এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ

admin September 07, 2018

রংপুর এক্সপ্রেস: গ্রাম-গঞ্জের মানুষ এখন ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছে। আর এ সুবিধা দিচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ফলে গ্রামীণ জনগণ এখন অধিক হারে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে। তাতে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। মূলত ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়। এ ব্যাংকিংয়ে সাধারণ ব্যাংকের মতোই প্রায় সব সুবিধা পাওয়া যায়। সেজন্য গ্রাহককে বাড়তি কোনো চার্জও পরিশোধ করতে হয় না। এমনকি ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ব্যবহারেরও সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে গ্রামীণ অঞ্চলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাংকিং। বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা শহরের তুলনায় ৬ গুণ বেশি। দেশের ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।


সূত্রমতে, দেশের ১৭টি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮৮টি এবং তাদের আউটলেট রয়েছে ৫ হাজার ৩৫১টি। ওসব এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তার মধ্যে গ্রামের মানুষই ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭ জন। বাকিরা শহরের। এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জমা অথবা তোলা যায়। তবে অন্তমুর্খী রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে উত্তোলনের এ সীমা প্রযোজ্য নয়। দিনে দুবার জমা ও উত্তোলন করা যায়। প্রতি এজেন্টের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব থাকতে হয়। ওই হিসাবের সর্বোচ্চ স্থিতি সীমা ১০ লাখ টাকা দেয়া আছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা স্থানান্তর (দেশের ভিতর), রেমিট্যান্স উত্তোলন, বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল পরিশোধ, বিভিন্ন প্রকার ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সকল প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করা যায়। তবে এজেন্টরা কোনো চেক বই বা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করতে পারেন না। আর এজেন্টরা বিদেশি সংক্রান্ত কোনো লেনদেনও করতে পারেন না। তাছাড়া এজেন্টদের কাছ থেকে কোনো চেকও ভাঙানো যায় না। এজেন্টরা মোট লেনদেনের ওপর কমিশন পেয়ে থাকেন।


সূত্র জানায়, এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট জমা হওয়া অর্থের মধ্যে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের স্থিতি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া ডাচ-বাংলার আউটলেটও বেশি। তার পরের অবস্থানেই আছে ব্যাংক এশিয়া। তৃতীয় অবস্থানে আছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। তাছাড়া সোস্যাল ইসলামী, মধুমতি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, এনআরবি কমার্শিয়াল, স্ট্যান্ডার্ড, অগ্রণী, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী, মিডল্যান্ড, সিটি ও ইসলামী ব্যাংক ভালো কাজ করছে। মূলত পল্লী এলাকার মানুষের ব্যাংকের আওতায় আনতে এই কার্যক্রম শুরু হয়। সেজন্যপ্র্রথমে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়াকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প করে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সেসময় এগিয়ে না আসায় ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে ওই কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের আর্থিক জ্ঞান (ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি) হচ্ছে। আর গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা অন্যতম। ওই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় আরও অনেক কিছু করা সম্ভব।


সূত্র আরও জানায়, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে স্বল্প খরচে ব্যাংকিং সেবা দিতে প্রথমে মোবাইল ব্যাংকিং চালু হয়। তারপরে একই উদ্দেশ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০১৪ সালে ব্যাংক এশিয়া প্রথমে ওই সেবা চালু করে। এজেন্ট ব্যাংকিং হলো-সমঝোতা স্মারক চুক্তির বিপরীতে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেয়া। কোনো ধরনের বাড়তি চার্জ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। ২০১৩ সালের প্রথম নীতিমালায় প্রথমে শুধু পল্লী এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমতি দেয়া হলেও পরের বছর নীতিমালায় কিছুটা সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই এমন পৌর ও শহর অঞ্চলেও এজেন্ট নিয়োগ দেয়া যায়। তবে মেট্রোপলিটন ও সিটি করপোরেশন এলাকায় না করার যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা আগের মতোই বহাল রাখা হয়।


এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবুল বশর জানান, যেসব জায়গায় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানকার মানুষ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ব্যাংকিং প্রয়োজন মিটাতে পারছে। সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো তাদের মোবাইলে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য যাচ্ছে। ফলে তাদের বিশ্বাস বাড়ছে। তাতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ মানুষ এ সেবাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের এশিয়া কাপ জেতার সামর্থ্য আছে -মাশরাফি

বাংলাদেশের এশিয়া কাপ জেতার সামর্থ্য আছে -মাশরাফি

admin September 07, 2018

খেলাধুলা ডেস্ক: এশিয়া কাপে সবশেষ তিন আসরের দুটির ফাইনালিস্ট বাংলাদেশের এবার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব মনে করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও। দুই ফেভারিট ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে নিজেদের খুব একটা পিছিয়ে রাখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। আবু জায়েদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মিঠুনরা সরাসরিই বলেছেন শিরোপা জয়ের লক্ষ্যের কথা। সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি শিরোপা জেতার কথা না বললেও সেই একই আত্মবিশ্বাস দেখা গেল মাশরাফির মাঝেও।


"সম্ভাবনা কতটুকু এভাবে আসলে বলা যায় না। দলগুলো যদি দেখেন, তাহলে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। হয়তো ভারত অনেক ভালো দল। পাকিস্তান তাদের 'ঘরের মাঠে' খেলবে। কিছুটা বাড়তি সুবিধা তারা পাবে। তাদের দলে রিস্ট স্পিনার বেশি আছে। তবুও আমার কাছে মনে হয় আমাদের সামর্থ্য আছে তাদেরকে হারানোর।"


তিনি বলেন, "আমরা শুরুটা কেমন করি আর পরের রাউন্ডে যেতে পারি কিনা, সেটা দেখতে হবে। এখানে বিভিন্ন 'ক্যালকুলেশন' আছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আমার কাছে মনে হয়, আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই।" 'বি' গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। সেরা দুই দল খেলবে সুপার ফোরে। একটা করে ম্যাচ ধরে এগোতে চান মাশরাফি। অন্যান্যের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। শক্তির বিবেচনায় প্রতিপক্ষদের কাউকে কাউকে এগিয়েও রাখছেন। নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে জয়ের খুব ভালো সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।


তিনি বলেন, "আপনারা অনেকে টুর্নামেন্ট জেতার কথা বলছেন। আমি আবার এই ধরনের না, আমি এই ধরনের কথা বলতে চাই না। আমি মনে করি, আমাদের সামর্থ্য আছে। বাকি দলগুলোর সাথে যদি তুলনা করেন, কন্ডিশন, উইকেট ও কিছু টুকটাক ব্যাপার থাকে...রিস্ট স্পিনাররা কেমন ফর্মে আছে। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের থেকে বেটার টিম আছে এই টুর্নামেন্টে।"


বলেন, "তবে বাকি দলের সাথে আমাদের খুব বেশি পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। সেই পার্থক্যটা আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলে পূরণ করতে পারি, আমার কাছে তাহলে সব কিছুই সম্ভব মনে হয়। সবকিছুর আগে নির্ভর করছে আমরা প্রথম ম্যাচটা ভালো খেলে জিততে পারি কি-না তার উপর।" দল ছন্দে আছে। সবশেষ সিরিজে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি। দারুণ বোলিং করছেন অধিনায়ক। বরাবরের মতোই যতটা সম্ভব অবদান রাখার লক্ষ্য তার।


বলেন, "আমার নিজের কোনো লক্ষ্য কখনও থাকে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজেও যাইনি, এখানেও যাবো না। কখনও এমন লক্ষ্য নিয়ে যাই না। আমি চেষ্টা করব অবদান রাখার, যতটুক পারি। এটা খারাপও হতে পারে ভালোও হতে পারে। এটা নিয়ে আসলে এত মাথা ব্যথা নেই। আর টুর্নামেন্টের শুরুতে তো থাকেই না।"

সমকামিতার বৈধতা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সমকামিতার বৈধতা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

admin September 07, 2018

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারি আইনের একটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে ভারতে সমকামিতার অধিকারকে বৈধতা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক এই রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ বলেছে, সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করার ওই আইন এখন অযৌক্তিক। রাষ্ট্রের সব নাগরিককেই সমান অধিকার দিতে হবে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণার পর ভারতের বিভিন্ন অংশে এলজিবিটি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন উদারপন্থি অধিকারকর্মীরাও। ৫৪৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র রায়ে বলেছেন, কেউ তার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যকে এড়িয়ে যেতে পারে না। এখনকার সমাজ ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের প্রশ্নে অনেক বেশি অনুকূল। “ভারতের সংবিধান একজন সাধারণ নাগরিককে যেসব অধিকার দেয়, তার সবগুলোই এলজিবিটি কমিউনিটির প্রাপ্য।”


আরও পড়তে পারেন >> জাপানে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪


ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশে ফৌজদারি আইন হিসেবে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকারের তৈরি করা দণ্ডবিধিই প্রয়োজনমত বদলে নিয়ে চালু রাখা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে’ গিয়ে কেউ পুরুষ, নারী বা জন্তুর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছরের জেল হতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে জরিমানা। বাংলাদেশের ফৌজদারি দণ্ডবিধিতেও একই ধারায় মোটামুটি একই ভাষায় একই শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশেও সমকামিতা দণ্ডনীয় অপরাধ বিবেচনা করা হয়।


ওই আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে ভারতের এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার) অধিকার সংগঠনগুলো বলে আসছিল, বিশ্বের ৭৪টি দেশ যেখানে সমকামিতাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে ৩৭৭ ধারায় তাদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।


এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ২০০৯ সালে দিল্লি হাই কোর্ট এক রায়ে ৩৭৭ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। সেখানে বলা হয়, কেবল অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনসংসর্গের ক্ষেত্রে ওই আইন প্রয়োগ করা যাবে।কিন্তু কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠনের আপিলে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের সেই রায় খারিজ করে দেয়। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, সরকার চাইলে আইন বাতিল বা নতুন আইন তৈরি করতে পারে।
এর তিন বছরের মাথায় শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী নভতেজ সিং জোহর, ম্যাক্সিম ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণের সম্পাদক সুনীল মেহরা, বিখ্যাত শেফ রীতু ডালমিয়া, ব্যবসায়ী আমন নাথ এবং অভিনেত্রী আয়েষা কাপুর নতুন একটি পিটিশন নিয়ে যান ভারতের সুপ্রিম কোর্টে।


সেখানে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার কারণে এলজিবিটি জনগোষ্ঠী স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতীয় পত্রিকাগুলো বলছে, নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারা নিয়ে এই মামলায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়নি। সরকারের অবস্থান জানাতে আদালতে বার বার সময় চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু পার্লামেন্টে ৩৭৭ ধারা বাতিলের বিল আনতে চাইলে বিজেপি সে বিষয়ে আলোচনাই করতে দেয়নি।

জাপানে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪

জাপানে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪

admin September 07, 2018

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: প্রাকৃতিক দুর্যোগ পিছু ছাড়ছে না জাপানের; ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন জেবিতে তছনছ হওয়ার পর এবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ হোক্কাইডোতে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। গেল ভোররাত ৩টা ৮ মিনিটে হোক্কাইডোতে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। এতে অন্তত চার জন নিহত ও ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জাপানি গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনএইচকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ১২০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন স্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্কভাবে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্তি¡ক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, ৬.৬ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল তমোকোমাই শহরের কাছে, ভূপৃষ্ঠের ২৭ কিলোমিটার গভীরে।


হোক্কাইডোতে ১৯৯৬ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে হোক্কাইডোর প্রায় ত্রিশ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে; বন্ধ রয়েছে দ্রæতগামী ট্রেন এবং প্রায় সব ধরনের সাধারণ পরিবহন। এ ভূমিকম্পের মাত্র এক দিন আগে সুপার টাইফুন জেবির তাণ্ডবে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ওসাকা ও কিয়েতোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়; নিহত হন ১১ জন। এনএইচকের টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের পরপরই পুরো শহে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ধসে পড়া রাস্তা এবং দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বাড়িঘরের দৃশ্যও দেখা যায় সেখানে।


বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, “এটি সত্যি মর্মান্তিক দুর্যোগ। আমরা একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছি। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার সৈন্য আহতদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে। ঝুঁকি এড়াতে জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।”


তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় করা কঠিন। তবে সরকার জনগণের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন বলেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, হোক্কাইডোর ভূমিকম্পে কোনো বাংলাদেশি আহত হননি। এখানে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি নিরাপদে রয়েছেন।” গত ১৮ জুন জাপানের ওসাকায় ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ৫ জন নিহত হয়। এরপর জুলাই মাস জুড়ে তাপদাহে ৮৩ জন, অতিবৃষ্টিতে ২২৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপর মঙ্গলবারের টাইফুনে আরও ১১ জনের প্রাণ যায়।


এদিকে টাইফুন জেবির সঙ্গে আসা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘কানসাই’ শুক্রবার থেকে আবার চালু হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে সেখানে কেবল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ওঠানামা করবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওসাকা সাগরের মধ্যে একটি কৃত্রিম দ্বীপে নির্মিত এই বিমানবন্দরটি জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হলে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে আটকা পড়া ৫ হাজার যাত্রীকে বুধবার উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

টলি অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

টলি অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

admin September 07, 2018

বিনোদন ডেস্ক: হোটেল থেকে টলি অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর (৩৮) ঝুলন্ত মরদেহউদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে শিলিগুড়ির এয়ারভিউ মোড়ের একটি হোটেল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।


পায়েল চক্রবর্তী বাংলা সিরিয়াল ‘চোখের তারা তুই’-তে অভিনয় করে অনেকের নজর কেড়েছিলেন। এর পরে ‘ককপিট’ ছবিটিতে একটি ছোট চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এ ছাড়া ‘গোয়েন্দা গিন্নি’ ও ‘জড়োয়ার ঝুমকো’-তেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। কিছুদিন আগেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ওই অভিনেত্রীর। তার দু’বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তার বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরে। মঙ্গলবার রাতে শিলিগুড়ির এয়ারভিউ মোড় সংলগ্ন নবীন সেন রোডের একটি হোটেলে ওঠেন তিনি।


আরও পড়তে পারেন >> নারী-শিশুদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান সানি লিওনের


হোটেল কর্মী অরুণ দেব বলেন, ওই নারী রাতে হোটেলে আসেন। সোজা রুমে চলে যান। রাতে খাবারও খাননি। সকালে ডাকাডাকি করে তার সাড়া পাওয়া না যাওয়ায় পুলিশে খবর দেয়া হয়।


শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (জোন-১) গৌরব লাল বলেন, অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নারী-শিশুদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান সানি লিওনের

নারী-শিশুদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান সানি লিওনের

admin September 07, 2018

বিনোদন ডেস্ক: বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করেই সফলতা অর্জন করেন সানি লিওন। একের পর এক ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিতে থাকেন। বলিউডের ছবিগুলোতেও বেশ খোলামেলা হয়েই কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে নতুন আরো কয়েকটি ছবির কাজ করছেন এ নায়িকা। তবে সম্প্রতি নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। আর সেই ভিডিওতে একটি আহ্বান জানিয়েছেন সবার উদ্দেশে। অসহায় নারী ও শিশুদের জন্য কাজ করছেন সানি। তাদের জন্য ফান্ড গঠনের কাজেও তিনি অংশ নেন।


তারই ধারাবাহিকতায় এই ভিডিওটি প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী। সানি সেই ভিডিওতে বলেন, ভারতে অসহায় নারী ও শিশুর সংখ্যা অসংখ্য। এসব নারী ও শিশু তাদের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়ানোর তেমন কেউ নেই। তাদের সহযোগিতাটা খুব দরকার। সেটা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো সাধ্য অনুযায়ী এসব নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়ান। এটা মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য। প্লিজ, এগিয়ে আসুন।

সৈয়দপুরে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

সৈয়দপুরে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

admin September 07, 2018

নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরে খোলা বাজারের (ওএমএস) এর চাল নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক গৃহবধুকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই নারীর স্বামী ও সতিন বর্তমানে পলাতক। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাউলের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।


নিহত গৃহবধু জাহেদা খাতুনের ভাই নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, আমার বোন জাহেদা খাতুন তার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় স্বামীর বাড়ি আদানীমোড়ে না থেকে পৃথকভাবে কামারপুকুর ব্রিজ সংলগ্ন বাউলের ডাঙ্গাপাড়ায় বসবাস করেন। গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর সকালে কামারপুকুর বাজার থেকে ওএমএস’র ৩০ কেজি চাল কিনে আমার বোন জাহেদা। ওই চাল থেকে অর্ধেক চাল দাবি করে জাহেদার স্বামী আতিয়ার রহমানের প্রথম স্ত্রী তহমিনা বেগম। চাল দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহেদার সাথে তহমিনা ও আতিয়ার ঝগড়া বাধায়। এক পর্যায়ে গালাগালি ও ধ্বস্তা-ধ্বস্তির ঘটনাও ঘটে। সেসময় বিষয়টি ওই পর্যন্ত থেমে থাকে। কিন্তু আতিয়ার রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী তহমিনা নিজেদের বাড়ি আদানি মোড়ে না গিয়ে জাহেদার বাড়িতেই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অবস্থান করে। রাতের বেলা ঘুমের সময় জাহেদার হাত পা বেধে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে। রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে জাহেদার ছেলে হাসু (৮) আমাদের বাড়িতে এসে তার মাকে মেরে ফেলার খবর দেয়। আমরা তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে দেখতে পাই বাড়ির পাশে কামারপুকুর ব্রিজ সংলগ্ন বাকডোকরা খালের ধারে গাছের ডালে জাহেদার মরদেহ ঝুলানো রয়েছে।


জাহেদার ছেলে হাসু জানায়, আমার বাবা ও বড় মা তহমিনা আমার মাকে বালিশ চাপা দিয়ে মারছে। আমাকে ভয় দেখিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে আতিয়ার ও তার প্রথম স্ত্রী তহমিনা পলাতক রয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে সকালে লাশ উদ্ধার করে নীলফামারী মর্গে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে।


কামারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, জাহেদার ভাই নজরুল জানায় যে তার স্বামী জাহেদাকে হত্যা করে লাশ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরে পুলিশকে সংবাদ দিলে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, মামলা হলে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গে ‘পঞ্চকন্যা’ সম্মানে ভূষিত নীলফামারীর মেয়ে সুমি

পশ্চিমবঙ্গে ‘পঞ্চকন্যা’ সম্মানে ভূষিত নীলফামারীর মেয়ে সুমি

admin September 07, 2018

নীলফামারী: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কুসুমের ফেরা ‘পঞ্চকন্যা’ অনন্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন নীলফামারী জেলার মেয়ে সরকার ফারহানা আখতার সুমি। পশ্চিমবঙ্গের মেদেনীপুর নিউদিঘায় “আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব ২০১৮” -এ কবি সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি এ উৎসবের আয়োজন করে ডায়মন্ড হারবার প্রেসক্লাব। বাংলাদেশের সুমি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের আরো চার কবি সাহিত্যিককে ওই সম্মানে ভুষিত করা হয়।


Sumi-2

উৎসব আলোচনা সভায় উদযাপন কমিটির আহবায়ক অমৃত মাইতি, আন্তর্জাতিক আহবায়ক খায়রুল আনাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি অশোক রায় চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাকিল আহমেদ বক্তব্য দেন। একই অনুষ্ঠানে কবি সুকুমার রায় স্মৃতি পদক ও অগ্নিবীণা পুরস্কার করা হয় পশ্চিমবঙ্গের দু’জনকে।


নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুুড়ি ইউনিয়নের চিলাহাটি গ্রামের মেয়ে সরকার ফারহানা আখতার সুমি জানান, আমাকে লেখিকা ও সমাজ সেবী হিসেবে নির্বাচিত করে ‘পঞ্চকন্যা’ অনন্য সম্মানে ভুষিত করে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বরেণ্য কবি সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে প্রদান করা হয় ক্রেস্ট। এটি আমার জন্য বিরাট পাওয়া।


প্রসঙ্গত, সরকার ফারহানা আকতার সুমি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ ও পুর্ণবাসন) ও বাংলাদেশ যুবমহিলা লীগের সহ শিক্ষা পাঠাগার ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি নীলফামারী-০১(ডোমার-ডিমলা) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

রৌমারীতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সাবেক এমপির সহযোগীকে মারপিট

রৌমারীতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সাবেক এমপির সহযোগীকে মারপিট

admin September 07, 2018

রৌমারী, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সাবেক এমপি জাকিরের সহযোগী সেকেন্দার আলী বাবলু (৩৪) কে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বেদম মারপিট করেছে দুর্বৃত্বরা। গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দবেড় ইউনিয়নের উত্তর বাইটকামারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি রৌমারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে রয়েছে।


এলাকাবাসি ও পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ৭/৮ জনের একটি দুর্বৃত্বের দল রাতের অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা সেকেন্দার আলী বাবলুকে বাহির থেকে ডেকে ঘর থেকে বেড় করে কিছু বুঝে উঠার আগেই এলোপাতারি মারপিট শুরু করে দুর্বৃত্বরা। বাড়িতে থাকা তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের ডাক চিৎকার শুনে গ্রামবাসি এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্বরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় গ্রামবাসিরা তাকে উদ্ধার করে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করে।


রৌমারী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. জোবায়ের আহমেদ শিমুল জানান, আহত ব্যক্তির শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সৈয়দপুরে অপহরণের শিকার স্কুলছাত্র উদ্ধার, আটক ১

সৈয়দপুরে অপহরণের শিকার স্কুলছাত্র উদ্ধার, আটক ১

admin September 07, 2018

নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরে সিনেমার শুটিংয়ের কায়দায় অপহরণের শিকার এক স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় সৈয়দপুর শহরের বাইপাস সড়ক বসুনিয়াপাড়া মোড় এলাকায়। আটক যুবকের নাম ফয়সাল। সে শহরের সাহেবপাড়া হানিফ মোড় সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা স্কুল এলাকার মো: মিলনের ছেলে। উদ্ধারকৃত স্কুল ছাত্রের নাম মো: আমান। সে একই এলাকার মৃত. জব্বারের ছেলে ও সৈয়দপুর রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র।


আমান জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রাইভেট থেকে ফিরে বাড়ির সামনে ব্রাশ করছিলাম। এমন সময় একটি কার এসে দাঁড়ায় বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায়। কার থেকে ২ জন অপরিচিত যুবক এসে আমার ক্লাসমেট আকাশের বাড়ি দেখিয়ে দিতে বলে। আমি আকাশের বাড়ির ঠিকানা বলার পর তারা অনুরোধ করে যে তাদের যেন বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেয়া হয়। এতে সম্মত হয়ে তাদের সাথে মাইক্রোবাসে উঠে শহরের পূর্ব দিকে সৈয়দপুর থানার পাশে রাসুলপুর এলাকায় ফ্রি আমিন স্কুলের দিকে যেতে বলি। কিন্তু তারা আমাকে নিয়ে উল্টোদিকে অর্থাৎ রেলওয়ে কারখানা হয়ে মিস্ত্রিপাড়া মোড় দিয়ে পশ্চিমে বাইপাস সড়কের দিকে যেতে থাকে। এতে আমি আপত্তি করায় তারা জোড় পূর্বক সেদিকেই যেতে ড্রাইভারকে তাগাদা দেয়। এক পর্যায়ে একটি তোয়ালে দিয়ে আমার চোখ মুখ বেঁধে ফেলে। এতে আমি চিৎকার করলে ড্রাইভার হঠাৎ মাইক্রোবাস থামিয়ে দিয়ে চাবি নিয়ে নেমে পড়ে এবং বলে এমন ভাড়া সে যাবেনা। এর ফলে অপহরণকারীরা কার থেকে নেমে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যায় এবং আমি নামার পর ড্রাইভারকে চিনতে পারি। পরে ড্রাইভার আমাকে নিয়ে বাড়ি পৌছে দেয়। তার সহযোগিতায় এ অপহরণ ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানতে পেরে তাকে এলাকাবাসী আটক করে স্থানীয় রেলওয়ে শ্রমিকলীগ অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক গণপিটুনি দেয়া হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ৩ টার দিকে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


এ ব্যাপারে কার চালক এনামুল হক জানায়, বুধবার আমির নামে একজন ড্রাইভারের সাথে ২ হাজার ৫শ’ টাকায় শুটিং করার কথা বলে ভাড়া ঠিক করে ফয়সাল। কিন্তু কোন কারণে আমির যেতে না পারায় আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আমাকে জানালে আমি যেতে রাজি হই। এসময় আমাকে জানানো হয় যে, ৪ জন যাত্রী দিনাজপুর যাবে। তবে তারা রেলওয়ে শ্রমিকলীগ অফিস, রেলওয়ে কারখানা ও দিনাজপুরের জেলখানার পিছনে, বড় ময়দান এলাকায় কিছুক্ষণ করে অবস্থান করবেন। কারণ এসব জায়গায় শুটিং করা হবে। সে অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে রেলওয়ে মাঠের মাইক্রো স্ট্যান্ড থেকে ফয়সাল আমার গাড়িতে উঠে রেলওয়ে শ্রমিকলীগ অফিসের সামনে গিয়ে নেমে পরে এবং সেখানে ৩ যুবক ওঠে। তারা সেখান থেকে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের সামনে গিয়ে এক ছেলেকে নিয়ে আসে। তারা এসময় জানায় যে এখন নায়কের ছোট ভাইকে অপহরণের শুটিং হবে। কিন্তু তাদের হাতে কোন ক্যামেরা বা অন্যান্য উপকরণ না থাকায় আমার একটু সন্দেহ হয়। সে ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞাসা করলেও তারা কোন উত্তর দেয়নি। তারপর রেলওয়ে কারখানার কাছে আসার পর ছেলেটি আমাকে ফ্রি আমিন স্কুলের দিকে যেতে বলে কিন্তু কারে ওঠা অপর যাত্রীরা আমাকে মিস্ত্রিপাড়ার দিকে যাওয়ার জন্য তাগাদা দেয়। এতে ভাড়াকারীদের কথায় আমি সেদিকেই যেতে থাকি। একসময় বসুনিয়াপাড়া মোড়ে এলে আমার কাছ থেকে তোয়ালা চেয়ে নিয়ে যখন ছেলেটির চোখ মুখ বেধে দেয় তখন আমার সন্দেহ সত্যে পরিণত হওয়ায় আমি গাড়ি বন্ধ করে চাবি নিয়ে নেমে প্রথমে ছেলেটিকে আমার দরজা দিয়ে বাইরে আনি পড়ে ওই যুবকদের ধরার চেষ্টা করার আগেই তারা দরজা খুলে বের হয়ে দিনাজপুরের পখে রাবেয়া মিলের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ছেলেটিকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌছে দেই।


আটক যুবক শহরের আলম প্রেসের মেশিন ম্যান ফয়সাল জানায়, আমান আমার ব্যাপারে অশ্লীল অপপ্রচারণা চালাচ্ছিল। আমি নাকি নেশা করি, মেয়েদের সাথে ঘুরি। তাকে বার বার নিষেধ করা সত্বেও সে থামেনি। একারণে তাকে ভয় দেখিয়ে নিবৃত করার জন্য নাটক করতে সাগর ভাইয়ের শরনাপন্ন হই। তিনি প্লাজায় প্রায়ই আসেন। কিন্তু তার বাসা কোথায় বা কি করেন তা জানিনা। তিনি তার আরও ২ বন্ধুসহ আমাকে সহযোগিতা করতে চান বলেই এ কাজ করেছি। কিন্তু আমি আমানকে শুধু ভয় দেখাতে বলেছি। কিন্তু তারা যে তাকে মারধর করবে বা চোখ মুখ বেঁধে নিয়ে যাবে তা আমার জানা ছিলনা।


সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, শুটিংয়ের নাম করে কার ভাড়া নিয়ে অপহরনের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং স্কুলছাত্র ও চালকের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্বায় তারা রেহাই পায় মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে, অপর ৩ জনকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাণীশংকৈলে জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

রাণীশংকৈলে জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

admin September 07, 2018

রাণীশংকৈল, ঠাকুগাঁও: ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈলে শেখ রাশেল মিনি স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মোছা. সেলিনা জাহান লিটা।


এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক মো. ইয়াসিন আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইনুল হক, মাহফুজা বেগম পুতুল, পৌর মেয়র আলমগীর সরকার, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি সইদুল হক, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, থানা অফিসার ইনচার্জ আ. মান্নান, জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং খেলার উপপরিচালক মো. আব্দুল কাদির প্রমুখ।


অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরিদা। উদ্বোধনী খেলায় ১নং ধর্মগড় ইউপি ও ৬নং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ খেলায় অংশগ্রহণ করে।

পীরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাথে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

পীরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাথে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

admin September 07, 2018
রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জে রায়পুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটবিহীন গঠিত বিতর্কিত ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্থগিত হওয়ার পরও জোরপূর্বব প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সাথে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পক্ষের লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুত্বর আহত তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

pirganj-raypur-school-foto-4

বিদ্যালয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে যথারিতি ক্লাশ চলছিলো। হঠাৎ করে বহিরাগতদের সাথে নিয়ে স্কুলে আসেন স্থগিত হওয়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম নান্নু। তিনি মাঠের মধ্যে থাকা ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ভবনের দোতলায় যেতে বলেন। ছাত্রছাত্রীরা দোতলা উঠলে তার সঙ্গে আসা লোকেরা দোতলার সিড়ির গেটে তালা দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আটকে রাখেন। এসময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম নান্নু পীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমানের ছোট ভাই খায়রুল ইসলাম খয়বারকে স্কুলের নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে ঘোষণা করেন। এতে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙ্গে বাহিরে বেরিয়ে পড়ে। উত্তেজিত ছাত্রছাত্রীদের সাথে নান্নুর লোকজনের বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে নান্নুর লোকজনেরা শিক্ষার্থীদের বাধা উপেক্ষা করে খায়রুল ইসলামকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যায়। এঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা মিলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ঘেরাও করলে সেখানে ম্যানেজিং কমিটির লোকজনের সাথে ধাওয়া-ধাওয়ির ঘটনা ঘটে। এতে সভাপতি নান্নুর সাথে আসা বহিরাগতদের হামলার শিকার হয় সাধারণ ছাত্রছাত্রীসহ অভিভাবক ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে স্কুল থেকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তার লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ওই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাম করছে।pirganj-raypur-school-foto

এদিকে ধাওয়া-ধাওয়ির সময় ম্যানেজিং কমিটির লোকজনের হামলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজার রহমান গোলাপ, স্কুল ম্যানেজিং সাবেক সহ সভাপতি মাহমুদুল হক তুষার, অভিভাবক শরিফুল ইসলাম সবুজ, শিক্ষার্থী লিখন, তাসকিরাতুলসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গোলাপ, তুষার ও সবুজকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র রায় জানান, আমি বিভিন্ন রকমের চাপে রয়েছি। এই মুহুর্তে আমি কাউকে কিছু বলতে পারছি না।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, রায়পুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এখনো কোন প্রধান শিক্ষকের কাগজপত্রে কোন সই করা হয়নি। এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আমি ওই ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছিলাম। তারপরও কেন এ ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে কমিটির সভাপতির বিরোধ চলছে। সেই জের ধরেই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

pirganj-raypur-school-foto
সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড নেত্রকোনার ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্রের

সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড নেত্রকোনার ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্রের

admin September 06, 2018

সারাদেশ: একটানা ১৮৫ কিলো মিটার সাঁতার কেটে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এএনএস কনসালট্যান্ট ও নেত্রকোনা জেলার সাঁতারু বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। বিশ্ব রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে গেল সোমবার শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার ভোগাই নদীর ব্রিজ থেকে সাঁতার শুরু করেন তিনি। এরপর বিরামহীন ভোগাই, নেতাই, কংস ও মগড়া নদী পাড়ি দেয়ার পর বুধবার রাত ৮টায় মোট ৬১ ঘণ্টায় তিনি ১৮৫ কিলোমিটার নদীপথ সফলভাবে সাঁতরে অতিক্রম করেন। নেত্রকোনার মদন উপজেলার দেওয়ান বাজারে মগড়া নদীর ঘাটে এ প্রদর্শনী শেষ করেন ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র।


এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে মাত্র ৪৩ ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়েও রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ৬৭ বছর বয়সী প্রবীণ এ সাঁতারু জানান, গিনেস রেকর্ড বুকে স্থান পেতে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। বিরামহীন সাঁতার প্রদর্শনী চলাকালে এক মিনিটের জন্যও কোথাও থামেননি। নদীতে সাঁতার অব্যাহত রেখেই গ্রহণ করছেন তরল জাতীয় খাবার।


মূলত আমেরিকার সাঁতারু ডায়ানা নাঈদের ২০১৩ সালে কিউবা টু ফ্লোরিডার ১৭৭ কিলোমিটার দূরপাল্লার সাঁতারের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙতেই তার এ সাঁতার। ক্ষিতীন্দ্র সাঁতার করছেন এমন খবরে বুধবার দুপুরের পর থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশু মগড়া নদীর বিভিন্ন ঘাটে ও আনাচে-কানাচে অপেক্ষা করতে থাকে। তাকে দেখেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তারা।


সোমবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে শেরপুরের নালিতাবাড়ির ভোগাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার শুরু করেন ৬৭ বছর বয়সী এই সাঁতারু। এর আগে সেখানে এক অনুষ্ঠানে এ সাঁতার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। এ সময় নালিতাবাড়ী পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক, নেত্রকোনার মদন পৌরসভার সাবেক মেয়র মোদাচ্ছের হোসেন শফিকসহ মদন নাগরিক কমিটি এবং নালিতাবাড়ি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ক্ষিতীন্দ্রের এ সাঁতারে মদন উপজেলা নাগরিক কমিটি ও নালিতাবাড়ি পৌরসভা এ সাঁতার অনুষ্ঠানে ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যকে সার্বিক সহায়তা করে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে। বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এএনএস কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। ১৯৭০ সালে সিলেটের ধোপাদিঘি পুুকুরে সাঁতারু অরুণ কুমার নন্দীর বিরামহীন ৩০ ঘণ্টার সাঁতার প্রদর্শনী দেখে তিনি সাঁতারে উদ্বুদ্ধ হন। শুরুতে ওই বছরের মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর উন্নয়ন কেন্দ্রের পুকুরে ১৫ ঘণ্টার সাঁতার প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে আলোচিত হন।khitindra-Swimmer


পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সাঁতারের রেকর্ডও রয়েছে তার। ১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পুকুরে ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট বিরামহীন সাঁতার প্রদর্শন করে জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করেন। জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করায় ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ডাকসুর উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।


জানা যায়, ১৯৭৬ সালে তিনি জগন্নাথ হলের পুকুরে ১০৮ ঘণ্টা ৫ মিনিটব্যাপী সাঁতার প্রদর্শন করে পুরাতন রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জগন্নাথ হলের পুকুরে পাড়ে একটি স্মারক (ফলক) নির্মাণ করে।


এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ঢাকা স্টেডিয়ামের সুইমিং পুল, মদন উপজেলা পরিষদের পুকুর এবং নেত্রকোনা পৌরসভার পুকুরে তার একাধিক সাঁতার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতেও দূরপাল্লার সাঁতার প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন তিনি। ১৯৮০ সালে মাত্র ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিটে মুর্শিদাবাদের ভাগিরথী নদীর জঙ্গিপুর ঘাট থেকে গোদাবরী ঘাট পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দেন তিনি।


সাঁতার প্রদর্শনী ও রেকর্ড সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননা পেয়েছেন ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে গণভবনে ডেকে রূপার নৌকা উপহার দেন। একই বছর ডাকসু তাকে বিশেষ সম্মাননা সূচক স্বর্ণপদক দেয়। এছাড়াও জগন্নাথ হল কর্তৃপক্ষ দুইবার এবং শামছুন্নাহার হল কর্তৃপক্ষ একবার তাকে সংবর্ধনা ও স্বর্ণপ্রদক প্রদান করে। এছাড়া বহু সংগঠন পুরস্কৃত করে তাকে।


মদন উপজেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক (সাবেক মেয়র) দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন শফিক জানান, এই কৃতি সাঁতারুর ১৮৫ কিলোমিটার বিরামহীন সাঁতারের রের্কড রাখতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারিখ ও সময় নির্ধারিত ভিডিও ক্যামেরায় ফুটেজ রাখা হয়েছে। এই সাঁতারে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের তিনি উপজেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।


ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য আমাদের দেশের গর্ব, ওনাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। গিনেস বুকে নাম লেখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

মেয়েরা বিয়ের পরে হঠাৎ কেন মোটা হতে থাকে?

মেয়েরা বিয়ের পরে হঠাৎ কেন মোটা হতে থাকে?

admin September 06, 2018

ঘটনা-১: বিয়ের আগে বেশ শুকনা ছিলো শিমু। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই হঠাৎ সে মোটা হতে শুরু করেছে। এবং খুব দ্রুতই তা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরে শিমু। পরে টেনশনে পরে সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তাতে তো হিতে-বিপরীত‍! কারণ না খেয়ে, টেনশনে না ঘুমিয়ে শিরিন দিন দিন আরও বেশি মোটা হতে থাকে।


এই ঘটনা শুধু শিমুর ক্ষেত্রেই নয়, বরং সব নারীরাই বিয়ের পরপরই মোটা হতে থাকেন। কেন, কিভাবে মোটা হচ্ছে না বুঝেই অনিয়ম করে শরীর আরো ভারি করে ফেলেন। আসুন কারণগুলো জেনে নেই এবং মেনে চলার চেষ্টা করে শরীরকে ফিট রাখা যায়।


সঠিক খাদ্যাভ্যাস না মানা
বিয়ের আগে আকর্ষণীয় ফিগারের অধিকারী হতে অনেক মেয়ে কঠিন ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস মেনে চলে। চর্বিযুক্ত খাবার, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড সব কিছুতেই তখন তাদের ‘না’ থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সব সময়ই একটা তাগিদ থাকে। তবে অনেকেই বিয়ের পর এই খাদ্যাভ্যাস আর ঠিকমতো মেনে চলতে পারে না।


আরও পড়তে পারেন >> ‘টাকা’র জীবাণু ক্ষতি করছে আমাদের!


ভাজা খাবার এবং তেল জাতীয় খাবার খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। তবে দেখা যায়, বিয়ের পর বিভিন্ন দাওয়াতে গিয়ে বা বাড়িতে অতিথি এলে এ ধরনের খাবারগুলোই বেশি খাওয়া হয়। এ কারণে ওজন দ্রুত বেড়ে যায়। আবার অনেক মেয়েই নতুন নতুন রেসিপি রান্না করে পরিবারের লোকজনকে খাওয়াতে ভালোবাসেন। এটিও ওজন বাড়ার একটি বড় কারণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরিবারের সবাইকে ভালো ভালো খাবার খাওয়াতে ভালোই লাগে, তবে এর মানে এই নয় যে, আপনাকেও সে সব খাবার চেখে দেখতে হবে!


নিজের জন্য সময় নেই
বিয়ের পর নতুন সম্পর্ক, নতুন মানুষজন, সব কিছুর ভিড়ে নিজের জন্য সময় বের করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তখন গুরুত্ব বদলে যায় বা অগ্রাধিকার বদলে যায়, ফলে নিজের প্রতি আর নজর দেওয়া হয় না, ব্যায়াম তো দূরের বিষয়। বিয়ের পর মুটিয়ে যাওয়া এটি একটি বড় কারণ। আগে হয়তো ব্যায়ামের জন্য বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পালনের জন্য সময় বের করতেন, তবে বিয়ের পর এগুলো আর হয়ে ওঠে না। পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে গিয়ে বা সংসারের কাজের ঝামেলায় নিজের জন্য আর সময়ই পাওয়া যায় না। মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা ভেবে তাই নিজের জন্য সময় বের করুন। খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করুন।


বাইরের খাবার
বিয়ের পর মেয়েদের ওজন বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ রান্না এড়িয়ে যাওয়া এবং বাইরের খাবার খাওয়া। অনেকেই বিয়ের পর রান্নার ক্ষেত্রে অতটা পটু থাকেন না, তখন বাইরের খাবার হয় ভরসা। বাইরের খাবার বা হোটেলের খাবারে প্রচুর তেল দেওয়া হয়। এই অস্বাস্থ্যকর খাবার ওজন বাড়িয়ে দেয়।


গর্ভধারণের জন্য
গর্ভধারণের কারণে অধিকাংশ নারী ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি ওজন এই সময়টায় বেড়ে যায়।


জন্মনিয়ন্ত্রক পদ্ধতি
জন্মনিয়ন্ত্রক যেকোন পদ্ধতি গ্রহণ করলে (যেমন- পিল বা ইনজেকশন) বিয়ের পর মেয়েরা মোটা হয়ে যায়।


নিজেদের কাছে বেশি সময় থাকতে চায়
অনেক স্বামীই রয়েছেন, যারা বেশি সময় ধরে স্ত্রীর সঙ্গ পছন্দ করেন। যার জন্য হয়তো স্ত্রীর আর ব্যায়াম করা হয়ে ওঠে না। পরস্পরের বোঝাপড়ার জন্য এটি অবশ্যই ভালো। তবে স্বাস্থ্যকেও তো গুরুত্ব দিতে হবে। তাই স্বামীকেও উদ্বুদ্ধ করুন আপনার সঙ্গে ব্যায়াম করতে। অথবা দুজনে একত্রে কোনো জিমে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন।


আলস্য
বিয়ের পর মেয়েরা শুধু খায় আর ঘুমায়, কোনো কাজই করে না। বিয়ের পর অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আবার অনেকে নিজের প্রতি এতই অবহেলা দেখায় যে শরীরেরও যত্ন নেয় না। বিয়ের পর ওজন বাড়ার বড় কারণ এই আলস্য।

চমকে দিলেন তিশা

চমকে দিলেন তিশা

admin September 05, 2018

বিনোদন ডেস্ক: ১১ বছর পর টেলিভিশনের জন্য টেলিছবি নির্মাণ করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আনিসুল হকের লেখা উপন্যাস ‘আয়েশামঙ্গল’ অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেন তিনি। এটিতে আয়েশা চরিত্রে অভিনয় করেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তার সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। টেলিছবিটি শুরু থেকে বেশ আলোচনায় আসে। একদিকে ১১ বছর পর ফারুকীর টেলিছবি নির্মাণ।


অন্যদিকে এর কেন্দ্রীয় চরিত্র তিশা। এটি প্রচারের পর দর্শকদের নিরাশ হতে হয়নি। তিশা দর্শকদের চমকে দিলেন। তার অনবদ্য অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সবাইকে ভীষন ঘোরে রাখেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, আয়েশার জন্য যে পরিমাণ ভালোবাসা পাচ্ছি, মেসেজ পাচ্ছি, সেটা বলে বোঝাতে পারবো না। সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আয়েশাকে যখন আমি দেখি, ঠিকঠাক চিনতে পারি না। কে এই মেয়েটা? এত বেদনার ভার নিয়ে মেয়েটা হাঁটছে কিভাবে?


আরও পড়তে পারেন >>  তৃতীয় সপ্তাহে নতুন ৪০ প্রেক্ষাগৃহে ‘জান্নাত’


এটি ছাড়াও তিশাকে ঈদে দেখা গেছে সাগর জাহানের ‘মাখন মিয়ার শিক্ষিত বউটা’ ও ‘মাহিনের রূপবান বিয়ে’, মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘একটু হাসো’, মাসুদ সেজানের ‘চরিত্র: স্ত্রী’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘বৃত্ত’সহ বেশ কিছু নাটকে। বিশেষ দিবসের নাটক টেলিছবির বাইরে এই অভিনেত্রী চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সম্প্রতি তৌকীর আহমেদের ‘ফাগুন হাওয়া’ ছবির কাজ শেষ করেছেন তিনি। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই ছবিটি নির্মিত হয়েছে।

তৃতীয় সপ্তাহে নতুন ৪০ প্রেক্ষাগৃহে ‘জান্নাত’

তৃতীয় সপ্তাহে নতুন ৪০ প্রেক্ষাগৃহে ‘জান্নাত’

admin September 05, 2018

বিনোদন ডেস্ক: ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘জান্নাত’। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি প্রশংসা পাচ্ছে। যার ফলে তৃতীয় সপ্তাহে এসে সিনেমাটি নতুন আরো ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আসছে শুক্রবার থেকে অর্ধশত প্রেক্ষাগৃহে ‘জান্নাত’ দেখা যাবে। বিষয়টি নিয়ে পরিচালক বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।


আজ বুধবার মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ঈদের দিন ‘জন্নাত’ মাত্র সারাদেশের ২১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। তৃতীয় সপ্তাহে এসে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। বিষয়টি অনেক আনন্দের। ধ্বংস স্তূপ থেকে ‘জান্নাত’ আলোর মুখ দেখছে। যেটা সম্ভব হয়েছে সিনেমাটির কোয়ালিটির কারণে। ‘জান্নাত’ দেখে কেউ খারাপ বলেননি। প্রেক্ষাগৃহের মালিক, বুকিং এজেন্ট ও দর্শকরা সবাই প্রশংসা করেছেন। আর এটাই আমাদের সার্থকতা।


আরও পড়তে পারেন >> ‘হেলো হেলো’ গানে মালাইকার ঝড়


যদিও প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা দিয়ে সিনেমার কোয়ালিটি বিচার করা যায় না। তবুও তৃতীয় সপ্তাহে এসে সংখ্যা বাড়াটা আমি ইতিবাচক দেখছি। কারণ সিনেমাটি ভালো না হলে এত প্রেক্ষাগৃহের নতুন করে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ থাকতো না’, যোগ করে বলেন ‘দুই নয়নের আলো’খ্যাত এই নির্মাতা। ‘জান্নাত’-এ জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি।


এসএস মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত সিনেমাটির কাহিনি লিখেছেন সুদীপ্ত সাঈদ খান। সংলাপ ও চিত্রনাট্য লিখেছেন আসাদ জামান। এতে আরও অভিনয় করেছেন আলীরাজ, মিশা সওদাগর, মারুফ প্রমুখ।

‘হেলো হেলো’ গানে মালাইকার ঝড়

‘হেলো হেলো’ গানে মালাইকার ঝড়

admin September 05, 2018

বিনোদন ডেস্ক: ‘ছাঁইয়া ছাঁইয়া’, ‘মুন্নি বদনাম’ এই গানগুলোর কথা এখনো মনে পড়ে। যেখানে বেশ নজর কেড়েছিলেন মালাইকা আরোরা। সেই মালাইকা আবার ফিরছেন সিনেমায়। বিশাল ভরদ্বাজের পরিচালনায় ‘পটাকা’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি।


এই ছবির ‘হেলো হেলো’- গানে নাচতে দেখা গেছে তাকে। আরবাজ খানের প্রাক্তন স্ত্রীর এই গানটি প্রকাশ পাওয়ার পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ‘হেলো হেলো’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রেখা ভরদ্বাজ। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মালাইকার নাচ। সবকিছু মিলিয়ে মুক্তির আগেই বেশ সাড়া ফেলেছে গানটি।


আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ‘পটাকা’ সিনেমাটি। এই সিনেমায় রাধিকা মদন, সানায়া মালহোত্রা, সুনীল গ্রোভারের পাশাপাশি রয়েছেন বিজয় রাজ এবং টেলিভিশন অভিনেতা সনদ বর্মাও। মালাইকা বলেন, আমার কাজটা করে খুব ভালো লেগেছে। ছবির নাম আর টাইটেল ট্র্যাক দুটোই ভালো লেগেছে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেন বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ এনবিআরের

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেন বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ এনবিআরের

admin September 05, 2018

রংপুর এক্সপ্রেস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)এদেশে কর্মরত শতাধিক বহুজাতিক কোম্পানির আন্তর্জাতিক লেনদেন বিশেষভাবে নিরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। ওসব কোম্পানির বিদেশে অবস্থিত মূল কোম্পানি কিংবা অন্য কোম্পানির সঙ্গে লেনদেনের সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। ওই লক্ষ্যে এনবিআরের ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলকে শক্তিশালী করতে স¤প্রতি তা পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এনবিআরের কাছে রয়েছে শতাধিক কোম্পানির আন্তর্জাতিক লেনদেনের তথ্যসহ নথিপত্র। তার মধ্য প্রাথমিকভাবে নিরীক্ষা করা হবে লেনদেনে সন্দেহ রয়েছে এমন কোম্পানির তথ্য। ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লেনদেনে স্বচ্ছতার পাশাপাশি কর ফাঁকি ধরা সম্ভব হবে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর শাখা কোম্পানি সুদ, মুনাফা, কোনো সম্পদ কিংবা কোনো পণ্যের মূল্য মূল কোম্পানিতে পাঠায়। তাছাড়া পণ্য বা সেবা আমদানির মূল্যও মূল কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানিকে পাঠায়। তা ট্রান্সফার প্রাইসিং হিসেবে পরিচিত। তবে পণ্যের দর কম বা বেশি দেখিয়ে কিংবা মুনাফার অর্থ প্রেরণে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে কর ফাঁকির পাশাপাশি অর্থপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, এর ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে থাকে। কিন্তু কার্যকর কোনো উপায় না থাকায় ওসব কর ফাঁকি অধরাই থেকে যাচ্ছে। সাধারণত যেসব দেশে কর হার বেশি, সে দেশের প্রতিষ্ঠান থেকে নানা কৌশলে কর হার কম- এমন দেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। তাতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ে, কিন্তু কর কম দিতে হয়। এটি এক ধরনের অর্থপাচার। তাতে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত বেশি কর রয়েছে এমন দেশগুলো। এভাবে বিশ্বজুড়ে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি কর এড়িয়ে যায় বা কর ফাঁকি দেয়।
সূত্র জানায়, এদেশে কর্মরত বহুজাতিক কোম্পানিসহ আন্তর্জাতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত কর আদায়ের লক্ষ্যে সরকার ২০১২ সালে ট্রান্সফার প্রাইসিং আইন প্রণয়ন করে। তবে ২০১৪ সালে তার কার্যক্রম শুরু করে। ওই লক্ষ্যেই ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল গঠন করা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লেনদেন সংক্রান্ত নথি বিশেষায়িত নিরীক্ষা করা শুরু হয়নি। এ কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্যে স¤প্রতি ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল পুনর্গঠন করা হয়। এনবিআরের প্রথম সচিব শব্বির আহমেদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের ওই সেল নতুন করে অডিট কার্যক্রম তদারক করবে। আর চলতি অর্থবছরের মধ্যেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেনকারী কোম্পানিগুলো অডিট কার্যক্রম শুরু করা হবে। বছরে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা আন্তর্জাতিক লেনদেন হয় এমন ১শ’ থেকে ১২০টি কোম্পানি এনবিআরের কাছে তাদের সব লেনদেনের বিবরণী পাঠায়। যদিও দেশে বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা প্রায় পৌনে ২শ’। প্রাথমিকভাবে তার মধ্য থেকেই সন্দেহজনক লেনদেনকারী বা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা কোম্পানির তথ্য যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে। যে সব কোম্পানির লেনদেনে সন্দেহ তৈরি হবে, সেগুলোতে বিশেষায়িত অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সূত্র আরো জানায়, বিদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ধরনসহ যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। ওই প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত দাম দিয়েই পণ্য আমদানি করেছে কিনা তা বছর শেষে যাচাই-বাছাই করবে এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটি যে পণ্য আমদানি করেছে সেই পণ্যের বাজারমূল্য নির্ধারণ করবেন কর কর্মকর্তারা। এ কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বচ্ছতা আসবে। আর বহুজাতিক কোম্পানি ছাড়াও আন্তর্জাতিকভাবে লেনদেন করে এমন প্রতিষ্ঠানের উপর একটি জরিপ চালিয়ে ৯২১টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে শুধু শাখা কোম্পানি এবং মূল কোম্পানি ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের নামে কারসাজির সঙ্গে জড়িত এমন নয়। অন্য কোন কোম্পানি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেও মূল্য কারসাজি করে থাকে। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশ কাক্সিক্ষত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। বেশিরভাগ বহুজাতিক কোম্পানি মূলত আমদানিতে বাড়তি মূল্য দেখানোর মাধ্যমে কর ফাঁকি এবং অর্থপাচার করে। ২ ডলারের পণ্য আমদানিতে হয়ত ১০ ডলার দেখায়। তার বাইরে আরো অনেক উপায়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর একটি অংশ কর ফাঁকি দেয়। এভাবে ফলে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দেয়া সম্ভব।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি ঠেকাতে বেশ আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করা হলেও এই অঞ্চলের দেশগুলো তাতে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ভারতে ২০০১ সালে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ার পর কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ সালে। শ্রীলঙ্কায় শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। বাংলাদেশ আরো পিছিয়ে রয়েছে। দেশে ২০১২ সালে এ সংক্রান্ত আইন হলেও কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছর।

Image Gallary

 
1 / 3
   
Caption Text
 
2 / 3
   
Caption Two
 
3 / 3
   
Caption Three