থানায় ডেকে ব্যবসায়ীকে নির্মম নির্যাতন

থানায় ডেকে ব্যবসায়ীকে নির্মম নির্যাতন

admin June 16, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বগুড়া সদর থানা হেফাজতে এক ব্যবসায়ীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের নির্যাতনের শিকার সোহান বাবু আদর (৩২) বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তিনি শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার সাইদুর রহমানের ছেলে।


এদিকে এ ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে চারজনের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন- বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জব্বার, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ আলী ও নিয়ামত উল্লাহ এবং কনস্টেবল এনামুল হক।


সোহান বাবু বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত কনস্টেবল এনামুল, এস আই জব্বারসহ কয়েকজন তাকে কখনো ঝুলিয়ে আবার কখনো হ্যান্ডকাফ দিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শুক্রবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে থানা থেকেই তার বাবা ও বোনকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষরর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।


জানা যায়, সোহান আগে ইলেকট্রিক সামগ্রীর ব্যবসা করলেও সম্প্রতি একই এলাকায় আল-ফালাহ্ বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি ঋণদান সমিতির কার্যক্রম চালাতেন। ওই সমিতিতে একই এলাকার সাথী বেগম নামে এক নারীর ৩০ শতাংশ এবং বাপ্পী নামে আদরের এক বন্ধুর ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে।


নির্যাতনের শিকার আদর ও তার বড় বোন সম্পা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে থানার মুন্সি (কনস্টেবল) এনামুল হক মোবাইল ফোনে আদরকে থানায় ডাকেন। ওই ফোন পেয়ে তিনি থানায় যাওয়ার পরপরই তাকে হাজতে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে তার বোন সম্পা রাতেই থানায় গেলে জানানো হয়, একই এলাকার সাথী বেগম তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) ও পাওনা টাকা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।


সোহান বাবু আদর বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত ১১ টা পর্যন্ত কনস্টেবল এনামুল, এস আই জব্বারসহ কয়েকজন তাকে কখনো ঝুলিয়ে আবার কখনো হ্যান্ডকাফ দিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শুক্রবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে থানা থেকেই তার বাবা ও বোনকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষরর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।


আহত আদরের স্ত্রী পাপিয়া বেগম জানান, থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শুক্রবার রাতেই সোহান বাবু আদরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে গেলে এসআই জব্বার ও কনস্টেবল এনামুল ভয়ভীতি দেখায়। এ কারণে তারা রাতে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি।


বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আদরের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই চারজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।


বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সনাতন চক্রবর্তী জানান, পুলিশ সুপার জেলার বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। তবে তার নির্দেশে অভিযুক্ত ওই চার পুলিশ সদস্যকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে।

কাউনিয়ায় গাছ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

কাউনিয়ায় গাছ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

admin June 16, 2019

কাউনিয়া প্রতিনিধি, রংপুর:
রংপুরের কাউনিয়ায় জাম গাছে জাম পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।


জানা যায়, শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে উপজেলার ৩ নং কুর্শা ইউনিয়নের কুর্শা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে কুর্শা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন (৯) স্কুল মাঠে জাম গাছে উঠে জাম পাড়ার সময় হাত ফঁসকে মাটিতে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক বিরাজ করছে।

রংপুরে ২১ জুন আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস উপলক্ষে ইয়োগা ওরিয়েন্টেশন

রংপুরে ২১ জুন আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস উপলক্ষে ইয়োগা ওরিয়েন্টেশন

admin June 16, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
ভারতীয় হাই কমিশন আয়োজিত ইয়োগা জোন ও রংপুর চেম্বার অব কমার্সের সহযোগিতায় এক ইয়োগা অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টায় আরসিসিআই হলরুমে এ অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।


ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী সঞ্জীব কুমার ভাটী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।


বিশেষ অতিথি রংপুর রেঞ্চের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু ও ইয়োগা জোনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক এবি বাবেল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, ডাক্তার পেশাজীবিসহ আড়াই শতাধিক সূধিজনের উপস্থিতি ছিলেন।


অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ ইয়োগার গুরুত্ব, উপকারিতা, প্রয়োজনীয়তা, সমাজের নেতিবাচক দিক থেকে যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষদের কল্যাণ মূলক ইতিবাচক চিন্তাধারায় নিয়ে আসার জন্য ইয়োগা চর্চাই সর্বোত্তম বলে মতামত ব্যক্ত করেন।


তাঁরা আরও বলেন, দৈনন্দিন ৩০-৪০ মিনিট ইয়োগা চর্চা করে নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্যাভাস, নিয়ম, সংযম, প্রাণায়াম, আসন, মুদ্রা, শুদ্ধিক্রিয়া ইত্যাদি অনুশীলন করলে সাধারণ অনেক রোগ যেমন প্রেসার, ডায়াবেটিক, মানসিক চাপ, মাইগ্রেন, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, আর্থারাইটিস, ব্যথা, পেঠের সমস্যা, হৃদরোগ, লিভার সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা, ফুসফুস জনিত সমস্যা, কিডনি রোগ, পাইলস রোগ ইত্যাদি নানাবিধ রোগ খুব সহজেই প্রাকৃতিক ভাবেই নিরাময় করা সম্ভব হয়। এই অঞ্চলে ইয়োগার অনুশীলন দিনে দিনে বৃদ্ধি পাবে এবং ইয়োগা জোন মানুষকে ইয়োগা অনুশীলনে আরো উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


পরিশেষে উপস্থিত সকলের জন্য ইয়োগার আসন, প্রাণায়াম, ধ্যান, মূদ্রা ইত্যাদি অনুশীলন করানো হয়। ইয়োগা অনুশীলন পরিচালনা করেন ইয়োগা জোনের প্রতিষ্ঠতা নির্বাহী পরিচালক এবি বাবেল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে উপস্থিত সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেন। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ফটোসেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

রাজারহাটে র‌্যাবের উপর হামলা: মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা

রাজারহাটে র‌্যাবের উপর হামলা: মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা

admin June 16, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে র‌্যাব সদস্যদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের পোষ্য বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় র‌্যাব তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


এ ঘটনায় শনিবার রাজারহাট থানায় র‌্যাবের উপর হামলা ও মাদক ব্যবসার অপরাধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে।


পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমোর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ছোয়া ধরা মকবুল (৫০) এর বাড়িতে গাঁজা থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব ১৩ সদস্যরা সাদা পোষাকে অভিযান চালায়।


এসময় ৯ কেজি ৬শ গ্রাম গাঁজা সহ র‌্যাব সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ী মকবুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় মকবুলের পোষ্য বাহিনী তারা র‌্যাব নয় বলে উসকানী দিয়ে গ্রামবাসীকে ক্ষিপ্ত করে। পরে মকবুলের পোষ্যবাহিনী ও এলাকাবাসী র‌্যাব সদস্যদের পরিচয় নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং মকবুলকে গ্রেফতারে বাঁধা প্রদান করে।


র‌্যাব সদস্যরা তাদের পরিচিতি পত্র ও অস্ত্র দেখানোর পরও তারা মকবুলকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শনিবার র‌্যাব-১৩ এর ইন্সপেক্টর আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদক ব্যবসার অপরাধে মকবুল ও সাহেদুল (৩৫) নামের ২ জনের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১ টি এবং র‌্যাব সদস্যদের উপর আক্রমণের অপরাধে মকবুল ও সাহেদুল সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ পূর্বক ৩০/৪০ জন অজ্ঞাত নামা গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেন।


এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকে জনমানব শুন্য হয়ে পরেছে জয়কুমোর গ্রাম। রাজারহাট থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনা ও মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কুড়িগ্রামে খাদ্যগুদামকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে কৃষকের তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ

কুড়িগ্রামে খাদ্যগুদামকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে কৃষকের তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ

admin June 16, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
অবশেষ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার খাদ্য গুদামকে সিন্ডিকেট মুক্ত করাসহ সরকারীভাবে ধান সংগ্রহ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে উলিপুর উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সর্বশেষ সভায় পূর্বের কৃষকের তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণের সহায়তায় স্থানীয় কৃষিবিভাগ তালিকা সংশোধনের কাজ চুড়ান্ত করবে মর্মে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।


সূত্র জানায়, উলিপুর উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এলাকার প্রকৃত কৃষকরা তার সুফল পাবে।


সুত্র আরো জানায়, খাদ্য দস্যু রাজা মিয়ার নেতৃত্বধীন চিহ্নিত সিন্ডিকেটটি দীর্ঘ এক যুগ ধরে সরকারী খাদ্য গুদামকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে কৃষকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে আসছিল। কাগজ-কলমে কৃষকের নাম থাকলেও প্রকৃত পক্ষে কৃষকরা গুদামে ধান বিক্রি করতে পারতো না। কৃষকের স্বাক্ষর জাল করে ফায়দা লুটতো ওই চিহ্নিত সিন্ডিকেটটি। এই সিন্ডিকেটকে ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে কৃষকের তালিকা তৈরির জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু জোর দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে তার কৃষক বান্ধব দাবিটি উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভায় পূর্ণতা পায়।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, উলিপুর উপজেলায় মোট কৃষকের সংখ্যা ১লাখ। তার মধ্যে কৃষি ভ‚র্তকীর কার্ড প্রাপ্ত কৃষকের সংখ্যা ৭৪ হাজারের অধিক। এদের মধ্য থেকে ধান সংগ্রহের জন্য ১৮ হাজার ৮শ ৯৫ জন কৃষককে তালিকাভুক্ত করা হয়। এই তালিকা নিয়ে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সহায়তায় তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়।


উলিপুর উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো ধান কেনার লক্ষ্য মাত্র ধরা হয়েছে- ৬শ’ ৩৭ মেঃটন। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ৩শ’ ১৮ মেঃ টন ধান কেনার জন্য লটারীর মাধ্যমে ৬শ’ ৬২ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তালিকা সংশোধনের পর দ্বিতীয় কিস্তির ৩শ’ ১৯ মেঃটন ধান কেনার জন্য লটারীর মাধ্যমে কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।


উলিপুর উপজেলার খাদ্য দস্যু খ্যাত সিন্ডিকেটের হোতা রাজা মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি একজন মিল মালিক। এইটুকুই আমার পরিচয়।


এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।


উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, খাদ্য সংগ্রহ কমিটির নির্দেশনা অনুসরণ করে কৃষকের তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করেছি।


উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের জানান, খাদ্য সংগ্রহকে ত্রুটি মুক্ত করার জন্য আমরা কৃষকের তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি এই উদ্যোগের সুফল সাধারণ কৃষকরা পাবেন।


উলিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, চিহ্নিত সিন্ডিকেটটি অসৎ কৃষি অফিসারদের সহায়তায় তাদের মনগড়া তালিকা প্রণয়ন করার বিষয়টি অবগত হবার পর থেকে আমি কৃষকের তালিকা সংশোধনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলাম।


তিনি বলেন, ‘অবশেষে উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটি সেই দাবির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমি সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। তবে লটারীতে নাম উঠার পরে যাতে ভাগ্যবান কৃষকরা সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান জমা দিয়ে সরকার প্রদত্ত্ব আর্থ হাতে গুণে নিতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মফিজ বলে গালি দেওয়া নিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরে কর্তৃপক্ষ-শ্রমিক উত্তেজনা

মফিজ বলে গালি দেওয়া নিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরে কর্তৃপক্ষ-শ্রমিক উত্তেজনা

admin June 16, 2019

পাটগ্রাম প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থল বন্দরে তুচ্ছ ঘটনায় বন্দরকর্তৃপক্ষ-শ্রমিক উত্তেজনা চলছে।


বুড়িমারী স্থলবন্দরের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মনিরুল ইসলাম দালাল মুক্ত স্থলবন্দর করার পদক্ষেপ নেয়। অপরদিকে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ ও স্থানীয় লোকজনকে মফিজ বলে গালি দেয়ায় স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন ওই মনিরুলের বদলির দাবি করে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেন। বিষয়টি নিয়ে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।


বুড়িমারী স্থলবন্দর বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৯৮৮ সালে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে দূরবর্তী যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করনে স্থানীয় গরীব শ্রেণির এক প্রকার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন। তারা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীদের ব্যাংক ও পাসপোর্টের যাবতীয় কাজের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসছে। ওই সময় দূরবর্তী যাত্রীরা খাওয়া, গোসল, বিশ্রাম সেরে ভারতের গমনের প্রস্তুতি নেয়। এসব সেবার জন্য যাত্রীরা তাদেরকে উপঢৌকন ও দিয়ে থাকেন।


“অপরদিকে বন্দর কতৃপক্ষ যাত্রীদের পাসপোর্ট চার্জ ৪১.৭৫ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা নেয়া শুরু করে। এর প্রতিবাদ করে স্থানীয় শ্রমিকরা। এ নিয়ে গন্ডগোল শুরু হলে স্থানীয় শ্রমিকদের “মফিজ” বলে গালি দেয়। এবং লাথি মেরে শ্রমিকদের বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকা থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। এ কারনে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়।”


ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক ইসলাম আজম বলেন, আমাদের স্থানীয় শ্রমিকদের “মফিজ” বলে গালি দিয়ে লাথি মেরে বন্দর এলাকা থেকে শ্রমিকদের বের করে দেয়ার ঘোষণা দেয় বুড়িমারী স্থলবন্দরের উপ পরিচালক মনিরুল ইসলাম। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। তাই ওই মনিরুল ইসলামকে ৭ দিনের মধ্যে বদলির আদেশ কার্যকর করতে হবে। তা ন হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে বিতাড়িত করা হবে।


সিএন্ডএফ কর্মচারী এসোসিয়েশনের যুগ্ন সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, ‘অনতিবিলম্বে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে মনিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করতে হবে।’


বুড়িমারী স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ স্থলবন্দর কতৃপক্ষ যাত্রী অপেক্ষা ঘরে সরাসরি যাত্রীগণের কাছ থেকে বন্দরের “প্যাসেঞ্জার ফ্যামিলি চার্জ” আদায়ের পক্ষ্যে রয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কোন অনুমোদিত লোক অথবা ব্যক্তি ওই ঘরে প্রবেশ বন্ধের পক্ষে কর্তৃপক্ষ। আর এ বন্ধ করণের নিমিত্তে আইন শূংখলা বাহিনীর যথাযথ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ যতবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ততবারই অবৈধ সুবিধাকারীরা এ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছেন।’


এ শুভ উদ্যোগের কারণে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে লক্ষ্যে অবৈধ সুবিধাভোগীরা উদ্যোক্তাকে দায়ী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।


লালমনিরহাট সহকারি পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) তাপস সরকার বলেন, যে কোন ধননের অপ্রীতিকর অবস্থা মোকাবেলায় পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

কাউনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাইশা মনি মারা গেছে

কাউনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাইশা মনি মারা গেছে

admin June 16, 2019

কাউনিয়া প্রতিনিধি, রংপুর:
রংপুরের কাউনিয়ায় কাউনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাইশা মনি মারা গেছে। শুক্রবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


এরআগে শুক্রবার বিকেলের দিকে মীরবাগ ডিগ্রী কলেজের কাছে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয় স্কুল ছাত্রী রাইশা মনি। রাইশা মনি কুড়িগ্রাম জেলা সদরের দাদা মোড় এলাকার রয়েল আহম্মেদ ও নিশা বেগম দম্পতির কন্যা।


এদিকে ওই দূর্ঘটনাতে আহত রয়েল আহম্মেদ (৪০) ও নিশা বেগম (৩৫) এর অবস্থাও গুরুতর। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম থেকে রংপুর গামী ঢাকা মেট্রো চ-১৩-৮৩৩৪ মাইক্রোবাস উপজেলার মীরবাগ ডিগ্রী কলেজের কাছে পৌছলে রংপুর থেকে কুড়িগ্রাম গামী রংপুর জ-০৫-০০৭৬ যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এনআরএস কাণ্ডে ডাক্তারদের সমর্থন শুভশ্রীর

এনআরএস কাণ্ডে ডাক্তারদের সমর্থন শুভশ্রীর

admin June 15, 2019

এনআরএস কাণ্ডের জের, সারা দেশজুড়ে প্রতিবাদে মুখর চিকিৎসকরা। রাজ্যে একের পর এক হাসপাতালে গণ ইস্তাফা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ভেঙে পড়েছে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এরাজ্যের ডাক্তারদের সমর্থনে আন্দোলনে নেমেছেন দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর সহ অন্যান্য রাজ্যের চিকিৎসকরাও। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে নিন্দার ঝড়। মুখ খুলেছেন বুদ্ধিজীবীরাও।


চিকিৎসকের উপর এই হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন টলিপাড়ার তারকারাও। চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের উপর এধরনের আক্রমণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, রাজ চক্রবর্তী, অভিনেতা কৌশিক সেন, সাংসদ অভিনেতা দেব, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন সহ অনেকেই। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে এবার সরব হলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ও।


নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে একদিন আক্রান্ত চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়, অন্যদিকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত শিশুকে কোলে নিয়ে বাবার আর্তনাদের ছবি শেয়ার করে শুভশ্রী লিখেছেন, ডাক্তারদের আমি মন থেকে পূর্ণ সমর্থন করছি। আবার এই পাশের ছবিটা দেখে মনটা হুহু করে উটছে। কোথা থেকে আসছে এত হিংসা , এত রাগ? যার জন্য কিছু নির্দোষেরা শাস্তি পাচ্ছে ।। মানুষ জাত কে উচ্চতর ভাবা হয়, সত্যি কি আমরা তাই?


ডাক্তারদের আমি মন থেকে পূর্ণ সমর্থন করছি। আবার এই পাশের ছবিটা দেখে মনটা হুহু করে উটছে। কোথা থেকে আসছে এত হিংসা , এত রাগ? যার জন্য কিছু নির্দোষেরা শাস্তি পাচ্ছে। মানুষ জাত কে উচ্চতর ভাবা হয়, সত্যি কি আমরা তাই?


এদিকে শুক্রবারই চিকিৎসকদের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুলেছেন শুভশ্রীর স্বামী তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। চিকিৎসকদের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অভিনেতা সাংসদ দেব।

তনুশ্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত

তনুশ্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত

admin June 15, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বলিউডে তনুশ্রীর মাধ্যমে #মিটু ঝড় শুরু হয়েছিল। এরপর বড় বড় তারকাশিল্পীদের পিছনেও অভিযোগ দায়ের হয়েছিলো যৌন হেনস্তার।


জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তর যৌন হেনস্তার অভিযোগ দিয়েই বলিউডে এই হ্যাশট্যাগ মিটু আন্দোলনের সূচনা হয়। তবে তনুশ্রীর করা সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন নানা পাটেকর। অভিযোগে তদন্তের পর মুম্বাই পুলিশ জানিয়ে দিলো, ওই ঘটনায় নানার বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।


পুলিশের এমন বলার পর তনুশ্রী দত্তের আইনজীবী নিতিন সতপুত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশ তাদের এখনও কিছু লিখিত জানায়নি। মামলা খারিজ করা হলে তারা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হবেন।


এর আগে তনুশ্রীর অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি গানের শ্যুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর তার গায়ে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি নানা পাটেকরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে অস্বীকার করেন এবং শুটিং সেট ছেড়ে বেরিয়ে যান। ঘটনার পর বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুণ্ডাদের দিয়ে তার গাড়িতে নানা পাটেকর ভাঙচুর করান।


গত ৭ মাস আগে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই নানার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা থানা। মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কাছে তনুশ্রীর দাবি ছিল, নানাকে বয়কট করা হোক।


এবার পুলিশ জানিয়ে দিলো তনুশ্রীর অভিযোগ মিথ্যে। ফলে যৌন হেনস্তা কাণ্ডে কিছুটা স্বস্তিতে অভিনেতা নানা পাটেকর।

কুড়িগ্রামে বিপ্লবী কমরেড জাহেদুল হক মিলু’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

কুড়িগ্রামে বিপ্লবী কমরেড জাহেদুল হক মিলু’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

admin June 15, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে আজীবন বিপ্লবী কমরেড জাহেদুল হক মিলু’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, শোক র‌্যালি ও স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শুক্রবার সকালে তার গ্রামের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার নিলুর খামার গ্রামে তার সমাধীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম শহরে অনুষ্ঠিত হয় শোক র‌্যালি। এরআগে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।


কুড়িগ্রাম জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন হলরুমে এ স্বরণ সভার আায়োজন করে কমরেড জাহেদুল হক মিলু স্মৃতি পাঠাগার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রিয় নেতা ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।


কমরেড জাহেদুল হক মিলু স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক এ্যডভোকেট আবুল বাশার মঞ্জুর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবিণ আইনজীবি এ্যাডভোকেট এনামুল হক চৌধুরী চাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।


কমরেড জাহেদুল হক মিলু বাসদ কেন্দ্রিয় কমিটির নেতা ও সমাজতান্ত্রীক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি এবং বাসদ কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সাবেক আহবায়ক ছিলেন। প্রয়াত জাহেদুল হক মিলুর বাড়ি কুড়িগ্রামের পুরাতন হাসপাতাল পাড়ায় ও গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নিলুর খামার গ্রামে। এক বছর পুর্বে তিনি কুড়িগ্রামের অর্জুনডারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

ফুলবাড়িতে ইয়াবা-ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ৫

ফুলবাড়িতে ইয়াবা-ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ৫

admin June 15, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কুটি চন্দ্রখানা এলাকার মাদক সম্রাট শাহানুরের বাড়ি থেকে ১ হাজার ২১০ পিস ইয়াবা, ১৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩ টি মটর সাইকেলসহ ৬ জনকে আটক করেছে ফুলবাড়ি থানা পুলিশ। এদের মধ্যে একজনকে ছেড়ে দিয়ে ৫ জনকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা না দিয়ে ১৫১ ধারায় (সন্দেহ মুলক) মামলা দেয়া হয়েছে। বিশাল একটি চালান উদ্ধার হলোও মাদকের সাথে আটকদেরকে আসামী না করায় বিক্ষুব্ধ হয়েছেন সচেতন নাগরিকরা ।


ফুলবাড়ি থানার এসআই মহুবর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম কুটিচন্দ্রখানা এলাকার মাদক সম্রাট শাহানুরের বাড়িতে আমার নেতৃত্বে এসআই আল আমিনসহ ৭/৮জন পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।


এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক সম্রাট শাহানুর পালিয়ে গেলেও তার বাড়ি থেকে ১ হাজার ২১০পিস ইয়াবা, ১৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩ টি মটর সাইকেলসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় মাদক সম্রাট শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়া হয়। শাহানুর ফুলবাড়ি উপজেলার পশ্চিম কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের মৃত: মহির উদ্দিনের পূত্র। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।


এদিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালার সময় ৬জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। গর্ভীর রাতে কুড়িগ্রামের কৃঞ্চপুর চড়ূয়া পাড়া এলাকার আশরাফ আলীর পূত্র মাসুম বিল্লাহ (২৯) ছেড়ে দিয়ে ৫ জনকে ১৫১ ধারায় (সন্দেহ মুলক) মামলা দেয়া হয়েছে ।এতে করে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন সচেতন নাগরিকসহ এলাকাবাসী ।


ফুলবাড়ি থানার ডিউটি অফিসার এএসআই এরশাদুল হক জানান, ৩টি মোটর সাইকেলসহ গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম শহরের পৌরসভার নাজিরা এলাকার আব্দুস সাত্তারের পূত্র রিপন আহমেদ (৩৪), মুন্সিপাড়া এলাকার বাবলা মিয়ার পূত্র মনু মিয়া (২৭), কলেজপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর পূত্র লানজু মিয়া (২৮), ও মোন্নাফের পূত্র রাশেদুজ্জামান রুবেল (২৯) এবং করিমের খামার এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের পূত্র ওমর ফারুক (৩০)।
এলাকাবাসী মোকছেদুল হক, মোজ্জাফর হোসেন ও জুয়েল রানা জানান শাহানুরের বাড়ি থেকে অনেক গুলো মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ।


এ ব্যাপারে ফুলবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে জানান, এ বিষয়ে বাড়ির মালিক শাহানুরের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। ৬ জনের আটকের ব্যাপারে ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে একজনকে জিম্মায় ছেড়ে দিয়ে ৫জনকে সন্দেহজনক ধারায় মামলা দেয়া হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধানের চারা রোপণ!

ঠাকুরগাঁওয়ে সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধানের চারা রোপণ!

admin June 15, 2019

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপুর রাস্তার ৩ কিলোমিটার কাঁচা থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। রাস্তায় তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। এতে ব্যাহত হয় চলাচল। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ওই এলাকার বাসিন্দারা ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপুর ব্যস্ততম রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে ওই এলাকার বাসিন্দরা। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। শুক্রবার বিকালে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানের চারা রোপন করে।


স্থানীয়রা জানায়, একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় পটুয়া-জামালপুরের এ রাস্তায়। সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্তের। এতে চলাচলের সমস্যা হয়। এ রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে কাজ না হওয়ায় শুক্রবার ওই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে সমস্যার কথা জানান সাধারণ মানুষ আর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।


ঠাকুরগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী নুরুজ্জামান সরদার বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড়ে ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

পঞ্চগড়ে ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

admin June 15, 2019

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে পাথর বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মানিক হোসেন (২৫) ও নয়ন ইসলাম (২২) নামে দুজন নিহত হয়েছে।


শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ব্যারিস্টার বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক ওই উপজেলার বাদিয়াগছ গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।


জানা যায়, পঞ্চগড় শহরে যাওয়ার সময় ব্যারিস্টার বাজারে রাস্তার মাঝে তাদের মোটরসাইকেলটি বন্ধ হয়ে যায়। এসময় তেঁতুলিয়া থেকে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির শিমুল মানিকে মৃত ঘোষণা করেন।


এদিকে নয়নের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।


পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিরঞ্জন সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

admin June 15, 2019

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মনসুর আলী নামে এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।


রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ জানায়, সকালে রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের ভণ্ডগ্রামের আলমের ছেলে বাড়ির পাশে অটোরিকশার ব্যাটারিতে বিদ্যুতের চার্জ চলাকালে সবার অলক্ষে তারে হাত দেয়। তারে ছিদ্র থাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে গুরুতর আহত হয়।


পরিবারের সদস্যরা আহত অবস্থায় রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সৈয়দপুরে সাঁতার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ২ শিশু নিহত

সৈয়দপুরে সাঁতার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ২ শিশু নিহত

admin June 15, 2019

নীলফামারী প্রতিনিধি:
সৈয়দপুরে খড়খড়িয়া নদীতে সাঁতারের প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে কুরবান আলী (১০) ও মেরাজ আলী (১২) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শহররক্ষা বাঁধ সংলগ্ন বুড়ির কুড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান পাশা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত কুরবান আলী উপজেলা শহরের কাজিপাড়া গ্রামের বাদল হোসেনের ছেলে। মেরাজ আলী একই এলাকার আবেদ আলীর ছেলে।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কুরবান ও মেরাজসহ একদল শিশু ঘটনাস্থলের কাছের একটি জাম গাছে ওঠে। এরপর তারা সাঁতরে নদী পার হয়ে ওপারের বট গাছে উঠবে, এমন প্রতিযোগিতায় করে। প্রথমে কুরবান ও মেরাজ নদীতে নামে। তারা নদীর মাঝখানে গিয়ে ডুবে যায়।


এ সময় অন্য বন্ধুরা তাদেরকে বাঁচাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তীরে উঠে চিৎকার করতে থাকে। পথচারীরা ছুটে এসে ওই দুজনকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাকিয়া সুলতানা তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুরে আম ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার এক

রংপুরে আম ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার এক

admin June 15, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরে চাইনিজ হোটেলের সামনে আম বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগে চাইনিজ হোটেল সিসিলির মালিক আলতাফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


জানা যায়, নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত সিসিলি চাইনিজ হোটেল। ৩১ মে দুপুরে হোটেলের সামনে বসে আম বিক্রি করার দায়ে হোটেল মালিক আলতাফ হোসেন আম বিক্রেতাকে বেদম মারপিট করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে মানিক মিয়াকে তার বাড়ি সদর উপজেলার পালি চড়ায় পাঠিয়ে দেয়।


পর দিন মানিক মিয়ার রক্তবমি শুরু হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুইদিন পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় সে মারা যায়।


এ ঘটনায় মানিক মিয়ার ভাই মাসুম মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ আলতাফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।ওসি আব্দুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মিডিয়া মালিকদের খেলাপি ঋণ নিয়ে অনুসন্ধান করুন: প্রধানমন্ত্রী

মিডিয়া মালিকদের খেলাপি ঋণ নিয়ে অনুসন্ধান করুন: প্রধানমন্ত্রী

admin June 15, 2019

নিউজবিডি ডেস্ক:
সংবাদমাধ্যমের মালিকদের কার কত খেলাপি ঋণ আছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তারা (মিডিয়া মালিকরা) যেন তাদের টাকাটা শোধ দিয়ে তারপরে তাদের পত্রিকায় এ ব্যাপরে (খেলাপি ঋণ নিয়ে) লেখেন, সে ব্যাপারে আমার অনুরোধ থাকবে।


‘সমৃদ্ধ আগামীর’ প্রত্যাশা সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের জন্য সোয়া পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি অসুস্থ থাকায় শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


শুরুতে এবারের বাজেটের বিভিন্ন দিক এবং সরকারের পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। পরে বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।


ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত ১০ বছরে ২৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ১০ হাজার টাকা হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেলেও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে সফল হচ্ছে না কেন।


জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ওই সাংবাদিকের কাছে জানতে চান তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।


সেই প্রতিবেদক নিজের পত্রিকার নাম বলার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এখানে পত্রিকায় চাকরি করেন, তাদের আমি একটা কথা জিজ্ঞেস করব, আপনারা কি একটা খবর নেবেন, যে আপনাদের মালিকরা কে কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ নিয়েছেন, আর ঋণগুলো শোধ দিয়েছে কি না। আপনারা দয়া করে সমস্ত ব্যাংকগুলি থেকে এ তথ্যটা আগে বের করেন, যত মিডিয়া এখানে আছেন… প্রত্যেকেই বলবেন যে আমি অনুরোধ করেছি আপনাদের, যে কোন মালিক কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ নিয়ে কত টাকা শোধ দেয়নি বা খেলাপি হয়ে সেটাকে আবার পুনরায় ই (পুনঃতফসিল) করে গেছেন। এটার একটা হিসাব বের করলে আমাকে আর প্রশ্ন করা লাগবে না


সাংবাদিকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, যার যার মালিককে বলেন, খেলাপি ঋণ শোধ দিতে, তাহলে আর খেলাপি ঋণ থাকবে না।


শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ব্যাংক খাতে সুদের হার অত্যন্ত বেশি, আর সুদ ধরা হয় চক্রবৃদ্ধি হারে। ফলে যখন হিসাব প্রকাশ করা হয় তখন চক্রবৃদ্ধি হারে খেলাপি ঋণের পরিমাণটা অনেক বড় দেখায়। প্রকৃত ঋণটা যদি ধরা হয়, তাহলে দেখা যাবে অত বড় না। এর পেছনে নিশ্চয় কোনো ইন্টারেস্ট আছে যেজন্য ওই চক্রবৃদ্ধি হারে যেটা বর্ধিত সুদ, সেটাসহ সেটাকে খেলাপি ঋণ ধরা হয়। সেটা একটা দুর্বলতা আছে আমাদের। সেটা আমরা অ্যাড্রেস করে এবং সেটা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।


যারা খেলাপি হয়েছেন, তাদের তা পরিশোধ করার জন্য ‘একটা সুযোগ’ দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সাথে সাথে সব পত্রিকাগুলোর মালিকরা কে কত ঋণ নিয়েছে, বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা অন্যান্য মিডিয়া, সেগুলোর একটা হিসাব নেওয়া হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।


মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের (রাইট অফ) স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ যোগ করলে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ১২২ কোটি টাকা।


বছরের পর বছর ধরে ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন-রাইট অফ বলে। যদিও এধরনের ঋণগ্রহীতা পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।


বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর ‘এক টাকাও বাড়বে না’।


সেজন্য ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর সে কথা ফলেনি, খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে।

কালো টাকা সাদার সুযোগ সংবিধান পরিপন্থী: টিআইবি

কালো টাকা সাদার সুযোগ সংবিধান পরিপন্থী: টিআইবি

admin June 15, 2019

নিউজবিডি ডেস্ক:
প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধানকে অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক, দুর্নীতিবান্ধব বলে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, কালো টাকা সাদা করার এই বিধান প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির পরিপন্থী। শুক্রবার সংস্থাটির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।


টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোসহ কয়েকটি উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য হলেও সামগ্রিকভাবে এই বাজেটে ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও আয়বৈষম্য নিরসনে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসবের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে সম্পদ ও আয়বৈষম্য আরও বাড়বে।’


কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগপ্রাপ্ত খাতে দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৎপথে এসব খাতে আয় ও সম্পদ আহরণের সুযোগ ধূলিসাৎ হবে। এর প্রভাবে দুর্নীতির বিস্তৃতি ও গভীরতা আরও বাড়বে। সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে কার্যকর কোনও পথনির্দেশ বা পরিকল্পনা না থাকায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।


২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থী হলেও দফায় দফায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে এসেছে একের পর এক সরকার। এটি সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন ও দুর্নীতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির পরিপন্থী। এরপরও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে এই অনিয়মকে বাদ না দিয়ে বরং এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার জমি কেনার বিষয়টিও যোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করা যাবে।’


ড. ইখতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট খাতে জনগণের করের টাকায় নতুন করে বাড়তি প্রণোদনার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা এ খাতের শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় কোনও ভূমিকা রাখবে কিনা, রাখলে কীভাবে; সে ব্যাপারে সরকারের কী বিবেচনা রয়েছে, তার ইঙ্গিত নেই।’


বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ)-এর জন্য কোনও বরাদ্দ না করায় হতাশা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটে কোনও বরাদ্দ না রাখাটা একবারেই অযৌক্তিক ও উল্টো পথে হাঁটার শামিল। সুতরাং বিসিসিটিএফে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।’ পাশাপাশি জলবায়ু বাজেটে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও এলাকা চিহ্নিতকরণসহ জবাবদিহি নিশ্চিতে কৌশলগত দিকনির্দেশনারও দাবি জানান তিনি।

Image Gallary

 
1 / 3
   
Caption Text
 
2 / 3
   
Caption Two
 
3 / 3
   
Caption Three