পর্দা উঠল ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের

পর্দা উঠল ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের

admin May 30, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল ক্রিকেট বিশ্বকাপের। ব্রিটেনের মধ্য লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার শহর ও বাকিংহাম প্রাসাদের মধ্যের সড়ক দ্য মলে স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০ টায় বিশ্বকাপের জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে।


শুরুতেই প্রতিটি দলের দুজন করে প্রতিনিধিকে ডেকে নেন উপস্থাপক। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় দলের ‘সাবেক’ হয়ে যাওয়া তারকা ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। পাকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেন ক্রিকেটার আজহার আলী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নারী মালালা ইউসুজাই।


বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণকারী ১০টি দলের প্রতিনিধিদের খোলা সড়কে ৬০ সেকেন্ডের মায়াবী ক্রিকেটে মুগ্ধতা ছড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়। সেই সুযোগ সবাই লুফে নেন। টেবিল টেনিসের বলে খেলা সেই এক মিনিটের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দল ইংল্যান্ড।


মজার ক্রিকেটে জয়া আহসান মাত্র একটি বলে ব্যাট লাগাতে সক্ষম হন। তবে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০৭টি উইকেট শিকার করা বাঁ-হাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের বদৌলতে ২২ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।


বাংলাদেশের চেয়ে একধাপ পিছিয়ে ছিল ভারত। কিংবদন্তি স্পিনার অনিল কুম্বলে এবং জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহানা আখতার মাত্র ১৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।


৬০ সেকেন্ডের মজার ক্রিকেট শেষে জনপ্রিয় অভিনেত্রী লরিন গেয়ে শোনান ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের থিম সং ‘স্ট্যান্ড বাই...’। পাশে থেকো সারা বিশ্বের ক্রিকেটানুরাগীদের ইংল্যান্ডের আহবান, পাশে থেকো। কাছে থেকো।


এরইমাঝে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটাও হাতে নিয়ে মঞ্চে রাখেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার অ্যান্ড্র ফ্লিনটফ।


তার আগে দ্য মলের শেষ মাথায় লন্ডনের বিখ্যাত বাকিংহাম রাজ প্রাসাদের ১৮৪৪ কক্ষে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ১০টি দলের অধিনায়ক। তাদের মাঝে লাল-সবুজের পতাকা বহনকারী মাশরাফি মুর্তজাকে দারুণ সপ্রতিভ দেখাল।

একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি সাদেক কুরাইশী

admin May 30, 2019

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
দেশে যখন খাদ্য সঙ্কট, মানুষের দ্বাারে দ্বারে অভাব, খেয়ে না খেয়ে মানুষ যখন জীপন যাপন করছিলো। উচ্চশিক্ষা অর্জন যে সময় অনিশ্চিত চাওয়া ছিলো শিক্ষার্থীদের। সে সময়ে বাংলাদেশের মানচিত্রের ছোট্ট জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেন তিনি। এ জেলাতেই শৈশব, কৈশর কাটিয়ে বেড়ে উঠা তাঁর। এ অঞ্চলের মানুষের সেই দুঃসমের চিত্র তাঁর মনে ছাপ ফেলে। তখনই বুকের ভেতর স্বপ্ন বুনে একটি স্বচ্ছল দিনের। যেখানে মানুষ না খেয়ে থাকবেনা আর শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেনা কোন শিক্ষার্থী।


তাঁর জন্মস্থানে তারই শৈশব ও কৈশরকাল খুঁজতে গিয়ে মিলেছে নানা অজানা তথ্য। তিনি তখন থেকেই ভাবতেন দেশ ও দেশের মানুষের জীবন মান কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সে কথা? নিজের জন্মভূমিতে প্রতবেশীদের অভাব অনটন আর মানুষের জীবনের সঙ্কটময় সময় তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে। মানুষের দুঃসময়ে শৈশবকাল থেকে এখন পর্যন্ত নিজেকে উজার করছেন তিনি। এমনকি নিজের টিফিনের টাকা জমিয়ে মেধাবী গরীব সহপাঠীদের লেখাপড়ার জন্য করেছেন নানা রকম সাহায্য সহযোগীতা। সে সময় থেকেই তিনি এলাকার একটি সোনার টুকরো ছেলে। যিনি ভাবেন অসহায় প্রতিবেশী, সহপাঠী আর গরীব মেহনতী মানুষদের নিয়ে। এমনই অজানা তথ্য এই প্রতিবেদককে জানাচ্ছিলেন তাঁরই একাধিক প্রতিবেশী ও সহপাঠী।


আরও জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত তিনি। মানুষের সেবায় নিজেকে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত করতে প্রস্তুত তিনি। সে ইচ্ছা ও মানুষের পাশাপাশি থেকে মানুষের অধিকারে কথা বলতে করেছেন ছাত্র রাজনীতি। অনেক মেধা, শ্রম ত্যাগের বিনিময়ে তিনি আজ একজন আপাদমস্তত রাজনীতিবিদ। তাঁর রাজনীতি জীবন যাত্রা শুরু হয়ে আজও থামেনি। পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি কোনোদিন।



তিনি তার রাজনৈতিক দলকে সুসংগঠিত করেছেন। কাঙ্খিত লক্ষ্যেও নিয়েছেন প্রিয় দলকে। নজর কেড়েছেন দলের শীর্ষ নেতাসহ সভানেত্রী শেখ হাসিনারও। এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি জেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের ছিলেন কাণ্ডারি। তিনি হলেন-ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী।


তিনি ১৯৬০ সালের ৩১ শে আগস্ট ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ইসলাম নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছেন। এরপর ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম শ্রেণি পড়েছেন বর্তমান ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর ১৯৭৫ সালে ঠাকুরগাঁও রোডের ইসলাম নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর ১৯৭৭ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ১৯৭৯ সালে বিএ পাস করেন মুহা. সাদেক কুরাইশী।


সরকারি কলেজে পড়াকালে ছাত্ররাজনীতি করেন। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সামরিক আইন জারির সময় গণতন্ত্রের জন্য ছাত্রদের সুসংগঠিত করে সভা, সমাবেশ মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন সংগ্রামেও লিপ্ত ছিলেন তিনি। সে সময় অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় আন্দোলনে আরও কার্যকরি হন মুহা. সাদেক কুরাইশী। আন্দোলনের পর পুনঃরায় চাকরিতে যোগদান করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ। ১৯৮২-৮৩ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ১৯৮৪-৮৬ সাল পর্যন্ত জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তার নেতৃত্বে যুবলীগ হয়ে ওঠে গঠনমূলক ও শক্তিশালী। তার দক্ষতা ও নেতৃত্বের অগ্রগতিতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন। পরে চলে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে।


১৯৯১ সালে দায়িত্ব পান প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের। ১৯৯৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে দলীয় কোন্দলে দল জড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্র থেকে ভেঙ্গে দেয়া হয় কমিটি। সেই সময় ছিল দলের দুঃসময়। দলের ভার পড়ে যায় তার কাঁধে। সাদেক কুরাইশী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদে থেকে তিনি দলের কোন্দল দূর করে সুসংগঠিত করেছেন। দিনরাত শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চষে বেড়িয়েছেন। ২০০৫ সালের দলীয় কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাদেক কুরাইশী। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।


২০১১ সালের ডিসেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন সাদেক কুরাইশীকে। নিয়োগ প্রাপ্তির পর জেলা পরিষদ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা পাল্টিয়ে ইতিবাচকে নিয়ে এসেছেন। দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জেলার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ম্যুরাল ও স্মৃতি ফলক স্থাপন করেছেন জেলা পরিষদ থেকে।


জেলার ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ সম্বলিত ম্যুরাল, জাতীয় চার নেতার ছবি সম্বলিত ম্যুরাল, জেলা পরিষদ হল রুমের সামনে ৭ বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল, ডাকবাংলো হলের সামনে ও নেকমরদ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজে নির্মাণ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ম্যুরাল। এছাড়াও জেলা পরিষদের অর্থায়নে মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, এডিবির উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মুহা. সাদেক কুরাইশী। বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার অনগ্রসর এলাকা চিহ্নিত করে সুপেয় পানির জন্য শতাধিক স্থানে টিউবয়েল স্থাপন করেছেন। সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলা কর্মকান্ডের জন্য জেলা পরিষদ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দেয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তা।


সর্বশেষ ২০১৫ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে আবারো ঠাকুরগাঁওজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।


তিনি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য নির্মূলে দলীয় অবস্থান থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত দূর্গ গড়ে তুলেছেন। সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তিনি জনগণকে এক্যবদ্ধ করেছেন। সকল অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন।


উল্লেখ্য সাদেক কুরাইশী ২০০৯ সালে প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ দিনের সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারণ পরিষদে যোগ দেন। ২০১৫ সালেও কোরিয়া ও চীনে সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ পান।


সাদেক কুরাইশীর রাজনৈতিক উত্থান কোন গল্প নয় একটি বাস্তব ইতিহাস। তাঁর নিরলস ও কঠোর পরিশ্রমে দল আজ গোছানো। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের মানুষ তাকে ভালো মানুষ হিসেবে চেনে এবং জানে। এক কথায় বলতে গেলে আ. লীগকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাণ্ডারী হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও মানুষের নেতা মুহা. সাদেক কুরাইশী। তাই দলীয় নেতাকর্মীসহ এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চাওয়া ও বিশ্বাস যে, জননেতা সাদেক কুরাইশী একদিন ভবিষ্যতে রাজনীতির আরও ভালো স্থানে গিয়ে নেতৃত্ব দেবে এবং এভাবেই মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে তাঁর সকল ভালো কাজের জন্য তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন প্রত্যেকটি মানুষের অন্তরে।

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে রংপুরের তৈরি টুপি

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে রংপুরের তৈরি টুপি

admin May 30, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
ঈদকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদার কারণে কঠোর পরিশ্রম করে টুপি তৈরি করছেন রংপুরের টুপি শ্রমিকরা। টুপি শ্রমিকদের নিপুন হাতের কারুকার্য সম্বলিত টুপি এখন ওমান, সৌদি আরব, কাতার ও জাপানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। আর এতে করে গ্রামের হতদরিদ্র প্রায় ২৫ হাজার নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গৃহস্থলির কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরি থেকে আয় দিয়ে পরিবারগুলো দারিদ্র্য জয় করেছে।


রংপুরের পীরগাছা উপজেলার নব্দিগঞ্জ, ইটাকুমারীর হাসনা গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার নারী এ কাজ করছেন। শুধু পীরগাছা উপজেলায় নয়, রংপুর সদর, কাউনিয়া, লালমনিরহাটের তিস্তার চর, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা টুপি বানিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করেছেন। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতি গ্রামের হাফেজ আবদুল আউয়াল। তার টুপি ফ্যাক্টরির নাম দিয়েছেন ‘এমএইচ টুপি কারখানা’।


টুপি তৈরিতে আবদুল আউয়ালের সাফল্য সম্পর্কে জানা যায়, তিনি সিলেট টেক্সটাইল জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে চাকরি করতেন। পরে বদলি হয়ে আসেন কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলে। এরপর সরকার ২০০২ সালে বাধ্যতামূলক অবসরের ঘোষণা দিলে তিনি অবসরে যান। এসময় তিনি অবসরে যাওয়ার কারণে সরকার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পান। কিছুদিন বসে থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেন। এরপর মনে মনে ভাবেন, যে টাকা রয়েছে, তা টাকা দিয়ে এমন কিছু করবেন যাতে নিজে এবং সমাজের অবহেলিত মানুষও উপকৃত হয়। এ সময় তিনি জানতে পারেন তাদেরই গ্রামের পাশে ফেনী ও নোয়াখালী থেকে এসে টুপি বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অনেকে।


পরে ২০০৫ সালে তার পূর্বপরিচিত এক লোকের মাধ্যমে ফেনী চলে যান। সেখান গিয়ে তিনি ব্যবসায়ী আবুল খায়েরের কাছে প্রায় ২ মাস টুপি বানানোর প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তার কাছ থেকে ৩০০ পিস টুপি বানানোর কাপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে আসেন বাড়িতে। নিজে এবং বাড়ির পাশের কয়েক নারীকে সঙ্গে নিয়ে সেগুলোর কাজ শেষ করে আবার তা ফেনিতে পাঠিয়ে দেন। কাজ দেখে মালিক আবুল খায়ের বেশ খুশি হন। এ জন্য প্রতিটি টুপি তৈরি বাবদ তাকে দেওয়া হয় ৫শ’ টাকা। যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রতি টুপিতে তার লাভ হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এভাবে শুরু হয় তার ব্যবসা। অবসর থেকে পাওয়া ও জমি বন্ধকের প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে নিজেই কিনে ফেলেন মোটরচালিত ৫০টি সেলাই মেশিন। ওইসব মেশিন দিয়ে চলে টুপি সেলাই ও এম্ব্রয়ডারির কাজ। কাউনিয়ার বালাপাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে করেছেন অফিস ও কারখানা। আস্তে আস্তে তার ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকে।


কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের তহুরা বেগম। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। সংসারে জমি-জিরাত বলতে শুধু চার শতক ভিটা। তহুরা বলেন, স্বামী মজুরি দিয়ে সংসার চালাত। তিনি মারা যাওয়ার পর খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে কেটেছে সংসার। এরপর হাফেজ আউয়ালের টুপি তৈরির কারখানায় দেড় মাস প্রশিক্ষণ নেন। শুরু করেন টুপি বানানোর কাজ।


তিনি বলেন, এখন আর না খেয়ে থাকতে হয় না, ভালোই চলছে সংসার। তিনি জানান, তার কাজ হচ্ছে টুপির চারদিকে মোটা সুতা ঢোকানো। যাকে আঞ্চলিকভাবে বলা হয় হাসু। এতে তিনি পান প্রতিটি টুপির জন্য ২০ টাকা। এতে তার মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আয় হয়।


শহীদবাগ ইউনিয়নের ছাত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, যখন আমি একাদশ শ্রেণিতে পড়ি। এক সময় টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এখন আমি টুপি তৈরির কাজ করে আমার লেখাপড়ার খরচ চালাই। পাশাপাশি বাবা-মাকেও কিছু সংসার খরচ দিই।


কাউনিয়ার জয়ন্তী রাণী জানান, তার স্বামী একটি এনজিওতে কাজ করেন। বেতন খুব একটা বেশি পান না। তাই তিনি টুপিতে নকশার কাজ করেন। তিনি আরও জানান, মাসে তিনটির বেশি টুপিতে নকশা করা যায় না। তিনটি টুপি নকশা করে তার আয় হয় ১২শ’ টাকা, যা দিয়ে স্বামী আর এক মেয়েসহ ভালোভাবেই দিন কেটে যায়।


এমএইচ টুপি কারখানার সুপারভাইজার খোরশেদ আলম বলেন, আমরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে মহিলাদের সুতাসহ টুপি দিয়ে আসি নকশা করার জন্য। নকশা হয়ে গেলে তা আবার ফেরত নিয়ে আসি টাকা দিয়ে। এতে আমরা পাই প্রতি টুপি বাবদ ২০ টাকা।


মাহমুদিয়া হস্তশিল্প টুপি (এমএইচ টুপি) কারখানার মালিক হাফেজ আবদুল আউয়ালের ছেলে মাহামুদুল হাসান জানান, তার বাবা ব্যবসার প্রয়োজনে বেশির ভাগ সময় ওমানে থাকেন। ওমানের ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার সঙ্গে তাদের কয়েক বছর আগে চুক্তি হয়েছে। তখন থেকে সরাসরি তারা নিজেরাই ওমানে টুপি রফতানি করছেন। তিনি জানান, এখন সপ্তাহে সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ টুপি তৈরি হচ্ছে।


টুপির উৎপাদন খরচ ও বিক্রি প্রসঙ্গে মাহামুদুল হাসান জানান, সুতা, কাপড়, পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ, মজুরিসহ অন্যান্য খরচ মিলে একটি টুপিতে খরচ পড়ছে ৫শ’ থেকে ৫১৫ টাকা। ওমান পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ পড়ে ৬শ’ টাকা থেকে ৬১৫ টাকা। ওই টুপি তিনি বিক্রি করেন ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি টুপিতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা লাভ থাকছে।


তিনি বলেন, এনজিও থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। যার ওপর অনেক সুদ দিতে হয়। কম সুদে টাকা পাওয়া গেলে ব্যবসা আরও বাড়ানো যেত। আয়ও বেশি করা যেত। মাসে ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টুপি রফতানি করা হচ্ছে। এ থেকে মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। তবে সব মাসেই আয় এক রকম থাকে না।


তিনি বলেন, এই টুপিতে উন্নতমানের কাপড়ের ওপর বাহারি সুতার কাজ করা হয়। ফলে কারুকার্য বেশি হওয়ায় টুপির দাম একটু বেশি পড়ছে। এ টুপি আমাদের দেশে বিক্রি হয় না। বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেই রফতানিযোগ্য করে এসব টুপি তৈরি করা হয়।

ঢাকা-টোকিও'র ২৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি

ঢাকা-টোকিও'র ২৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি

admin May 30, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বাংলাদেশের পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা বিষয়ে জাপানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) জাপানে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে চুক্তি হয়। ঋণচুক্তির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এ সময়ে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


জাপানের বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রীকে জাপানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যৌথ বিবৃতি দেন।


বাংলাদেশ মিশন আরও জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের উন্নয়নে ২৫০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা নিয়ে জাপানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হচ্ছে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন, ঢাকার যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প (ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট- লাইন ওয়ান), বৈদেশিক বিনিয়োগে উৎসাহিত করা সংক্রান্ত প্রকল্প (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন প্রজেক্ট টু), জ্বালানি খাতের উন্নয়ন (এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড কনজারভেশন প্রমোশন ফিন্যান্সিং প্রজেক্ট ফেইজ টু) এবং মাতারবাড়ি কয়লা উন্নয়ন প্রকল্প (মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড পাওয়ার প্রজেক্ট ফাইভ)।


জাপান সরকারের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী গত ২৮ মে থেকে টোকিও সফরের রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি ও শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টরা সরকারি কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কাউনিয়ায় পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

কাউনিয়ায় পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

admin May 30, 2019
কাউনিয়া প্রতিনিধি, রংপুর:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিভৃত পল্লীতে পানিতে ডুবে এক শিশু মারা গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, বুধবার (২৯ মে) উপজেলার উত্তর রাজীব গ্রামে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী তার এক বছর বয়সী ছেলে সিফাতকে উঠানে রেখে কাজ করতে গেলে একপর্যায়ে শিশু সিফাত সবার অজান্তে বাড়ির পাশে পুকুরে পড়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে।

সিফাত গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র। ইউপি সদস্য রমজান আলী বাবু ঘটানার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা

নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা

admin May 30, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও আওয়ামী লীগের দুই স্থানীয় নেতাসহ মোট ১৬ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে ফেনীর আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এতে প্রত্যেক আসামির মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ সিরাজকে আসামি করা হয়েছে নুসরাতকে হত্যার ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে।


পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয়েছে ৯২ জনকে। তাদের মধ্যে সাতজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আর আসামিদের মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ১২ জন।


১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে চার্জশিট চূড়ান্ত সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল। এই ১৬ আসামির মধ্যে ৩ জন নুসরাতের সহপাঠী। এরা হলেন- কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ও জাবেদ হোসেন।


এছাড়া শাহাদাত হোসেন ও জোবায়ের আহমেদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন বলে উঠে এসেছে আসামিদের জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে ঢাকায় বদলি

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে ঢাকায় বদলি

admin May 30, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
ঢাকা ও রংপুরে নতুন বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার এ নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।


আদেশ অনুযায়ী, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


অপরদিকে ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার (সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার হিসেবে বদলির আদেশাধীন) কে এম তরিকুল ইসলামকে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।


এছাড়া ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে আসা অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী আজমকে রোববার কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগ দেয়া হয়।

রংপুরে দুস্থদের মাঝে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘প্রতিজ্ঞা’র ইফতার বিতরণ

admin May 30, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রতিদিন বিকেল হলেই ইফতারের প্যাকেট হাতে ওরা ছুটে বেড়ান পাড়া-মহল্লার অসহায় দুস্থদের খোঁজে। কখনো বা বাস টার্মিনালে, রিকশা স্ট্যান্ডে নতুবা রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে। দুস্থ গরীবদের হাতে হাতে তুলে দেয় ইফতারের প্যাকেট।


বুধবার বিকেলেও একই কর্মসূচি নিয়ে ওরা এসেছিল রংপুর মহানগরীর শ্রমিক অধ্যুষিত শাপলা চত্বর এলাকায়। দেড় শতাধিক দুস্থ ও গরীবসহ অসহায় শ্রমিকদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছে তারা। বলছিলাম একঝাক তরুণের সমন্বয়ে গড়া স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘প্রতিজ্ঞা’র কথা।


এই সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ও আহ্বায়ক নুর হোসেন সুজন জানান, ‘আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই দুস্থ অসহায় মানুষদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সেই লক্ষ্য নিয়েই মাহে রমজানে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাজারের বেশি দুস্থ ও শ্রমিকদের ইফতার দেয়া হয়েছে।’




[caption id="" align="aligncenter" width="720"]স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘প্রতিজ্ঞা’র ইফতার বিতরণ। স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘প্রতিজ্ঞা’র ইফতার বিতরণ।[/caption]

ইফতার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান স্বাধীনসহ প্রতিজ্ঞার মাহাফুজ্জামান রাকিব, সৌরভ, রাকিবুল ইসলাম, পাপ্পু, রাজন, শফিক, সেতু, সিউল, মেরাজ, সাব্বির, আদিল, রুপম, রাহাদ, আরিফ প্রমুখ।


এদিকে প্রতিজ্ঞার ইফতার প্যাকেট পেয়ে খুশি রিক্সাচালক আবুল হোসেন। সে শ্যামপুর থেকে রংপুর নগরীতে এসে ভাড়ায় চালিত রিক্সা চালায়। তার মত অনেক শ্রমিক আজ ইফতার প্যাকেট পেয়েছেন। প্রতিজ্ঞার জন্য অনুভূতি প্রকাশে তাদের সামান্য হাসিতে ছিল পরিতৃপ্তির আভাস।




[caption id="" align="aligncenter" width="720"]স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘প্রতিজ্ঞা’র ইফতার বিতরণ। স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘প্রতিজ্ঞা’র ইফতার বিতরণ।[/caption]
কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত

কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত

admin May 30, 2019

কাউনিয়া প্রতিনিধি, রংপুর:
রংপুরের কাউনিয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বালাপাড়া ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (২৯ মে) কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আলোচনা সভায় বালাপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম সেলিম, সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ন সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল কাদের, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাসান, বালাপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সম্পাদক দিলদার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহাম্মেদ লাকু, হারাগাছ পৌর আ.লীগের সভাপতি জামিল আকতার প্রমূখ।


এছাড়াও আ.লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।

গাইবান্ধায় দোকানে বাসের ধাক্কা, আহত ৫

গাইবান্ধায় দোকানে বাসের ধাক্কা, আহত ৫

admin May 30, 2019
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গোবিন্দগঞ্জে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের কয়েকটি দোকানে আঘাত করেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ১৪-৪৭৯৭) বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ফাঁসিতলা বাজারের কয়েকটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে তিন যাত্রীসহ পাঁচজন আহত হন। সেই সঙ্গে বাজারের মসজিদের পাশের তিনটি দোকানের অবকাঠামো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ রতন শর্মা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
দুই জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৬

দুই জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৬

admin May 29, 2019

বাগেরহাট ও কুমিল্লায় পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ৬ জন নিহত হয়েছে। জানা যায়, বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়া-মরাপশুর খাল এলাকায় র‌্যাব-৮ এর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুখ্যাত বনদস্যু হাসান বাহিনীর প্রধান হাসানসহ ৪ বনদস্যু নিহত হয়েছেন। এসময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র -গোলাবারুদ ও বনদস্যুদের ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।


র‌্যাব ৮ এর কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তাজুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যুদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় র‌্যাবের একটি দল মঙ্গলবার রাতে অভিযানে নামে। অভিযানিক দলটি রাত ১২টার দিকে সুন্দরবনের জোংলা খাল এলাকায় পৌঁছালে র‌্যাবকে লক্ষ করে বনদস্যরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে শুরু হয়ে যায় বন্দুকযুদ্ধ


‘থেমে-থেমে বেশ কিছু সময় বন্দুকযুদ্ধ চলার পর বনদস্যুরা পিছু হটে যায়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বনদস্যুদের ৪টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। এসময় আশে পাশে থাকা বনজীবিরা এসে চারটি মৃতদেহ হাসান বাহিনীর বলে জানায়। এদের মধ্যে হাসানকে সনাক্ত করে তারা।’


র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বনদস্যুদের ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।


অপরদিকে কুমিল্লায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন রুবেল (৩৪) ও সেলিম (৩৮)। তারা দুইজন মাদকব্যবসায়ী বলে দাবি করছে বিজিবি।


মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলার চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার নাটাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।


নিহত রুবেল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগণ্ডা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে এবং সেলিম (৩৬) একই উপজেলার শালুকিয়া (আদর্শগ্রাম) গ্রামের আলী আহাম্মদের ছেলে।


বিজিবি জানায়, নিহত রুবেল ও সেলিম বিজিবি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। পৌর এলাকার নাটাপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী রুবেল ও সেলিমসহ তাদের সহযোগীরা অবস্থান করছে এমন গোপন খবর পেয়ে বিজিবি সেখানে অভিযান চালায়। মাদক ব্যবসায়ীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।


বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে রুবেল ও সেলিম নামে ২ মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে আহত মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ১৫৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে।

ক্লিয়ারের দক্ষিণ এশীয় শুভেচ্ছাদূত নুসরাত ফারিয়া

ক্লিয়ারের দক্ষিণ এশীয় শুভেচ্ছাদূত নুসরাত ফারিয়া

admin May 29, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ-দুই বাংলাতেই রয়েছে নায়িকা ফারিয়ার পরিচিতি। তবে এবার পুরো দক্ষিণ এশিয়ার টিভি দর্শকরা চিনতে যাচ্ছেন তাকে।


কারণ, ইউনিলিভার পণ্যের সাউথ এশীয় শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন এই তারকা। প্রতিষ্ঠানটির ক্লিয়ার শ্যাম্পুর জন্য এর সঙ্গে যুক্ত হলেন তিনি। যার ফলে বাংলাদেশের প্রথম কোনও তারকা ইউনিলিভার পণ্যের দক্ষিণ এশীয় শুভেচ্ছাদূত হলেন!


সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়েফারিয়া বলেন, ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত যে এমন কাজে যুক্ত হচ্ছি। আমার ক্যারিয়ারে এটা অন্যরকম প্রাপ্তিই বলবো। আজকেই তাদের একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়ার হবে। আর আগামীকাল থাইল্যান্ডে যাবো। সেখানে ক্লিয়ারের বিজ্ঞাপনচিত্রটি তৈরি হবে।’


ফারিয়া জানান, বিজ্ঞাপনে কাজ করবে সিঙ্গাপুরের পরিচালক দল। শুটিং হবে থাইল্যান্ডে। আপাতত এটি প্রচার হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকায়।


ফারিয়া গত মার্চে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। তেলের সেই বিজ্ঞাপনচিত্রটির দৃশ্যধারণ হয়েছিল মুম্বাইয়ে।
এছাড়া তিনি দেশটির টলিউডের ‘বিবাহ অভিযান’ ছবির কাজ করছেন। এতে তার বিপরীতে আছেন অঙ্কুশ হাজরা।


দেশে সম্প্রতি কাজ করেছেন শাকিব খানের সঙ্গে ‘শাহেনশাহ’ ছবিতে। শামিম আহমেদ রনী পরিচালিত এ ছবিটি কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড: মামলার চার্জশিটে হত্যার বর্ণনা

ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড: মামলার চার্জশিটে হত্যার বর্ণনা

admin May 29, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে ২৯ মে, বুধবার। চার্জশিটে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানানো হয়েছে। ২৮ মে, মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)।


আদালতে ১২ জন আসামির দেওয়া জবানবন্দী ও ৯২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার পূর্ণাঙ্গ চার্জ শিট দিচ্ছে পিবিআই। যেখানে এ হত্যার ঘটনায় মোট ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে হত্যার হুকুমদাতা হিসেবে আসামি করা হয়েছে এবং ১৬ জন আসামির প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।


অভিযোপত্রে উল্লেখ থাকা আসামিরা হলেন- এস এম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫) এবং মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।


চার্জশিট অনুযায়ী, ১৬ জন আসামি পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এদের মধ্যে দলনেতা নির্দেশনা প্রদান করে জেল থেকে এবং সহায়তা ও কর্মপরিকল্পনা সম্পন্ন করে আওয়ামী লীগ নেতা, শিক্ষার্থীসহ বাকি ১৫ জন। এই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হত্যাকারীরা সময় নেয় ৩ দিন।


সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান ও পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, “গত ২৭ মার্চ সকালে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পুলিশ ওই দিনই মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।”


“এরপর অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার মুক্তি দাবিতে ‘মুক্তি পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হন শাহাদাত হোসেন শামীম। তাদের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে গত ২৮ ও ৩০ মার্চ উপজেলা সদরে দুই দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।”


পিবিআই প্রধান বলেন, “অপরদিকে নুসরাতকে শ্লীলতাহানি চেষ্টা করায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিচারের দাবিতে গত ২৮ মার্চ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একাংশ মানববন্ধন করলে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়াও, মাদ্রাসার আইসিটি পরীক্ষার ভাইভাতে সবাইকে ফেল করানোরও হুমকি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে আর কোনো প্রতিবাদ জানায়নি।”


পিবিআই থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উঠে আসা নুসরাত হত্যার বর্ণনায় বলা হয়, ‘মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফির করা অভিযোগ ও মামলায় সিরাজ উদ দৌলা গ্রেপ্তার হলে তার অনুগত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। গত ১ এপ্রিল আসামী শাহাদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, ইমরান, হাফেজ আব্দুল কাদের ও রানা আসামি সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে জেলখানায় দেখা করে। সেখানে সিরাজ উদ দৌলা তার মুক্তির বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালাতে ও মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে চাপ দিতে নির্দেশনা দেয়।


হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরও মামলা তুলে না নিলে আসামিরা নুসরাতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এছাড়া আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্ষুব্ধ ছিলো। ফলশ্রুতিতে শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ ও রুহুল আমিনের সঙ্গে আলোচনা করে নুসরাত জাহান রাফিকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রয়োজনে যেকোনো কিছু করার পরিকল্পনা করে।


পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাউন্সিলর মাকসুদ এ কাজে শাহাদাত হোসেনকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে। উক্ত টাকা দিয়ে শাহাদাত হোসেন শামীম পরিকল্পনা মোতাবেক তার দূর সম্পর্কের ভাগ্নি কামরুন্নাহার মনিকে দিয়ে দুইটি বোরখা ও ৪ জোড়া হাতমোজা কেনায়। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ কয়েকজনকে নিয়ে জেলখানায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে। সেখানে সিরাজ উদ দৌলা তাদের নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রয়োজনে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ প্রদান করে এবং হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।


৪ এপ্রিল পরিকল্পনা মোতাবেক বিকাল আনুমানিক ৩ টায় মাদ্রাসার পাশের টিনশেড কক্ষে আসামী শাহাদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, জোবায়ের, জাবেদ, পপি ও কামরুন্নাহারসহ আরও কয়েকজন মিটিং করে এবং নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। একই দিন রাত সাড়ে ৯টায় পুনরায় মাদ্রাসার ছাত্র হোস্টেলে নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ এপ্রিল বিকাল ৫টায় ভূঁইয়া বাজার থেকে আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ১ লিটার কেরোসিন তেল কিনে নিজের কাছে রেখে দেয়।


৬ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে শামীম, নুর, কাদের মাদরাসা প্রাঙ্গণে আসে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮টা থেকে ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যে আসামিরা যার যার অবস্থানে চলে যায়। শামীম পলিথিনে করে নিয়ে আসা কেরোসিন তেল ও অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে থেকে একটি কাঁচের গ্লাস নিয়ে ছাদের বাথরুমের পাশে রেখে দেয়। মনির কেনা দুটি ও বাড়ি থেকে নিয়ে আসা একটি মোট ৩টি বোরখা ও ৪ জোড়া হাতমোজা নিয়ে সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় তলায় রাখে। শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের সাড়ে ৯টার দিকে বোরখা ও হাত মোজা পরিধান করে তৃতীয় তলায় অবস্থান করে।


নুসরাত পরীক্ষা দিতে আসলে পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্বে অবস্থান করা উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতকে তার বান্ধবীকে মারধরের কথা বলে। নুসরাত দৌড়ে ছাদে যেতে থাকে। নুসরাত দ্বিতীয় তলায় পৌঁছালে পপি নুসরাতকে হুজুরের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বলে ও ভয় দেখায়। নুসরাত মামলা তুলবে না বলতে বলতে পপির সাথে ছাদে উঠলে মনি, শামীম, জোবায়ের ও জাবেদ নুসরাতের পিছনে ছাদে যায়। ছাদে তারা নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে।


নুসরাত স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়। শামীম বাম হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরে এবং ডান হাত দিয়ে নুসরাতের হাত পিছন দিকে নিয়ে আসে। পপি নুসরাতের গায়ের ওড়না খুলে জোবায়েরকে দিলে জোবায়ের ওড়না দু’ভাগ করে ফেলে। ওড়নার এক অংশ দিয়ে পপি ও মনি নুসরাতের হাত পিছনে বেধে ফেলে, অন্য অংশ দিয়ে জোবায়ের নুসরাতের পা পেঁচিয়ে ফেলে। জাবেদ পায়ে গিঁট দেয়। সকলে মিলে নুসরাতকে ছাদের ফ্লোরে ফেলে দিলে শাহাদাত নুসরাতের মুখ ও গলা চেপে রাখে।


মনি নুসরাতের বুকের ওপর চাপ দিয়ে ধরে এবং পপি ও জোবায়ের পা চেপে ধরে। জাবেদ পাশের বাথরুমে লুকানো কেরোসিনের পলিথিন থেকে কাচের গ্লাসে কেরোসিন নিয়ে নুসরাতের পুরো গায়ে ঢেলে দেয়। শামীমের ইশারায় জোবায়ের ম্যাচ দিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরিয়ে প্রথমে জোবায়ের ছাদ থেকে নামে, এরপর পপি ছাদ থেকে নেমে যেতে থাকে। ওই সময় পূর্বের শিখানো মতে মনি; পপিকে ‘কাম কাম চম্পা/শম্পা’ বলে ডেকে নিচে নেমে যায়। মনি ও পপি নিচে নেমে পরীক্ষার হলে ঢুকে যায়। জাবেদ ও শামীম সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় তলায় গিয়ে বোরখা খুলে ফেলে। জাবেদ শাহাদাতকে তার বোরখা দিয়ে দ্রুত নেমে পরীক্ষার হলে ঢুকে। শামীম নেমে মাদরাসার বাথরুমের পাশ দিয়ে চলে যায় ও মাদরাসার পুকুরে বোরখা ফেলে দেয়। জোবায়ের সাইক্লোন সেন্টার থেকে নেমে মাদরাসার মূল গেট দিয়ে বের হয়ে যায় এবং বোরখা ও হাতমোজা সোনাগাজী কলেজের ডাঙ্গি খালে ফেলে দেয়। নুর সাইক্লোন সেন্টারের নিচে থেকে পুরো ঘটনার তদারকির দায়িত্ব পালন করে।


পিবিআই প্রতিবেদনে বলা হয়, এছাড়া আসামি মহিউদ্দীন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম সাইক্লোন সেন্টারের দুই সিঁড়ির সামনে পাহারারত থাকে। মাদরাসার মূল গেইটের পাশে ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ ও হাফেজ আব্দুল কাদের পাহারারত থাকে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর আসামিরা নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালায়।


নুসরাত অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিচে নেমে আসতে থাকলে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল ও নাইটগার্ড আগুন নেভায়। ওই সময় নুরও নুসরাতের গায়ে পানি দেয় এবং কাদের নুসরাতের ভাই নোমানকে ফোনে সংবাদ দেয়। পরবর্তীতে নুসরাতকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুকালীন জবানবন্দী প্রদান করে। উক্ত জবানবন্দীতে তাকে অগ্নিদগ্ধ করার ঘটনাটি একইভাবে বর্ণিত হয়েছে।


গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। বোরকা পরিহিত কয়েকজন কৌশলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।


১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পর দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ পর্যন্ত রাফি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২২ জনের মধ্যে সিরাজউদ্দৌলাসহ ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রুহিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

রুহিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

admin May 29, 2019

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মো. শফিকুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। ২৭ মে (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মো. শফিকুল ইসলাম (৮৫) ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন (ইন্না .... রাজেউন)।


মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় সদর উপজেলার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কানিকশালগাও গ্রামের পলাশ বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাযা শেষে তাকে তার পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।


এর আগে তাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সন্মান গার্ড অব অর্নার প্রদান করেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একটি চৌকষ দল । এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহা. সাদেক কুরাইশি, ভারপ্রাপ্ত জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার বদরুদ্দোজা (বদর), সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায়, ২০নং রুহিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অনিল কুমার সেন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এর সকল মুক্তিযোদ্ধাগন।


বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মো. শফিকুল ইসলাম ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৬ নম্বর সেক্টরের অধিনে যুদ্ধ করেন।


বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মো. শফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন- ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রমেশ চন্দ্র সেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহা. সাদেক কুরাইশি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাগণ।

শপথ নিলেন রংপুর বিভাগের নব-নির্বাচিত ৫ উপজেলা জনপ্রতিনিধি

শপথ নিলেন রংপুর বিভাগের নব-নির্বাচিত ৫ উপজেলা জনপ্রতিনিধি

admin May 29, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের নব-নির্বাচিত পাঁচ উপজেলা জনপ্রতিনিধি শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারী তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।


জনপ্রতিনিধিরা হলেন- লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন সরকার, নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন আক্তার, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আ. ওয়াহেদ বাহাদুর ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম আলপোনা।


প্রতিনিধিদের মধ্যে আদিতমারী উপজেলার ভোট স্থগিত হয়ে পরবর্তীতে ৫ মে অনুষ্ঠিত হয় এবং কুড়িগ্রাম ও জলঢাকার ওই দু’জন প্রার্থী আইনি জটিলতার কারণে বিলম্বে এ পাঁচজনের সঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।


এ সময় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের কাছে ৯৫ রানে হারলো বাংলাদেশ

ভারতের কাছে ৯৫ রানে হারলো বাংলাদেশ

admin May 29, 2019

অনলাইন ডেস্ক:
মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাসের লড়াইয়ের পরও পরাজয় এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৬০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৯৫ রানে হেরে যায় মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন দলটি।


ভারতের ছুড়ে দেওয়া ৩৬০ রানের বিশাল টার্গেটে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলেন দুই টাইগার ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। কিন্তু দলীয় ৪৯ রানে বুমরাহ’র বল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক দীনেশ কার্তিকের গ্ল্যাভসে জমা হলে সম্পন্ন হয় সৌম্য’র ২৫ রানের ইনিংস।


সৌম্য বিদায় নেওয়ার পর ক্রিজে আসেন সাকিব। কিন্তু বুমরাহ’র করা পরের বলেই ইয়র্কারে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এরপর তৃতীয় উইকেটে ১২০ রান যোগ করেন লিটন ও মুশফিক। অর্ধশতক তুলে নেন তারা। দলীয় ১৬৯ রানের মাথায় ৭৩ রান করে আউট হন লিটন। পরের বলেই আউট হন মিঠুন।


ক্রিজে বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি মাহমুদুল্লাহ। ৯ রান করে বিদায় নেন তিনি। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে সেঞ্চুরি মিস করেন মুশফিক। দলীয় ২১৬ রানে ব্যক্তিগত ৯০ রানে কুলদ্বীপ যাদবের বলে আউট হন তিনি।


মোসাদ্দেক হোসেন আউট হন পরের বলেই। ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় টাইগাররা। সম্পন্ন পর্যন্ত ২৬২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ভারতের চাহাল ও যাদব ৩টি, বুমরাহ ২টি এবং রবিন্দ্র জাদেজা ১টি উইকেট নেন।


এর আগে কার্ডিফের এই প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে লোকেশ রাহুল ও মহেন্দ্র সিং ধোনির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৫৯ রান সংগ্রহ করে ভারত।


বল হাতে বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন ৮ ওভারে ৬২ রান খরচে নেন ২ উইকেট। সমান ২ উইকেট নিয়েছেন স্পিনার সাকিবও। তবে ৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫৮ রান খরচ করেছেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান ৮ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। ১ উইকেট নিয়েছেন পার্ট-টাইম স্পিনার সাব্বির হোসেনও।


অধিনায়ক মাশরাফি ৬ ওভারে ২৩ রান খরচে উইকেট শূন্য ছিলেন। ৬ ওভার বল করে ২৭ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।


তবে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ বলেই হয়তো ৪ পেসারের কেউই তাদের কোটা পূরণ করেননি। এতে মূল আসরের আগে ইনজুরি শঙ্কা আছে। ফলে পেস বান্ধব পিচেও স্পিনারদের দিয়ে বেশি ওভার করেছেন মাশরাফি। এতে ভারতের রানের চাকায় বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি।


সংক্ষিপ্ত স্কোর


ভারত: ৫০ ওভারে ৩৫৯/৭ (ধোনি ১১৩, রাহুল ১০৮, কোহলি ৪৭; সাকিব ২/৫৮, রুবেল, ২/৬২)।


বাংলাদেশ: ৪৯.৩ ওভারে ২৬৪/১০ (মুশফিক ৯০, লিটন ৭৩, মিরাজ ২৭, সৌম্য ২৫; কুলদীপ ৩/৪৭, যুজবেন্দ্র চাহাল ৩/৫৫)।


ফল: ভারত ৯৫ রানে জয়ী।

নীলফামারীতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের পুনর্বাসনে জেলা পুলিশ

নীলফামারীতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের পুনর্বাসনে জেলা পুলিশ

admin May 29, 2019

নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। ইতোমধ্যে এসব মানুষদের পরিসংখ্যান করে একটি ডাটাবেইজ তৈরি করা হয়েছে। তারা যাতে সমাজের মূল স্রোতে প্রবেশ করে নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান (বিপিএম-বার, পিপিএম-বার) কাজ করছেন। তারই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নীলফামারীতেও চলছে উদ্যোগ বাস্তবায়ন।


পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তৃতীয় লিঙ্গের এসব মানুষদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন আয়বর্ধক মুলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে। এজন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তরের তত্বাবধানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে তাদের।


রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ নীলফামারী শহরের হাড়োয়া এলাকার কাজল মিয়া বলেন, ‘আমরা অবহেলিত থাকবো কেন, আমরাও তো ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য। আমরাও শিক্ষিত, বিদ্যা-বুদ্ধি সবই আছে।’ তাহলে আমরা বঞ্চিত কেন’। আমরা রাস্তায় হাঁটলে অন্যভাবে দেখা হয়, বলা হয় ওই যে হিজড়া যাচ্ছে’। আমরা এর-ওর কাছে দু’চার পয়সা নিয়ে খেয়ে বাঁচি থাকি।


তার দাবি, একবার আমাদের সুযোগ দিয়ে দ্যাখেন। আমরা করতে পারি কি-না। আমরাও অনেক ভালো করতে পারবো। আমরা খুঁজে খেতে চাই না। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অনেক সুযোগ করে দিয়েছেন।


ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের সোনাখুলি গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের টাইটেল দিয়েছেন ‘তৃতীয় লিঙ্গ’। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।


কিন্তু আমাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়, আমাদের হিজড়া বলে টিজ করা হয়। আমরা ভয় দেখিয়ে খাই না, বাচ্চাদের নাচিয়ে খাই। আমাদেরকে সমাজে ঘৃণা করা হচ্ছে। অথচ জনগণের টাকা দিয়েই কিন্তু আমরা বেঁচে আছি। এ জন্য পুলিশ যে উদ্যোগ নিয়েছে নিশ্চয় আমাদের পরিবর্তন ঘটবে।


নীলফামারী পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলায় ৫০ জনের তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারী সদরে ৫জন, সৈয়দপুরে ১৩জন, জলঢাকায় ২জন, ডোমারে ৫জন এবং কিশোরগঞ্জে ২৫ জন রয়েছেন।


পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের এসব মানুষদের সাথে কথা বলে আমরা দেখেছি, তারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়। মনোবল ও আগ্রহ রয়েছে তাদের মধ্যে। শুধু তদারকি এবং কর্মক্ষেত্র তৈরি করে দিতে পারলে সেটা সম্ভব।


এসপি আশরাফ পিপিএম বলেন, তারা যেভাবে উপার্জন করে চলেন এটি কোন সঠিক পথ নয়। তাদের পেশাগত জীবনে ফিরে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন চ্যালেঞ্জ। এজন্য আমরা এসব মানুষদের যোগ্যতা চাহিদা অনুযায়ী আয় বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি। এজন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসুচী রয়েছে, সেখানে তাদের সম্পৃক্ত করা হবে। যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।


তিনি বলেন, মুলত পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের ডিআইজি (প্রশাসন ও শৃঙ্খলা) ও সদ্য বদলী হওয়া ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে নীলফামারীতে কাজ শুরু করা হয়। তিনি উত্তোরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও। ঢাকায় বিউটি পার্লার, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছেন স্যার। এসব প্রতিষ্ঠানে ভালো করছেন পিছিয়ে থাকা এসব মানুষরা।


সম্প্রতি নীলফামারীতে তৃতীয় লিঙ্গের এসব মানুষদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান। দিয়েছেন শুভেচ্ছা উপহারও।


নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা হিজড়াদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ভাবে তাদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছেন। অন্য কেউ কিন্তু এদের নিয়ে ভাবেনি। তিনি বলেন, এসব মানুষদের জীবন মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। সহযোগীতা পেলে স্বাভাবিক মানুষগুলোর মত স্বাভাবিক জীবনেও তারা ফিরতে পারবে।

ঢাবির ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবীবের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী

ঢাবির ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবীবের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী

admin May 29, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আহসান হাবীবের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল বুধবার। তার ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার গ্রামের বাসা রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়ায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করেছে তার পরিবার।


২০১৫ সালের ২৯ মে বাড়ি থেকে ঢাকা যাবার সময় রংপুরের শ্যামপুর রেল স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। রংপুর সদরের পালিচড়া বকসিপাড়ার অধিবাসী সাবেক সমবায় কর্মকর্তা মফিজার রহমানের প্রথম ছেলে আহসান হাবীব ঢাবির পরিসংখ্যান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন।


আহসান হাবীব রংপুর কালেক্টর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও রংপুর ক্যান্ট পাবলিক থেকে স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। এরপর সেখানেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের আস্থাভাজন ছিলেন আহসান হাবীব।


তার রাজনৈতিক সহ-যোদ্ধারা জানা যায় তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রখর, ত্যাগী ছাত্রনেতা। মুজিব আদর্শ বুকে ধারণ করে তার নিজের ক্যাম্পাসের ছোট-বড় সকলের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন।


স্থানীয় এক আ.লীগ নেতা বলেন, হাবীব ছিল আমার এলাকার মেধাবীদের মধ্যে একজন। সে ছিল উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক। তার মৃত্যুতে যে শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবে না।


এদিকে ছাত্রলীগ নেতা মরহুম আহসান হাবীব এর ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে তার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তার একমাত্র ছোট ভাই সাংবাদিক হাসান আল সাকিব। তিনি বলেন, হাবীব ভাইয়া অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। তার জন্য সকলেই দোয়া করবেন।

Image Gallary

 
1 / 3
   
Caption Text
 
2 / 3
   
Caption Two
 
3 / 3
   
Caption Three