুখো এই যানজটে মানুষ চরম দুভোর্গ পোহাচ্ছেন।
গত রাত থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে রাত থেকেই মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় যানজট হচ্ছিলো। গাজীপুর জেলার চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছিলো।
ঈদের দিন বৃষ্টির আশঙ্কা
ঈদুল ফিতর জাতীয় বৃষ্টি হাইলাইটনিউজ ডেস্ক:
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কাল বুধ বা বৃহস্পতিবার হতে পারে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদে ঘরে ফেরার সময় ঘরমুখো মানুষের সঙ্গী হয়েছে বৃষ্টি।
গত শুক্রবার থেকে কখনো হালকা, কখনোবা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বৃষ্টির রেশ গতকাল সোমবারও ছিল। আজ মঙ্গলবারও বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এই ধারা কমছে না; বরং কোথাও কোথাও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
আজ মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
ঈদের দিনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব না পড়লেও দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান।
তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে টেকনাফ পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু চলে এলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়বে না। তবে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের মধ্য, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে। খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এসব অঞ্চলের চেয়ে বৃষ্টি কম হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের সময় বৃষ্টি হতে পারে।
আড়ংকে জরিমানা করা সেই কর্মকর্তার বদলি স্থগিত
আড়ং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরনিউজ ডেস্ক:
আড়ংকে জরিমানা করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বদলির আদেশ বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাকে স্বপদে বহাল রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন দোদুল এ নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে সোমবার দুপুরে আড়ংয়ের উত্তরা শাখায় অভিযান চালিয়ে ছয় দিনের ব্যবধানে একই পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ রাখায় সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন মঞ্জুর শাহরিয়ার। মূলত ৭০০ টাকার পাঞ্জাবি ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করায় এ জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে আড়ংয়ের শাখাটিকে ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেন তিনি। তবে জরিমানা পরিশোধ এবং মুচলেকা দেয়ার শর্তে আট ঘণ্টা পর খুলে দেয়া হয়েছে আড়ংয়ের উত্তরা আউটলেট।
অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল। অভিযান পরিচালনার পরপর সোমবারই তাকে খুলনা জোনে বদলীর প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
পরে ভোক্তা অধিদপ্তর সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক পদ থেকে বদলি করে তাকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, খুলনা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ও ক্ষোভ জানান অনেকে। পরে আজ দুপুরে তার বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
জাতীয় ঢাকা-টাঙ্গাইল হাইলাইটআজ (৪ জুন) ভোর সাড়ে ছয়টায় সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট তৈরি হওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ টোল প্লাজা বন্ধ করে দেয়। কেননা, সেতুর ওপর যানজট তৈরি হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু, টোল প্লাজা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সেতুর পূর্ব পাশে তথা টাঙ্গাইল অংশে মির্জাপুরের মহেরা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার জটের সৃষ্টি হয়।
সকাল সোয়া নয়টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে যানজট কিছুটা কাটানোর পর টোল প্লাজা আবার চালু করা হয়। এরপর আস্তে আস্তে গাড়ি পশ্চিম প্রান্তে পাঠানো হয়। তবে এখনো সেতুর পূর্ব প্রান্তে তথা টাঙ্গাইল অংশে ৪০ কিলোমিটার গাড়ির জট রয়েছে।
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার গাড়িগুলো টাঙ্গাইল অংশে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত আটকে রয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে তথা সিরাজগঞ্জ প্রান্তে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজট রয়েছে।
এতে হাজার হাজার নারী-শিশুসহ ঘরমুখো এই যানজটে মানুষ চরম দুভোর্গ পোহাচ্ছেন।
গত রাত থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে রাত থেকেই মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় যানজট হচ্ছিলো। গাজীপুর জেলার চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছিলো।
আগামীকাল দুরন্ত টাইগারদের সামনে কিউই বাহিনী
2019 Cricket World Cup ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ bangladesh Cricket World Cup ICC Cricket World Cup অস্ট্রেলিয়া আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ কিউই বাহিনী খেলাধুলা দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ ক্রিকেটরংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে লড়াইটা একেবারে সহজ ছিল না। কেননা বরাবরের মতোই শক্তিশালী দল নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শক্তিসামর্থ্যে পিছিয়ে ছিল না মাশরাফির দলও। মাঠের খেলায় নিজেদের সেরাটা উপহার দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে টাইগাররা। প্রোটিয়াদের হারিয়ে পেয়েছে শুভসূচনাও। এখন প্রথম ম্যাচে পাওয়া এ মোমেন্টাম ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা।
এবার ২য় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছে কিউইরা। সে ম্যাচে লংকানদের মাত্র ১৩৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল কিউই পেসাররা। ব্যাটে-বলে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশনে এসেছে নিউজিল্যান্ড। উড়ন্ত সূচনা পেয়ে আত্মবিশ্বাসও এখন তুঙ্গে। তাই এমন দলের বিপক্ষে আগামীকাল নিজেদের সেরাটা দেয়ার কোনো বিকল্প নেই টাইগারদের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অনুপ্রেরণা নেয়ার মতো অনেক কিছুই আছে বাংলাদেশ শিবিরে। এ নিউজিল্যান্ডকেই ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হারিয়ে সেমিফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত জোড়া শতকে বিপর্যয়ের মুখ থেকে ম্যাচ বের করে আনে টাইগাররা। এখন সেই ইংল্যান্ডেই আবারো কিউইদের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটিও এখন বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে টাইগারদের।
[bs-quote quote="‘‘আত্মবিশ্বাসী হলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না মাশরাফি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে তাই বাড়তি সতর্কও আছেন তিনি। একইভাবে ম্যাচসেরা সাকিবও বলেছেন, এটা মাত্র শুরু।’’" style="default" align="left" author_name="Sakib-Mashrafi" author_job="Crickter" author_avatar="http://rangpurexpress24.com/wp-content/uploads/2019/06/sakib-mashrafi.png"][/bs-quote]
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। ওপেনিংয়ে চোট কাটিয়ে ফেরা তামিম ইকবাল বেশিক্ষণ টিকতে না পারলেও সৌম্য শুরু করেছেন ঝড় তুলে। তার ৩০ বলে ৪২ রানের ক্যামিও ইনিংসটিই পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য পথটা তৈরি করে দেয়। এরপর সাকিব ও মুশফিকের রেকর্ড গড়া জুটির ওপর ভর দিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। আর শেষ দিকে এসে ইনিংসকে পরিণতি দেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক, যা বাংলাদেশকে এনে দেয় নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
৩৩০ ডিফেন্ড করতে নেমে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। শুরুতে উইকেট নিতে না পারলেও রান রেট আটকে চাপে রাখে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের। এরপর যখনই দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার অপেক্ষায় তখনই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ। ভালো জায়গায় বল করে সবসময় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছেন মুস্তাফিজ-সাকিব-মিরাজরা। পেয়েছেন নিয়মিত ব্রেক থ্রু। প্রায় প্রত্যেক বোলারই এ ম্যাচে অবদান রেখেছেন। সেই সঙ্গে ছিল মাশরাফির বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্ব। ফিল্ডিং ও বোলিং পরিবর্তনে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ফলে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এ ম্যাচে বাংলাদেশের ভাবনার বিষয় হতে পারে ফিল্ডিং। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ পড়েছে একাধিক, যা দিন শেষে হতাশার কারণ হলেও হতে পারত।
এছাড়া মিস ফিল্ডিংও হয়েছে বেশকিছু। পরের ম্যাচগুলোয় ফিল্ডিং নিয়ে তাই বাড়তি কাজ করার সুযোগ আছে। এদিকে ম্যাচ জয়ের পর এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকি আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের শান্ত থাকা জরুরি। আমরা কেবল একটি ম্যাচ জিতেছি, এখনো আটটি ম্যাচ বাকি। এখন এ জয় আমাদের টুর্নামেন্টে কোথাও নিয়ে যাবে না। তাই আমি মনে করি না, আমাদের এ মুহূর্তে রোমাঞ্চিত হওয়ার কিছু আছে। এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকি আছে।’
এ সময় নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ আসছে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমাদের নিউজিল্যান্ড ম্যাচের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে এবং সেসব পরিকল্পনার বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। আমি মনে করি, আরো অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। সম্ভবত ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে অপেক্ষা করছে।’
পাশাপাশি কোনো দলকেই হালকাভাবে দেখতে রাজি নন বলে মন্তব্য করে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দলকেই বড় দল হিসেবে দেখছি এবং আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে সব খেলোয়াড় যেন ফিট থাকে। যদি সবাই ফিট থাকে, সেটা আমাদের জন্য খুব ভালো। প্রতি ম্যাচেই হয়তো এমন পারফরম্যান্স দেখা যাবে না। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তবে ভালো কিছু করা সম্ভব।’
সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না মাশরাফি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে তাই বাড়তি সতর্কও আছেন তিনি। একইভাবে ম্যাচসেরা সাকিবও বলেছেন, এটা মাত্র শুরু। এখন এ জয়ের প্রেরণা নিয়ে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
