কুড়িগ্রামে বিপ্লবী কমরেড জাহেদুল হক মিলু’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

কুড়িগ্রামে বিপ্লবী কমরেড জাহেদুল হক মিলু’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

admin June 15, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে আজীবন বিপ্লবী কমরেড জাহেদুল হক মিলু’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, শোক র‌্যালি ও স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শুক্রবার সকালে তার গ্রামের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার নিলুর খামার গ্রামে তার সমাধীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম শহরে অনুষ্ঠিত হয় শোক র‌্যালি। এরআগে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।


কুড়িগ্রাম জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন হলরুমে এ স্বরণ সভার আায়োজন করে কমরেড জাহেদুল হক মিলু স্মৃতি পাঠাগার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রিয় নেতা ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।


কমরেড জাহেদুল হক মিলু স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক এ্যডভোকেট আবুল বাশার মঞ্জুর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রবিণ আইনজীবি এ্যাডভোকেট এনামুল হক চৌধুরী চাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।


কমরেড জাহেদুল হক মিলু বাসদ কেন্দ্রিয় কমিটির নেতা ও সমাজতান্ত্রীক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি এবং বাসদ কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সাবেক আহবায়ক ছিলেন। প্রয়াত জাহেদুল হক মিলুর বাড়ি কুড়িগ্রামের পুরাতন হাসপাতাল পাড়ায় ও গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নিলুর খামার গ্রামে। এক বছর পুর্বে তিনি কুড়িগ্রামের অর্জুনডারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

ফুলবাড়িতে ইয়াবা-ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ৫

ফুলবাড়িতে ইয়াবা-ফেন্সিডিল উদ্ধার, আটক ৫

admin June 15, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কুটি চন্দ্রখানা এলাকার মাদক সম্রাট শাহানুরের বাড়ি থেকে ১ হাজার ২১০ পিস ইয়াবা, ১৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩ টি মটর সাইকেলসহ ৬ জনকে আটক করেছে ফুলবাড়ি থানা পুলিশ। এদের মধ্যে একজনকে ছেড়ে দিয়ে ৫ জনকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা না দিয়ে ১৫১ ধারায় (সন্দেহ মুলক) মামলা দেয়া হয়েছে। বিশাল একটি চালান উদ্ধার হলোও মাদকের সাথে আটকদেরকে আসামী না করায় বিক্ষুব্ধ হয়েছেন সচেতন নাগরিকরা ।


ফুলবাড়ি থানার এসআই মহুবর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম কুটিচন্দ্রখানা এলাকার মাদক সম্রাট শাহানুরের বাড়িতে আমার নেতৃত্বে এসআই আল আমিনসহ ৭/৮জন পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।


এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক সম্রাট শাহানুর পালিয়ে গেলেও তার বাড়ি থেকে ১ হাজার ২১০পিস ইয়াবা, ১৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩ টি মটর সাইকেলসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় মাদক সম্রাট শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়া হয়। শাহানুর ফুলবাড়ি উপজেলার পশ্চিম কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের মৃত: মহির উদ্দিনের পূত্র। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।


এদিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালার সময় ৬জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। গর্ভীর রাতে কুড়িগ্রামের কৃঞ্চপুর চড়ূয়া পাড়া এলাকার আশরাফ আলীর পূত্র মাসুম বিল্লাহ (২৯) ছেড়ে দিয়ে ৫ জনকে ১৫১ ধারায় (সন্দেহ মুলক) মামলা দেয়া হয়েছে ।এতে করে বিক্ষুব্ধ হয়েছেন সচেতন নাগরিকসহ এলাকাবাসী ।


ফুলবাড়ি থানার ডিউটি অফিসার এএসআই এরশাদুল হক জানান, ৩টি মোটর সাইকেলসহ গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম শহরের পৌরসভার নাজিরা এলাকার আব্দুস সাত্তারের পূত্র রিপন আহমেদ (৩৪), মুন্সিপাড়া এলাকার বাবলা মিয়ার পূত্র মনু মিয়া (২৭), কলেজপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর পূত্র লানজু মিয়া (২৮), ও মোন্নাফের পূত্র রাশেদুজ্জামান রুবেল (২৯) এবং করিমের খামার এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের পূত্র ওমর ফারুক (৩০)।
এলাকাবাসী মোকছেদুল হক, মোজ্জাফর হোসেন ও জুয়েল রানা জানান শাহানুরের বাড়ি থেকে অনেক গুলো মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ।


এ ব্যাপারে ফুলবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে জানান, এ বিষয়ে বাড়ির মালিক শাহানুরের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। ৬ জনের আটকের ব্যাপারে ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে একজনকে জিম্মায় ছেড়ে দিয়ে ৫জনকে সন্দেহজনক ধারায় মামলা দেয়া হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধানের চারা রোপণ!

ঠাকুরগাঁওয়ে সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধানের চারা রোপণ!

admin June 15, 2019

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপুর রাস্তার ৩ কিলোমিটার কাঁচা থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। রাস্তায় তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। এতে ব্যাহত হয় চলাচল। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ওই এলাকার বাসিন্দারা ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া-জামালপুর ব্যস্ততম রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে ওই এলাকার বাসিন্দরা। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। শুক্রবার বিকালে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানের চারা রোপন করে।


স্থানীয়রা জানায়, একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় পটুয়া-জামালপুরের এ রাস্তায়। সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্তের। এতে চলাচলের সমস্যা হয়। এ রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে কাজ না হওয়ায় শুক্রবার ওই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে সমস্যার কথা জানান সাধারণ মানুষ আর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।


ঠাকুরগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী নুরুজ্জামান সরদার বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড়ে ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

পঞ্চগড়ে ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

admin June 15, 2019

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে পাথর বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মানিক হোসেন (২৫) ও নয়ন ইসলাম (২২) নামে দুজন নিহত হয়েছে।


শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ব্যারিস্টার বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক ওই উপজেলার বাদিয়াগছ গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।


জানা যায়, পঞ্চগড় শহরে যাওয়ার সময় ব্যারিস্টার বাজারে রাস্তার মাঝে তাদের মোটরসাইকেলটি বন্ধ হয়ে যায়। এসময় তেঁতুলিয়া থেকে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির শিমুল মানিকে মৃত ঘোষণা করেন।


এদিকে নয়নের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।


পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিরঞ্জন সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

admin June 15, 2019

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মনসুর আলী নামে এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।


রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ জানায়, সকালে রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের ভণ্ডগ্রামের আলমের ছেলে বাড়ির পাশে অটোরিকশার ব্যাটারিতে বিদ্যুতের চার্জ চলাকালে সবার অলক্ষে তারে হাত দেয়। তারে ছিদ্র থাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে গুরুতর আহত হয়।


পরিবারের সদস্যরা আহত অবস্থায় রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সৈয়দপুরে সাঁতার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ২ শিশু নিহত

সৈয়দপুরে সাঁতার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ২ শিশু নিহত

admin June 15, 2019

নীলফামারী প্রতিনিধি:
সৈয়দপুরে খড়খড়িয়া নদীতে সাঁতারের প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে কুরবান আলী (১০) ও মেরাজ আলী (১২) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শহররক্ষা বাঁধ সংলগ্ন বুড়ির কুড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান পাশা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত কুরবান আলী উপজেলা শহরের কাজিপাড়া গ্রামের বাদল হোসেনের ছেলে। মেরাজ আলী একই এলাকার আবেদ আলীর ছেলে।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কুরবান ও মেরাজসহ একদল শিশু ঘটনাস্থলের কাছের একটি জাম গাছে ওঠে। এরপর তারা সাঁতরে নদী পার হয়ে ওপারের বট গাছে উঠবে, এমন প্রতিযোগিতায় করে। প্রথমে কুরবান ও মেরাজ নদীতে নামে। তারা নদীর মাঝখানে গিয়ে ডুবে যায়।


এ সময় অন্য বন্ধুরা তাদেরকে বাঁচাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তীরে উঠে চিৎকার করতে থাকে। পথচারীরা ছুটে এসে ওই দুজনকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাকিয়া সুলতানা তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুরে আম ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার এক

রংপুরে আম ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার এক

admin June 15, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরে চাইনিজ হোটেলের সামনে আম বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগে চাইনিজ হোটেল সিসিলির মালিক আলতাফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


জানা যায়, নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত সিসিলি চাইনিজ হোটেল। ৩১ মে দুপুরে হোটেলের সামনে বসে আম বিক্রি করার দায়ে হোটেল মালিক আলতাফ হোসেন আম বিক্রেতাকে বেদম মারপিট করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে মানিক মিয়াকে তার বাড়ি সদর উপজেলার পালি চড়ায় পাঠিয়ে দেয়।


পর দিন মানিক মিয়ার রক্তবমি শুরু হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুইদিন পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় সে মারা যায়।


এ ঘটনায় মানিক মিয়ার ভাই মাসুম মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ আলতাফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।ওসি আব্দুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মিডিয়া মালিকদের খেলাপি ঋণ নিয়ে অনুসন্ধান করুন: প্রধানমন্ত্রী

মিডিয়া মালিকদের খেলাপি ঋণ নিয়ে অনুসন্ধান করুন: প্রধানমন্ত্রী

admin June 15, 2019

নিউজবিডি ডেস্ক:
সংবাদমাধ্যমের মালিকদের কার কত খেলাপি ঋণ আছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তারা (মিডিয়া মালিকরা) যেন তাদের টাকাটা শোধ দিয়ে তারপরে তাদের পত্রিকায় এ ব্যাপরে (খেলাপি ঋণ নিয়ে) লেখেন, সে ব্যাপারে আমার অনুরোধ থাকবে।


‘সমৃদ্ধ আগামীর’ প্রত্যাশা সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের জন্য সোয়া পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি অসুস্থ থাকায় শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


শুরুতে এবারের বাজেটের বিভিন্ন দিক এবং সরকারের পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। পরে বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।


ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত ১০ বছরে ২৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ১০ হাজার টাকা হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেলেও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে সফল হচ্ছে না কেন।


জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ওই সাংবাদিকের কাছে জানতে চান তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।


সেই প্রতিবেদক নিজের পত্রিকার নাম বলার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এখানে পত্রিকায় চাকরি করেন, তাদের আমি একটা কথা জিজ্ঞেস করব, আপনারা কি একটা খবর নেবেন, যে আপনাদের মালিকরা কে কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ নিয়েছেন, আর ঋণগুলো শোধ দিয়েছে কি না। আপনারা দয়া করে সমস্ত ব্যাংকগুলি থেকে এ তথ্যটা আগে বের করেন, যত মিডিয়া এখানে আছেন… প্রত্যেকেই বলবেন যে আমি অনুরোধ করেছি আপনাদের, যে কোন মালিক কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ নিয়ে কত টাকা শোধ দেয়নি বা খেলাপি হয়ে সেটাকে আবার পুনরায় ই (পুনঃতফসিল) করে গেছেন। এটার একটা হিসাব বের করলে আমাকে আর প্রশ্ন করা লাগবে না


সাংবাদিকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, যার যার মালিককে বলেন, খেলাপি ঋণ শোধ দিতে, তাহলে আর খেলাপি ঋণ থাকবে না।


শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ব্যাংক খাতে সুদের হার অত্যন্ত বেশি, আর সুদ ধরা হয় চক্রবৃদ্ধি হারে। ফলে যখন হিসাব প্রকাশ করা হয় তখন চক্রবৃদ্ধি হারে খেলাপি ঋণের পরিমাণটা অনেক বড় দেখায়। প্রকৃত ঋণটা যদি ধরা হয়, তাহলে দেখা যাবে অত বড় না। এর পেছনে নিশ্চয় কোনো ইন্টারেস্ট আছে যেজন্য ওই চক্রবৃদ্ধি হারে যেটা বর্ধিত সুদ, সেটাসহ সেটাকে খেলাপি ঋণ ধরা হয়। সেটা একটা দুর্বলতা আছে আমাদের। সেটা আমরা অ্যাড্রেস করে এবং সেটা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।


যারা খেলাপি হয়েছেন, তাদের তা পরিশোধ করার জন্য ‘একটা সুযোগ’ দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সাথে সাথে সব পত্রিকাগুলোর মালিকরা কে কত ঋণ নিয়েছে, বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা অন্যান্য মিডিয়া, সেগুলোর একটা হিসাব নেওয়া হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।


মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের (রাইট অফ) স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ যোগ করলে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ১২২ কোটি টাকা।


বছরের পর বছর ধরে ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন-রাইট অফ বলে। যদিও এধরনের ঋণগ্রহীতা পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।


বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর ‘এক টাকাও বাড়বে না’।


সেজন্য ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর সে কথা ফলেনি, খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে।

কালো টাকা সাদার সুযোগ সংবিধান পরিপন্থী: টিআইবি

কালো টাকা সাদার সুযোগ সংবিধান পরিপন্থী: টিআইবি

admin June 15, 2019

নিউজবিডি ডেস্ক:
প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধানকে অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক, দুর্নীতিবান্ধব বলে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, কালো টাকা সাদা করার এই বিধান প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির পরিপন্থী। শুক্রবার সংস্থাটির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।


টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোসহ কয়েকটি উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য হলেও সামগ্রিকভাবে এই বাজেটে ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও আয়বৈষম্য নিরসনে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসবের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে সম্পদ ও আয়বৈষম্য আরও বাড়বে।’


কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগপ্রাপ্ত খাতে দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৎপথে এসব খাতে আয় ও সম্পদ আহরণের সুযোগ ধূলিসাৎ হবে। এর প্রভাবে দুর্নীতির বিস্তৃতি ও গভীরতা আরও বাড়বে। সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে কার্যকর কোনও পথনির্দেশ বা পরিকল্পনা না থাকায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।


২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থী হলেও দফায় দফায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে এসেছে একের পর এক সরকার। এটি সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন ও দুর্নীতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির পরিপন্থী। এরপরও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে এই অনিয়মকে বাদ না দিয়ে বরং এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার জমি কেনার বিষয়টিও যোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করা যাবে।’


ড. ইখতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট খাতে জনগণের করের টাকায় নতুন করে বাড়তি প্রণোদনার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা এ খাতের শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় কোনও ভূমিকা রাখবে কিনা, রাখলে কীভাবে; সে ব্যাপারে সরকারের কী বিবেচনা রয়েছে, তার ইঙ্গিত নেই।’


বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ)-এর জন্য কোনও বরাদ্দ না করায় হতাশা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটে কোনও বরাদ্দ না রাখাটা একবারেই অযৌক্তিক ও উল্টো পথে হাঁটার শামিল। সুতরাং বিসিসিটিএফে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।’ পাশাপাশি জলবায়ু বাজেটে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও এলাকা চিহ্নিতকরণসহ জবাবদিহি নিশ্চিতে কৌশলগত দিকনির্দেশনারও দাবি জানান তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারালো ইংল্যান্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারালো ইংল্যান্ড

admin June 15, 2019

নিউজবিডি ডেস্ক:
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজ জয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৪.৪ ওভারে ২১২ রান করে অলআউট হয়। জবাবে ৩৩.১ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জো রুট দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। বল হাতে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হন তিনি।


ইংল্যান্ড প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেল। তাই ছয় পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে অবস্থান নিয়েছে ইংলিশরা। অপরদিকে সমান ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় ও দুটিতে হেরেছে ক্যারিবীয়রা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় তিন পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান ছয় নম্বরে।


শুক্রবার সাউদাম্পটনে এই ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার জনি বেয়ারস্ট ও জো রুট সাবলীল গতিতেই ব্যাট করতে থাকেন। দলীয় ৯৫ রানে বেয়ারস্ট আউট হন ৪৫ রান করে। এরপর দলীয় ১৯৯ রানে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিস ওয়েকস (৪০) আউট হন। তবে রেুট জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন। ৯৪ বল থেকে ১১টি চারের মারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।


এর আগে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে দলীয় ৪ রানেই এভিন লুইস বোল্ড হয়ে যান। সেই ধাক্কা কাটাতে দ্বিতীয় উইকেটে ক্রিস গেইল ও শাই হোপ চেষ্টা করছিলেন। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি। দলীয় ৫৪ রানে ক্রিস গেইল এবং এক রানের ব্যবধানে শাই হোপ আউট হয়ে যান। এর মধ্যে ক্রিস গেইল ৩৬ রান করেছেন।


মাত্র ৫৫ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান সাজঘরে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে ধীরে ধীরে সামনে এগুতে থাকেন নিকোলাস পুরান ও শিমরন হেটমায়ের জুটি। চতুর্থ উইকেটে এ দু’জন ৮৯ রান করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৪৪ রানে জো রুটের বলে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরেন হেটমায়ের। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৩৯ রান।


পরবর্তী ব্যাটসম্যানরাও আর সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। তবে পুরান ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আন্দ্রে রাসেল ২১ ও ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ১৪ রান করেন। ইংলিশ বোলারদের মার্ক উড এবং জোফরা আর্চার তিনটি করে উইকেট নেন।

পাবনায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

পাবনায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

admin June 15, 2019

পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার বেড়া উপজেলায় বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্রীসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার আগবাকশোয়া হঠাৎপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানায়, বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে আগবাকশোয়া গ্রামের জিনাত প্রামাণিকের ছেলে মান্নান প্রাং (৫৮), হবিবর প্রামাণিকের ছেলে সালাম প্রাং (৫০), মনসের সেখের ছেলে আনসার সেখ (৬০) বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।


অপরদিকে ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে একই উপজেলার চর বোরামারা গ্রামে তমসের ব্যাপারীর মেয়ে নাছিমা খাতুন বাড়ির পাশের মাঠে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে বাদাম তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হয়। পরে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নাছিমা নতুনভারেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।


বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বজ্রপাতে ভাঙ্গুড়ায় শামিম আহমেদ (৩২) নামে এক কৃষিজীবীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার নৌবাড়িয়া গ্রামের মো. হারান সরদারের ছেলে।


গ্রামবাসীরা জানান, দুপুরের পরে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি পাশের আঠারোবাগিয়া বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থেল মারা যান।

রৌমারীতে খানাখন্দে ভরপুর ১৫০ কি.মি. সড়ক, দুর্ভোগে ৬ ইউনিয়নের মানুষ

রৌমারীতে খানাখন্দে ভরপুর ১৫০ কি.মি. সড়ক, দুর্ভোগে ৬ ইউনিয়নের মানুষ

admin June 14, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। উপজেলার কাচা-পাকা প্রায় ৪৭টি সড়কে খানাখন্দের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ দিন রাস্তা সংস্কার না করায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।


সরেজমিনে, বন্দবেড়, চর শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, শৌলমারী, রৌমারী সদর, যাদুরচর ইউনিয়নের গ্রামীণ গুরুত্বপূর্ণ কাচা-পাকা ছোট ও বড় প্রায় ৪৭টি সড়কের বেহাল অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। ৬টি ইউনিয়নে চলাচলের অযোগ্য প্রায় দেড়শ কিলোমিটার রাস্তা।


রৌমারী উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, টিআর কাবিখা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে তালিকাভুক্ত কাঁচা রাস্তা গুলোর সংস্কার ও মেরামতের কাজ করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অনেক কাঁচা-পাকা রাস্তা সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়েছে। রাস্তা গুলো সংস্কার ও মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। অনেক রাস্তা পাকাকরণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।


রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন কাঁচা-পাকা রাস্তা গুলোর বিভিন্ন জাগায় ভেঙ্গে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার জন্য ইটের খোয়া ও বালি দিয়ে মেরামত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

বাড়ছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম

বাড়ছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম

admin June 14, 2019
রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়বে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৭ টাকা এবং ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যন্ত্রের সাহায্য ব্যতীত হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা এবং ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিল্টার সংযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিড়ি-সিগারেটের মতো ভয়াবহ আরেকটি পণ্য জর্দা ও গুল। এগুলোর ব্যবহার সরাসরি হওয়ায় শরীরের ওপর এর বিরূপ প্রভাবও বেশি। এর ব্যবহার কমানোর জন্য প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ১৫ টাকা এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
হলি আর্টিজান হামলা মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ ১৮ জুন

হলি আর্টিজান হামলা মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ ১৮ জুন

admin June 14, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান হামলা মামলায় চার পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৮ জুন দিন ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার রুহুল আহমেদএ তথ্য জানান।


বৃহস্পতিবার যারা সাক্ষী দিয়েছেন তারা হলেন- মোহাম্মদ ইয়াছিন গাজী পুলিশ (পরিদর্শক), লুৎফর রহমান( সহাকারী উপ-পরিদর্শক), পলাশ মিয়া (কনস্টেবল), মো. খোরশেদ আলম পাবলিক ম্যানেজমেন্ট দক্ষিণ বিভাগ ডিএমপি।


এদিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে মামলাটির ৫০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।


এর আগে গত ৮ আগস্ট আট জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির মামলাটির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


গত ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ৩০ জুলাই মামলাটির অভিযোগপত্রগ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য এ দিন ধার্য করেন। ৭ আগস্ট ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছায়। অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।


অভিযোগপত্রে ৮ আসামি হলেন- হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আবদুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এদের মধ্যে পলাতক আসামি মামুনুর রশিদ। এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি ৭ জন আসামি কারাগারে আছে। ঘটনাস্থলে মামলার ৫ আসামি নিহত হয়।


তারা হলো, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।


এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো, তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।


প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

admin June 14, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন দুই বছরেও শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ। গত বুধবার দুপুরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গত ১১ জুন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনসহ বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।


বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজভূমি রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের অসহযোগিতা ও বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যাগুলো তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করেন। রোহিঙ্গা সঙ্কটের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের দায়বদ্ধতার ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও মহাসচিবকে অবহিত করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


এছাড়া বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করার বিষয়ে জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের মহাসচিবের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততার অনুরোধ জানান শাহরিয়ার আলম। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার কারণে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন। তবে বরাবরের মতোই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের উদারতা ও মানবিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। এছাড়া জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়ারের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।


জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াদি উঠে আসে বৈঠকের আলোচনায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির বিষয়টি তুলে ধরেন। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিফেন্স অ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদ এবং মিনিস্টার ড. মো. মনোয়ার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বেপরোয়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

বেপরোয়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

admin June 14, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
এদেশে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরনার্থীরা। তারা ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গাদের নানা অপরাধের কারণে শুধু কক্সবাজারই নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারাও আতঙ্কে রয়েছে। বর্তমানে যে সকল ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের রাখা হয়েছে, সেখানকার বেশিরভাগ এলাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চারদিক খোলা থাকায় নির্বিঘ্নে ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাচ্ছে। তারা ক্যাম্পে থাকে ও খায়। আর অবাধে অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। গহীন অরণ্যে গড়ে তুলেছে অপরাধের স্বর্গরাজ্য। মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো কাজে তারা জড়িত। যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরের বাইরে কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওই পর্যন্ত যাওয়া সম্ভবই হয় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।


সূত্র মতে, সারাদেশে প্রায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ইয়াবা বেচাকেনাসহ নানা অপরাধ করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে। আরো প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা পরিচয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসা, মানবপাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। সন্ধ্যা হলে ক্যাম্পের ভেতরে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে নেমে পড়ে। পুরো ক্যাম্প তখন তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। নির্ধারিত হারে চাঁদা না দিলে ক্যাম্পগুলোতে অপহরণ, গুম, খুন প্রায়ই হচ্ছে। সন্ধ্যা হলে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পের বাইরে টহল দেয়। আর ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো অপরাধের জন্য অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৩৮ জন খুন হয়েছে।


সূত্র জানায়, বর্তমানে যে অবস্থায় রোহিঙ্গাদের রাখা হয়েছে, তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের মধ্যে হানাহানি, সংঘর্ষ, খুন, গুম বেড়েই চলছে। রোহিঙ্গারা খুবই বেপরোয়া ও হিংস্র। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, ক্যাম্পগুলোতে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বেষ্টনিতে নির্ধারিত জায়গায় রাখা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি দিচ্ছে যে, তোমরা এখানে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে না। চাষাবাদও করতে পারবে না। কারণ তোমাদের সরকার আমাদের খাওয়া-দাওয়ায় সাহায্য করছে না। আমাদের সাহায্য করছে এনজিও ও বিদেশিরা। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আকারে জানিয়েছে।


সূত্র আরো জানায়, এক শ্রেণীর এনজিও রোহিঙ্গাদের ওই এলাকায় থাকার জন্য নানাভাবে প্রভাবিত করে আসছে। ওসব এনজিওর কারণে রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসসহ জঙ্গিবাদের মতো ভয়ঙ্কর কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। আর ওসব কাজে অর্থ যোগানও দিচ্ছে এনজিওগুলো। ভাসানচরের মতো সুন্দর নিরাপদ পরিবেশে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তু রাখা হলেও এনজিওগুলোর কারণে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং এনজিওগুলো আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বিপরীতে রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতার নামে তারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। এনজিও কর্মকর্তারা সমুদ্র সৈকতে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছে।


এদিকে পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে ৭টি করে সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। তার মধ্যে টেকনাফের আবদুল হাকিম বাহিনী বেশি তৎপর। ওই বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য যখন-তখন লোকজনকে অপহরণ করে। ২০১৬ সালের ১৩ মে টেকনাফের মুছনী রোহিঙ্গা শিবিরের পাশে শালবন আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায় হাকিম বাহিনী। ওই সময় আনসার কমান্ডার আলী হোসেন তাদের গুলিতে নিহত হন। তারা লুট করেছিল আনসারের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭ শতাধিক গুলিও। অতিসম্প্রতি টেকনাফে তিন রোহিঙ্গা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তারাও সম্প্রতি এক রোহিঙ্গা শিশুকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল।


এদিকে এ প্রসঙ্গে পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী জানান, রোহিঙ্গারা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। কক্সবাজার জেলার বাইরে শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার জন্য প্রায় ১১শ’ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারপরও রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।


অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, শুরু থেকে আমরা বলে আসছি যে রোহিঙ্গারা কত বেপরোয়া। তারা এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে যে, তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, আশপাশের রাষ্ট্রের জন্য চরম হুমকি। নির্ধারিত স্থান রোহিঙ্গাদের চারদিকে কাটা তারের বেড়া দিয়ে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনিতে রাখার জন্য আমরা বলে আসছি। এর বাইরে থাকলে তারা সন্ত্রাসী হয়ে উঠবে। এসব বিষয়গুলো আমরা আন্তর্জাতিক মহলকে জানিয়েছি। তাদের জন্য নির্ধারিত জায়গা করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাসহ স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে তাদেরকে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত তাদের জন্মভূমিতে পাঠানো সম্ভব ততোই বাংলাদেশসহ বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য মঙ্গল। তবে বর্তমানে যে অবস্থায় রোহিঙ্গারা রয়েছে, চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তাদের নিরাপত্তা বেষ্টনিতে রাখার কার্যক্রম চলছে।

পটুয়াখালীতে এক বেওয়ারিশসহ ৩ লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীতে এক বেওয়ারিশসহ ৩ লাশ উদ্ধার

admin June 14, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
পটুয়াখালীর বাউফল ও মহিপুর উপজেলার পৃথক স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বাউফলের বগা ফেরিঘাট সংলগ্ন লোহালিয়া নদীর চর থেকে পুলিশ একজন নারী ও একজন পুরুষের লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়না-তদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়।


পটুয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় নারীর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। বোরকা পরিহিত ওই নারীর পরনে সালোয়ার-কামিজ ছিল। তাকে ভুড়ি বের হওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে দুই-একদিন আগে ওই নারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। কারণ ওই নারীর পেট কাঁটা থাকলেও তার ব্যবহৃত বোরকা এবং পরনের পোশাক অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।


অপরদিকে অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের বয়স আনুমানিক ৪০ বছর হবে। ওই ব্যক্তি ৪-৫ দিন আগে মারা যাওয়ায় মরদেহে পচন ধরেছে। এটি নদীর চরে আটকে ছিল বলেও জানান তিনি।


পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মইনুল হাসান বলেন, যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক না কেন ময়না-তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ শনাক্ত করার চেষ্টা চলেছে।


এদিকে গত বুধবার রাতে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের গঙ্গামতি পয়েন্ট থেকে সাগরে ভেসে আসা একটি বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।


মহিপুর থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের নাম-পরিচয় পাওয়া যায় নাই। ময়না-তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকার দুই উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে ৬ লাশ উদ্ধার

ঢাকার দুই উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে ৬ লাশ উদ্ধার

admin June 14, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
ঢাকার অদূরে সাভার ও আশুলিয়া থেকে এক রাতে ৪ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুটি নারী ও দুটি পুরুষের লাশ। গত বুধবার রাতে সাভারের উলাইল এলাকার ভাণ্ডারির মোড়, আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ইটাখোলা, পলাশবাড়ী ও ডেন্ডাবর এলাকা থেকে ওইসব লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও এক দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা দুই নির্মাণ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।


পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে সাভারের উলাইলের ভাণ্ডারির মোড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।


অন্যদিকে রাতেই আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ইটাখোলা এলাকা ও ডেন্ডাবর এলাকার দুটি বাড়ি থেকে দুই নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত বুধবার রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ীর পাল গার্মেন্টসের সামনে থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।


আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, কীভাবে ওইসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


অপরদিকে সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. লিটন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পৌর এলাকার মজিদপুর মহল্লার মো. জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটির ট্যাংক থেকে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাদের বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫।


জানা গেছে, বিকাল ৫ টার দিকে ওই দুই শ্রমিক সেফটিক ট্যাংকির ভিতরে সেন্টারিংয়ের বাঁশ-কাঠ খোলানোর জন্য নামে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় সেখানে অক্সিজেনের অভাবে তারা দুজনই অচেতন হয়ে যায়। ট্যাংকির ভিতর জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পড়ে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।।


লিটন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে দুই শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে অন্য কোন নির্মাণ শ্রমিক কিংবা ঠিকাদার না থাকায় তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।


সাভার মডেল থানার এসআই মো. আবু সাঈদ পিয়াল বলেন, দুই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় সনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Image Gallary

 
1 / 3
   
Caption Text
 
2 / 3
   
Caption Two
 
3 / 3
   
Caption Three