নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর এলাকার কুন্দল কেন্দ্রীয় শ্মশান সংলগ্ন খরখরিয়া নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। আজ ২৯ আগস্ট, বুধবার সকালে উদ্ধারকৃত ওই ব্যক্তির নাম আহসান হাবিব হৃদয় (৪০)। সে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী এলাকার বাসিন্দা সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক প্রকৌশলী মো: রুস্তম আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীতে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে তারা জীবিত আছে ভেবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে উদ্ধারকর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাকিয়া সুলতানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদয়কে গত রাত থেকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে নিয়মিত নেশা করতো। এ কারণে প্রায়ই রাত-বিরাতে বাড়ির বাইরে থাকতো। সে কারণে তারা তার নিখোঁজের ব্যাপারে তেমন একটা উদ্বিগ্ন ছিলনা।
ফায়ার সার্ভিস ও চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। তাছাড়া তার শরীর থেকে দেশীয় মদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। একারণে সন্দেহ করা হচ্ছে যে আহসান হাবিব হৃদয়ের মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত মদ পান হতে পারে। তবে লাশ নদীতে কেন এ নিয়ে এলাকাবাসীর ধারণা, সে গত ২৮ আগস্ট রাতে শহরের দেশীয় মদ ভাটি থেকে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় কুন্দল শ্মশান এলাকায় চলে আসে এবং রাতের যে কোন সময় সে নদীতে পড়ে যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা মুঠোফোনে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা হয়েছে এবং লাশ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পীরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বাতিলের দাবিতে সমাবেশ, ক্লাস বর্জন
উত্তরাঞ্চল ক্লাস বর্জন পীরগঞ্জ ম্যানেজিং কমিটি বাতিলের দাবি রংপুর সমাবেশরংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জে রায়পুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষে তালা ঝুঁলিয়ে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীসহ অভিভাবকরা। সম্প্রতি নির্বাচন ছাড়াই ভুয়া কাগজপত্রে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে বিক্ষুদ্ধরা এই কর্মসূচী পালন করেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটায় দিকে রায়পুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বিক্ষুদ্ধরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন, পাঠদানে শিক্ষকদের অসহযোগিতাসহ অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচীর ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কৌশিক, দশম শ্রেণীর লুবণা আকতার, আফরিন জাহান, লিখন, সাগর, আশিক, তানবীরুল, অষ্টম শ্রেণীর মিজানুর রহমান মিজান, অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ, স্কুলের সাবেক সভাপতি ও অভিভাবক মাহমুদুল হক তুষার, সবুজ, গোলাপ প্রমুখ।
এসময় তারা বলেন, সদ্য প্রয়াত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সময় স্কুলের নির্বাচনের জন্য তফশিল ঘোষনা করা হয়েছিল। প্রার্থীরা ব্যাংক ড্রাফট করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ফরম তুলেছিলাম। কিন্ত আওয়ামীলীগ নেতা নান্নু প্রভাব খাটিয়ে সেই নির্বাচন স্থগিত করায়। পরবর্তীতে কোন ধরনের নির্বাচন ছাড়াই নান্নু মিয়া সাবেক প্রধান শিক্ষককে চাপের মুখে ফেলে একটি অবৈধ কমিটি গঠন করে নিজে সভাপতি হয়ে যান। এই চাপে ওই প্রধান শিক্ষক রফিকুল হার্ট এ্যটাক করে মারা যান। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসীসহ অভিভাবকরা দিনাজপুর বোর্ডে এই অবৈধ কমিটি বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। আমরা এই অবৈধ কমিটি বাতিল করে নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধ কমিটি চাই।
সহকারী শিক্ষক আখতারুজ্জামান জানান, স্কুলের কমিটি কিভাবে হলো তা আমরা জানি না। এখানে কমিটি গঠনের জন্য কোন ভোট হয় নি। ওই কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য স্বপন বাবু জানান, আগের প্রধান শিক্ষক সব প্রসেসিং মেনেই কমিটি গঠন করেছেন। তবে কমিটি গঠন নিয়ে স্কুলে কোন নির্বাচন বা ভোটাভুটি হয়নি। এনিয়ে স্থানীয়রাসহ অনেকেই ক্ষুদ্ধ রয়েছেন। এ ব্যপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র রায় জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে সব কিছু ঠিকঠাক করেই আগের প্রধান শিক্ষক এই কমিটি করেছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় ভোট হয় নি।
এ ব্যপারে স্কুলের সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম নান্নু জানান, আগের প্রধান শিক্ষক আমাকে সব নিয়ম মেনে সভাপতি করেছেন। নির্বাচন হয়েছে। আমি ইউএনওর কাছে গেছিলাম। উনিও বলেছে ঠিক আছে। কিন্তু আমাকে সাবেক সভাপতি তুষার মেনে নিতে পারছে না। সে কানোছগাড়ি এলাকার কিছু অভিভাবককে দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। কমিটি গঠনের বিষয়টি তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি রংপুরের বাহিরে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনিংয়ে থাকায় তদন্ত করতে না পারায় উপজেলা নির্বাহী স্যারকে কাগজপত্র ফিরিয়ে দিয়েছি।
সাংবাদিক সুবর্ণা হত্যার ঘটনায় শ্বশুর আটক
উত্তরাঞ্চল পাবনা সাংবাদিক সুবর্ণা হত্যাপাবনা: আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদীকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ইদ্রাল ওষুধ কোম্পানি এবং শিমলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে নদীর দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু যৌতুকের দাবিতে নদীকে তালাক দেন রাজীব। এ ঘটনায় রাজীব ও আবুল হোসেনসহ ৩ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন নদী। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) সেই মামলার শুনানি হয়।
নিহত নদীর বোন চম্পা খাতুন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, আবুল হোসেনের লোকেরাই নদীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আবুল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। নদীর মা বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পাবনা থানার ওসি ওবায়দুল হক। এর আগে জীবন নামে এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় সাংবাদিক সুবর্ণা আক্তার নদীর। পরবর্তীতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। সেই ঘরে তাদের জান্নাত নামে ৭ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। পাবনা শহরের রাধানগরে একটি ভাড়া বাসায় মা ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন নদী।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাবনা শহরের রাধানগরে নিজবাসার সামনে সাংবাদিক নদীকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আয়ুব আলীর মেয়ে। তিনি স্থানীয় ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
বিরামপুরে মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান
দিনাজপুর বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সারাদেশদিনাজপুর: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ধীন “কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা” তহবিল কর্মসূচির আওতায় দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার উপকারভোগী মায়েদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষে গতকাল বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী এক হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধার সকাল ১০ টায় হেলথ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাহমিদা ইয়াসমিন, সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. মশিউর রহমান প্রমূখ। এতে পৌরসভার প্রায় চার’শ মাকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।
যমুনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপে আলোর ঝিলিক
আলোর ঝিলিক জাতীয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ যমুনা সারাদেশসারাদেশ: যমুনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপে আলোর ঝিলিক দেখা দিয়েছে। আলোর ঝিলিক এনে দিয়েছে সৌর বিদ্যুৎ, স্থানীয়দের ভাষায় যা সোলার নামে পরিচিত। সৌর বিদ্যুতের এ ঝলকানিতে চরাঞ্চলের জীবনযাত্রায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। চরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও এসেছে জোয়ার। সন্ধ্যার পরই যারা ঘুমিয়ে পড়ত, তারা এখন কাজকর্ম সেরে টেলিভিশন দেখে। ছেলে-মেয়েরা উজ্জল আলোয় অনেক রাত পর্যন্ত পড়ালেখা করে। যমুনা নদীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রুপসা। দ্বীপটি সিরাজগঞ্জের মেছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত হলেও প্রমত্ত্বা যমুনার বুক চিরে রুপসা গ্রামের জন্ম। উত্তাল যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের বেশকিছু গ্রামের মধ্যে রুপসা অন্যতম।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারের মালিকানাধীন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) পাঁচ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌর বিদ্যুৎ-মিনিগ্রীড চালু করে। প্রতিদিন এই প্রকল্পে ১৩০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর এই বিদ্যুতেই আলোকিত হয়েছে রুপসা চরের মানুষ। সোলারগাঁও লিমিটেড নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এক একর জায়গার উপর স্থাপন করেছে সোলার মিনিগ্রীড (বিদ্যুৎ উৎপাদক কেন্দ্র)। এখান থেকে নয় কিলোমিটার সংযোগ লাইনও বসানো হয়েছে। এ লাইন থেকেই এক বছরে ৪৭৪জন গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ৩১০জন আবাসিক এবং ১৬৪জন বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে। আট হাজার ১০৫ জন বসতির গ্রাম রুপসাকে বদলে দিয়েছে এই সোলার মিনিগ্রীড।
সোলার মিনিগ্রীড স্থাপনের মাধ্যমে ওই গ্রামের মানুষ ঘরে ঘরে বিদ্যুত পেয়ে আনন্দিত। তাদের প্রায় প্রত্যেকের ঘরেই রয়েছে টেলিভিশন, ফ্রিজ ও অন্যান্য ইলেক্টনিক্স সামগ্রী। এ গ্রামের মানুষ গত এক বছর আগেও বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। এখন প্রত্যেকের হাতে হাতে মোবাইল ফোন।
বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র ভরসা ছিল জেনারেটর। জেনারেটর দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রতিদিন যে ডিজেল ফুরাত তাতে সবমিলিয়ে ব্যবসায় লাভের অংকটা খুবই সামান্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে রুপসা গ্রামের মানুষ জেনারেটরের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে।
যমুনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হলেও রুপসা গ্রামে রয়েছে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। রয়েছে পাকা রাস্তাও। সেই রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় সেই রাস্তা দিয়ে এখন ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চলে। এলাকার মানুষের জীবন-মানের অভাবনীয় পরিবর্তনে সকলের চোখে-মুখে উৎফুল্লের হাসি।
রুপসা গ্রামের গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার জানান, আগে সন্ধ্যার পরই চরের মানুষ ঘুমিয়ে পড়ত। বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে সকল কাজকর্ম শেষ করে টেলিভিশন দেখে সময় কাটিয়ে যখন ইচ্ছে তখন ঘুমাচ্ছেন। ছেলে-মেয়েরাও বিদ্যুতের উজ্জল আলোয় লেখাপড়া করতে পারছে।
বিদ্যুতের কারণে পাল্টে গেছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রুপসা বাজারটির চিত্রও। মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে জেনারেটরে কাজ করতে অনেক ঝামেলা হত। বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে ঝামেলা ছাড়াই দিন-রাত কাজ করছেন তিনি। আগের তুলনায় প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে অনেক কম।
সোলারগাঁও লিমিটেডের প্ল্যান্ট প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, প্রতি গ্রাহককে সংযোগ নিতে আড়াই হাজার টাকা জমা দিতে হয়। লাইন থেকে ৬৫ ফুট পর্যন্ত সংযোগ তার বিনামূল্যে দেয়া হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২০ টাকা। তবে এটি ১০টাকা বাড়িয়ে ৩০টাকা করা হবে। তিনি জানান, সোলার মিনিগ্রীড প্রকল্পে ৫০ ভাগ ভর্তুকি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন ইনফ্রাস্ট্রাকরচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (ইডকল)। ৩০ভাগ দশ বছর মেয়াদী ছয় পার্সেন্ট সুদে ঋণ দিয়েছে তারা (ইডকল)। বাকী ২০ ভাগ বিনিয়োগ করেছে সোলারগাঁও।
মেছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ গত এক বছর আগেও বিচ্ছিন্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। বিদ্যুৎ আসায় এ এলাকার মানুষের অভাবনীয় উপকার হয়েছে। ইনফ্রাস্ট্রাকরচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেডের (ইডকল) নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ মালিক জানান, তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এরকম ২৭টি প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে সোলার মিনিগ্রীড প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। যার মধ্যে ১৭টি চালু হয়েছে। বাকীগুলো নির্মাণাধীন।
নবাবগঞ্জে আদিবাসী কোটা বহাল রাখার দাবিতে মানবন্ধন-স্বারকলিপি
আদিবাসী কোটা উত্তরাঞ্চল দিনাজপুর নবাবগঞ্জ মানবন্ধন স্বারকলিপিনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আদিবাসী কোটা সহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কোঠা বহাল রাখার দাবীতে মানবন্ধন, স্বারকলিপি প্রদান ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপজেলার ক্ষুদ্র -নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায়।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে নবাবগঞ্জ-বিরামপুর সড়কে সান্তাল ষ্টুডেন্টস ফেডারেশনের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধন শেষে তারা প্রধান মন্ত্রার বরাবরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাবী সম্বলিত স্মারক লিপি প্রদান করে। পরে তারা উপজেলা প্রেসক্লবে সাংবাদিক সম্মেলন করে। এত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সান্তাল স্টুডেন্ট ফেডারেশনের সভাপতি মিকাইল টুডু । সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর জেলা উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরানের আহবায়ক শ্যামল মাডীর্ , স্টুডেন্ট ফেডারেশনর সহ-সভাপতি রবিন মুুর্মু , হাজি দানেশ বিশ্ব বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট নিরালা সরেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান- চলমান কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত ১৩ আগষ্ট কোটা সংস্কার কমিটির প্রতিবেদনে আদিবাসী কোটা সহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কোটা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। আদিবাসী কোটা বাতিল হলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে পড়বে। ফলে তাদের কোটা বহাল রাখার দাবি জানায়।
ঠাকুরগাঁওয়ে দৈনিক আমাদের অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন
ঠাকুরগাঁও দৈনিক আমাদের অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার ১২ বছর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং একই জায়গায় এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে আমাদের অর্থনীতি ১২ বছর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
পরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিঠু, সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি বকুল, দৈনিক খবর সাহিন ফেরদৌস প্রমুখ অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেয়।
পঞ্চগড়ে চুরির অপবাদ দিয়ে শিশুকে নির্মম নির্যাতন
উত্তরাঞ্চল চুরির অপবাদ পঞ্চগড় শিশু নির্যাতনপঞ্চগড়: পঞ্চগড় শহরের নিউজ মার্কেট এলাকায় চুরির অপবাদে হাতুরি পিটাসহ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে সাকিন (১০) নামে এক শিশু। শিশু সাকিন পঞ্চগড় শহরের ইসলামবাগ এলাকার দরজি দুলাল মিয়ার পুত্র।
গত মঙ্গলবার (২৮ আগষ্ট) রাতে খবর পেয়ে সকিনের বাবা-মা, পুলিশ তালাবদ্ধ ঘড় থেকে তালা ভেঙ্গে আশংখা জনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তিকরে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় নির্যাতক।
নির্যাতনের শিকার শিশু জানায়, চুরির অপবাদ দিয়ে দিন-রাত ঘরের ভিতর আটকিয়ে রেখে হাত পা বেঁধে মাথার চুল কেটে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রেখে হাতুরি দিয়ে সরিলের হাটু, পিঠ, পায়ের তালাসহ বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে সুলতান হাজীর পুত্র গুড়া হলুদ মরিচ ব্যাবসায়ী সফিকুল ইসলাম।
সাকিনের বাবা দুলাল মিয়া জানান, খবর পেয়ে সন্তানকে উদ্ধার করতে গেলে সফিকুলের হামলার শিকার হই আমরা। জানা যায়, সাকিনকে নির্মম ভাবে নির্যাতন করায় মা সায়েদা বাদী হয়ে সফিকুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি রবিউল হাসান সরকার জানান, ঘটনার পর থেকে সফিকুল গা ঢাকা দিয়েছে। তাকে আটক করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারি: আরও ৮ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
জাতীয় দুদক বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারিরংপুর এক্সপ্রেস: বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা মামলায় নতুন করে আর আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সামছুল আলম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।
এরা হলেন- কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহম্মদ; মহাব্যবস্থাপক (কোম্পানি সচিব) আবুল কাসেম প্রধানীয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশারফ হোসেন সরকার; ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার; ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার; ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান; ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম এবং উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক।
এর আগে মঙ্গলবার অপর আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা।
তারা হলেন- কোল মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী; উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর বিভাগ) এ কে এম খালেদুল ইসলাম; উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মোরশেদুজ্জামান; উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান; উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান; সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন; ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং) জোবায়ের আলী।
এর আগে গত ১৩ অগাস্ট মামলার ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ৩২ কর্মকর্তাকে তলব করে নোটিস দেয় দুদক। তাদের মধ্যে দুই দফায় ১৫ জন দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন।
বুধবার ওই আট জনের জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবারও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।
এদের মধ্যে রয়েছেন- কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান; সাবেক মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি ও গোপাল চন্দ্র সাহা।
একই দিন ব্যবস্থাপক (হিসাব) সারোয়ার হোসেন; ব্যবস্থাপক (সেলস ও রেভিনিউ কালেকশন) কামরুল হাসান; উপব্যবস্থাপক (মার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসেস) মোহাম্মদ নোমান প্রধানীয়া; সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এ কে এম সিরাজুল ইসলাম ও শরিফুল আলম এবং সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা আছে।
কয়লা দুর্নীতির ঘটনায় গত ২৪ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম।
এজাহারে বলা হয়, খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলামসহ খনির ব্যবস্থাপনায় জড়িত অপর আসামিরা ওই কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িত। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই ব্যবস্থাপক, উপ-ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা।
মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্র অভিযোগে ভারতজুড়ে বুদ্ধিজীবী ধরপাকড়
নরেন্দ্র মোদী বিশ্ব বুদ্ধিজীবী ধরপাকড় ভারত মোদীকে হত্যা মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে লেখক, সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকও রয়েছেন। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে মহারাষ্ট্রের ভিমা কোরেগাঁওয়ে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে পুলিশের বিশেষ বাহিনী। অভিযান চালানো হয় ফরিদাবাদ, গোয়া, মুম্বাই, ঠাণে, রাঁচি, হায়দ্রাবাদে।
এ সময় ফরিদাবাদ থেকে সমাজকর্মী সুধা ভরদ্বাজ, হায়দ্রাবাদ থেকে কবি ও মানবাধিকার কর্মী ভারভারা রাওকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া পৃথক অভিযানে স্থানীয় এক সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী গৌতম নাভাকহামকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এরইমধ্যে সমাজকর্মী অরুণ ফেরেইরা এবং ভেনন গঞ্জালভেসও নেওয়া হয়েছে পুলিশি হেফাজতে।
মঙ্গলবার সকালে রাঁচির ফাদার স্ট্যান স্বামীর বাসস্থানেও অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ল্যাপটপ, পেন-ড্রাইভসহ বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, এই সমাজকর্মীরা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ সূত্রে আরো জানানো হয়েছে, মারাঠা পেশোয়াদের বিরুদ্ধে জয়কে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করতে এ বছরের ১লা জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের ভিমা কোরেগাঁও এলাকায় জমায়েত হয় দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানেই উচ্চ বর্ণের সঙ্গে দলিতদের সংঘর্ষ বাঁধে।
পরে এই ঘটনার তদন্তে নেমেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে গোয়েন্দারা। সম্প্রতি মুম্বাই, নাগপুর এবং দিল্লী থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন মাওবাদীর ৫ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন- দলিত নেতা সুধীর ধাওয়ালে, আইনজীবী সুরেন্দ্র গ্যাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন এবং রোনা উইলসন।
গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে সেসময় একটি চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ। ওই চিঠিতে মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলে। এতে মোদীকে হত্যা করতে একটি এম-ফোর রাইফেল ও গুলি কেনার জন্য ৮ কোটি রুপি চাওয়া হয়েছিল। আর চিঠির শেষে উল্লেখ ছিল ভারাভারার রাওয়ের নাম। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তবে মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন ভারাভারা রাও।
অপরদিকে দেশ জুড়ে এভাবে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়ানোয় পুলিশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির বুদ্ধিজীবী সমাজ। লেখিকা অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ‘কবি, সাহিত্যিক, দলিত আন্দোলনকারী, আইনজীবীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলে ভরা হচ্ছে। পুলিশের উচিত গো-রক্ষার নামে যারা গণপিটুনি দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং উস্কানি দিচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করা।’
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির বদলে ভারতের উচিত মত প্রকাশ, সভা-সমিতি গঠন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদী ভাবমূর্তি এবং কাজকর্মের জন্যই কি তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে?’
হাতিবান্ধায় হাজি কর্তৃক পূজা! মুসলমানদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া
উত্তরাঞ্চল লালমনিরহাট হাজী কর্তৃক পূজাপাটগ্রাম, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় নুরল মাস্তান নামের এক হাজি কর্তৃক পূজা করায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় মুসলমানরা। বিক্ষুদ্ধ প্রতিবেশীরা গত সোমবার তার পূজার স্থানটি ভেঙ্গে দিয়েছেন।
জানা যায়, তার বাড়িতে পূজার বেদীতে মা মনসার মূর্তি, কাসার তালা, বাটি, গ্লাস ও সালু কাপড়সহ পূজার নানাবিধ উপকরণ পাওয়া গেছে। হাতিবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের দালালপাড়া এলাকার নুরল ইসলাম (মাস্তান) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মচারী ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। তিনি গত ৩ বৎসর আগে হজ্ব করে এসেছেন।
গত সোমবার দুপুরের দিকে নুরল হাজির প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বিষয়টি চাউর হলে হাতিবান্ধা থানা পুলিশ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। পরে হাতিবান্ধা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আফাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরজমিনে দেখা গেছে, নুরল হাজির বাড়ির পিছনে আনুমানিক ২০ ফুট ব্যাসার্ধের গোলাকৃতি বাঁশের খোঁটা দিয়ে ঘেরা গাছগাছালিতে পূর্ণ নিরিবিলি একটি স্থান। এরইমধ্যে একটি অগভীর কূপ। কূপের পাশেই ইট দিয়ে বাাঁধানো তৈরীকৃত পূজার বেদী। তাতে সর্পদেবী মা মনসার মূর্তি বসানো। কূপের মধ্যে ও বেদীতে নানাবিধ পূজার উপকরণ সাজানো। এখানেই তিনি গত ৫ দিন ধরে মা মনসার পূজা করে আসছিলেন।
[পাবনায় নারী সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন]
নুরল ইসলামের (মাস্তান) প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নুরল ইসলাম বেশ কিছুদিন থেকেই অপ্রকৃতিস্থ আচরণ করে আসছিলেন। তার বাড়িতে তৈরী ইয়াতিম খানাটিও কিছু দিন হলো তিনি বন্ধ করে দেন। এবারে ঈদ-উল-আযহার কয়েক দিন পূর্ব থেকে তাঁর আচরণ আরো বেশি অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। তিনি একা একা থাকতে শুরু করছিলেন। ২২ আগস্ট, বুধবার ঈদের দিন থেকে তিনি হঠাৎ মনসা দেবীর পূজা-অর্চনা শুরু করেন। বিষয়টি প্রতিবেশীরা আঁচ করতে পারলে নুরল হাজি গত রবিবার একরকম বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান।
বাড়ি ছাড়ার আগে কয়েকজন প্রতিবেশীকে তিনি বলেন, এখানে থাকলে মা মনসা তাকে মেরে ফেলতে পারেন তাই তিনি অন্যত্রে চলে গেলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, গোপন বাসনা চরিতার্থ করার জন্য তিনি মনসার পূজা শুরু করেছিলেন বলে নুরল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন। এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একটা ধর্মকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে। নুরল ইসলামের বিচার চাই।
এ ঘটনায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা সুদর্শন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ধর্মকে অবমাননা করার জন্যই এমনটি করা হয়েছে। হাতিবান্ধা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ ওমর ফারুক জানান, পরিদর্শনের জন্য ফোর্স পাঠানো হয়েছে। ফকির পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম জানান বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পাবনায় নারী সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন
উত্তরাঞ্চল পাবনাপাবনা: পাবনায় সুবর্ণা নামে এক নারী সংবাদিককে বাসায় গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে আততায়ীরা। নিহত সুবর্ণা আক্তার নদী (৩২) বেসরকারি টেলিভিশন ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি ছিলেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১ টার দিকে শহরের রাধানগর মজুমদারপাড়া এলাকায় সুবর্ণার ঘরে গিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাবনা পুলিশ। পৌর সদরের রাধানগর মহল্লায় আলিয়া মাদরাসার পশ্চিম পার্শ্বের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সুবর্ণা। তবে কেন, কারা তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও জানা যায় নি।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, “বাসার কলিং বেল টিপে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে ডেকে বের করে। সুবর্ণা নদী গেইট খোলার সাথে সাথে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।” পরে স্থানীয়রা সুবর্ণাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শামিমা আকতারসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা। গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে সুবর্ণা নদী হত্যার কারণ জানা যায়নি। তবে আমাদের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছেন প্রকৃত ঘটনা উদ্ধারের জন্য।”
সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাশাপাশি দৈনিক জাগ্রত বাংলা পত্রিকার পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তার ৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। পাবনার একব্যবসায়ীর ছেলে রাজিব ছিলেন সুবর্ণার স্বামী। সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদ হয়। এনিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে সুবর্ণা হত্যার ঘটনায় পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিয়ে জানিয়েছে সাংবাদিকরা। পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী বাবলা বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের জানিয়েছেন, ১০/১২ জন সন্ত্রাসী কয়েকটি মোটর সাইকেলে এসে তাকে কুপিয়ে দ্রুতবেগে চলে যায়। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় বলেণ, সাংবাদিক সুবর্ণা খুনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
পীরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নবজাতক ও প্রসুতির মৃত্যু, হাসপাতাল অবরুদ্ধ
উত্তরাঞ্চল পীরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল রংপুরপীরগঞ্জ, রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জে জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসুতিসহ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রোগীর পরিবারের দু’শতাধিক স্বজন হাসপাতালটি সাড়ে ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। গত সোমবার রাতে ৮ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ওই অবরুদ্ধ চলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের দাউদপুর গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম (৩২)। সে দু’সন্তানের জননী, আবারো তার গর্ভে জমজ সন্তান আসে। দাউদপুর থেকে তাকে সোমবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে একটি মাইক্রোযোগে পীরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে শিল্পীর এক মেয়ে সন্তান জন্ম নেয় এবং জন্মের পর পরেই শিশু মারা যায়। ওই হাসপাতালে আনার পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় বিনা চিকিৎসায় শিল্পীর আর এক সন্তান ভুমিষ্ঠ না হয়েইে সে মারা যায়। এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রোগীর দু’শতাধিক স্বজন এসে হাসপাতালটি ঘেরাও করলে রাতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ব্যাপারে জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শহিদুল ইসলাম পিন্টু জানান; সন্ধ্যা সাড়ে সাত টায় শিল্পী নামে রোগী ভর্তি হয় তার প্রাথমিক সেবা (আল্ট্রাসনোগ্রাম, ব্লাড টেস্ট) করে পেটের শিশুর ভাল অবস্থায় ছিল, তবে রাত ৮:০০ টার সময় রোগী অপারেশন থিয়েটারে মৃত্যু বরণ করে।
এ ব্যাপারে থানার ওসি (অপারেশন্স) শুকুর আলী জানান, ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। শিল্পীর ভাই আমিনুল ইসলাম জানান, আমার বোনসহ দু’সন্তানই মারা গেছে। আমরা মামলা মোকদ্দমা করবো না। এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে পারিবারিক কবর স্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এবার ভাইরাল প্রিয়ার শাড়ি পড়া ছবি!
বিনোদনবিনোদন ডেস্ক: চোখ মারার কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাওয়া প্রিয়া প্রকাশ ওরিয়ারের একটি ছবি নিয়ে ফের তুমুল হইচই শুরু হয়েছে অনলাইনে। শুরুতে ভ্রু-ভঙ্গি আর মুক্তো-ঝরা হাসিতে অগুন্তি তরুণের মনে ঝড় তুলেছিলো এ দক্ষিণী রুপসী।

এবার নতুন এক লুকে নেট দুনিয়ায় হাজির হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছেন ১৯ বছর বয়সের এই মেয়ে। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। তাতে কাসাভু নামে এক ধরনের শাড়িতে দেখা যায় প্রিয়াকে। ছবিটি পোস্ট করার মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই প্রিয়ার এই ছবি দেখে প্রশংসা করেন।
‘অরু আদার লাভ’ ছবির ওই দৃশ্যের জন্য ভাইরাল হওয়ার পরে সরাসরি বহু ছবিতে অভিনয় করার টিকিট পেয়ে যান প্রিয়া। সম্প্রতি আর এই ছবি পোস্ট করে ইন্টারনেটে ঝড় তুললেন প্রিয়া প্রকাশ ওরিয়ার। জি নিউজ।
বিএনপি-জামায়াত একটি সন্ত্রাসী দল -রমেশ চন্দ্র
উত্তরাঞ্চল রমেশ চন্দ্র রাজনীতিঠাকুরগাঁও: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে। তারা একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছে। পুড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা বাংলাদেশেই বিএনপি-জামায়াত তান্ডব চালিয়ে বাংলাদেশের ব্যাপক পরিমাণ সম্পদ ক্ষতি করেছে। এতেই প্রমাণ হয় বিএনপি-জামায়াত একটি সন্ত্রাসী দল।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত সেন্টার কমিটি গঠনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বাংলাদেশের সম্পদ ক্ষতি ও লুটপাট করার জন্যই ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা কখনো বাংলাদেশের ভালো চায়না। তাদের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের খবরগুলো বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ জানে। তাই এই সন্ত্রাসী দল থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন।
তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত যদি কোন ধরনের তান্ডব চালানোর চেষ্টা করে তাহলে তার উচিৎ জবাব দেবে জনগণ। শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডকে। কারণ আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। রমেশ সেন বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষ ক্ষতি কখনো চায় না। আওয়ামী লীগ মানুষের উপকার ও উন্নয়নের জন্যই ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের চেহেরায় পাল্টে গেছে। যেদিকেই তাকাবেন সেদিকেই আওয়ামী লীগের উন্নয়ন চোখে পড়বে।
আওয়ামী লীগের এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। চিলারং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ার চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নজমুল হুদা শাহ এ্যাপালো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াফু তপু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক, চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আইয়ুব আলী, চিলারং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক বাবলু চৌধুরী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি সেন্টার কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক ভূমি পালন করবে।
কাউনিয়া উপজেলা জাপা’র সম্পাদক হিসেবে অ্যাড. শাহীনকে দায়িত্ব প্রদান
উত্তরাঞ্চল রাজনীতিকাউনিয়া, রংপুর: সাংগঠনিক শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগে কাউনিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনকে তার পদ থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তার স্থলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাডভোকেট শাহীন সরকার। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব মসিউর রহমান রাঙ্গার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়।
অ্যাড. শাহীন সরকারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করায় তাকে স্বাগত জানিয়েছে কাউনিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টি ও তার সকল সহযোগি সংগঠনের তৃনমুলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও তারা নব দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকসহ জাতীয় পার্টির জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায়। সেই সাথে জেলা কর্তৃক এ্যড. শাহীন সরকারকে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করায় জাতীয় পার্টি ও সহযোগি সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ সাধুবাদ জানান।
লবণের কৃত্রিম সঙ্কটে বিপুল পরিমাণ চামড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে
এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ: অসাধু মজুদদার চক্রের কারসাজিতে বাজারে লবণের কৃত্রিম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর ফলে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে পচে যাচ্ছে চামড়া। সরকার ভাষ্য অনুযায়ী দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বরং দেশে অনেক উদ্বৃত্ত লবণ রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া লবণ মৌসুমে দেশে প্রায় ১৫ লাখ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। সারা বছর ব্যবহার করে আগের উদ্বৃত্তসহ বর্তমানে দেশে ১২ লাখ টনেরও বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণীর মজুদদার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম উপাদান লবণের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নিতেই তারা এমন অবস্থা তৈরি করেছে বলে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়িদের অভিযোগ। চামড়া ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এবারের কোরবানি ঈদে কম দামে পশুর চামড়া বিক্রি হলেও তা সংরক্ষণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়িরা। কারণ বাজারে লবণের কৃত্রিম সঙ্কট। এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রায় ২ লাখ টন লবণের প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কাঁচা চামড়ায় সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে হয়। কিন্তু অনেকে এখন পর্যন্তও দিতে পারেনি। আর একটা গরুর চামড়ায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি লবণ লাগে। গত মে মাসে উৎপাদনের মৌসুম শেষে আয়োডিন ছাড়া প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) লবণ ৭০০-৭০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগে লবণের দাম বস্তায় ২০০ টাকা বেড়ে যায়। আর ঈদে দিন থেকে দাম আরো বেড়ে দেড় হাজার টাকা হয়ে গেছে। লবণের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না চামড়া ব্যবসায়িরা। তাছাড়া ঈদের পরে সিন্ডিকেটের কারণেই চামড়া ব্যবসায়িরা সঠিক সময়ে লবণ পাচ্ছে না। তাতে এবার লাখ লাখ টাকার চামড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) হিসাবে দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বিসিক বলছে, এবারো লবণ মৌসুম (নভেম্বর থেকে মে) শেষে দেশে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। আর আগের মৌসুমের আড়াই লাখ টন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে লবণের চাহিদা এক লাখ ৩৫ হাজার টন। আর এ বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট চাহিদা বাদ দিয়ে দেশে ১২ লাখ ৩ হাজার টন লবণ মজুদ থাকবে। কিন্তু ঈদের আগে ৭৫ কেজির এক বস্তা লবণের দাম ছিল ৯৪০ টাকা। আর ঈদের দিন থেকে ওই লবণের দাম দেড় হাজার টাকা হয়ে গেছে। এমনকি অনেক চামড়া ব্যবসায়ি বেশি দাম দিয়েও লবণ পায়নি। ফলে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। তবে সরকার ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। কারণ শিল্প রক্ষার কথা বিবেচনা করে এখনো পর্যন্ত সরকারের কাঁচা চামড়া রপ্তানির কোনো পরিকল্পনা। কারণ কাঁচা চামড়া রপ্তানি করলে দেশের চামড়া শিল্পই ধ্বংস হয়ে যাবে। অথচ চামড়া বাংলাদেশের ৫টি রপ্তানি খাতের মধ্যে অন্যতম। গত বছর চামড়াকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। সম্ভাবনাময় এ খাত যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে।
এদিকে কৃত্রিম সঙ্কটের কথা মানতে নারাজ লবণ ব্যবসায়ীরা। কৃত্রিম সঙ্কটের কথা অস্বীকার করে মদিনা সল্টের স্বত্বাধিকারী জামিল আহম্মেদ জানান, এবার আড়াই হাজার বস্তা লবণ বিক্রি হয়েছে। তারপরও লবণ কিনতে আসেন চামড়ার আড়তদাররা। এত লবণ কোথায় পাওয়া যাবে? তারপরও চাহিদা বিবেচনায় ঈদের দিন অতিরিক্ত ট্রাক ও লেবার ভাড়া দিয়ে লবণ তোলা হয়েছে। বেশি দামে লবণ কেনা কারণে বিক্রিও বেশি দামে হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন জানান, সরকার লবণের দাম বাড়ায়নি। অথচ চাহিদ বেশি থাকায় লালবাগের একটা সিন্ডিকেট কোনো কারণ ছাড়াই লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামীকাল নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
উত্তরাঞ্চল খেলাধুলা নীলফামারী বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রীতি ফুটবল ম্যাচনীলফামারী: আগামীকাল ২৯ আগস্ট, বুধবার নীলফামারীর শেখ কামার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৪ টায় অনুষ্ঠিতব্য এ খেলায় অংশ গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা সৈয়দপুর বিমানবন্দর যোগে নীলফামারীতে এসে পৌছেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নভো এয়ারের একটি উড়োজাহাজে বাংলাদেশ দলটি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
একইভাবে আগের দিন গত ২৭ আগস্ট সোমবার শ্রীলঙ্কান জাতীয় ফুটবল টিম ঢাকা থেকে আকাশ পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসে। তাদেরকেও বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এ সময় নীলফামারী জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানান। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দুই দেশের পতাকা নেড়ে স্বাগত জানায় ফুটবলারদের। পরে সড়ক পথে শ্রীলঙ্কান দলের খেলোয়াড়রা রংপুরে যায় এবং গতকাল ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে নীলফামারীতে এসে পৌছায়। এদিকে বাংলাদেশ দলের খোলোয়াড়রা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নীলফামারীতে আসে।
বুধবার বিকেল ৪টায় নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচটি। ২০ হাজার দর্শক ধারন ক্ষমতার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যে প্রীতি ম্যাচটির জন্য গত রবিবার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। দুই দিনে ১৬ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে দেখা দিয়েছে টিকিট সংকট। নীলফামারী জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন ব্যাংকে এ ম্যাচের টিকিট বিক্রি করা হয়।
