রাজশাহীতে কবরস্থ করার একদিন পর থানায় হাজির নারী!

রাজশাহীতে কবরস্থ করার একদিন পর থানায় হাজির নারী!

admin June 13, 2019

নিউজ ডেস্ক:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে সোমবার অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধারের পরদিন তাকে সনাক্ত করা হয় গোলাপি বেগম নামে। ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক গোরস্থানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয় তার লাশ। একদিন পর বুধবার সকালে গোলাপী বেগম থানায় ফিরে জানালেন তিনি মরেননি।


গোলাপি বেগম বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া এলাকার বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী।


বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসীন আলী জানান, গত সোমবার ভুট্টা ক্ষেত থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। তার মুখমন্ডল ছিল পোড়া মবিলে ঝলসানো। এ কারণে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারছিল না কেউ।


লাশের পাশ থেকে একটি কালো বোরকা, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি গুলের কোটা উদ্ধার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার গোলাপীর পরিবারের লোকজন থানায় এসে উদ্ধার করা আলামত দেখে ওই লাশ সনাক্ত করলে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পারিবারিক করবস্থানে লাশ দাফনও করা হয়।


গোলাপি বেগম বলেন, গত ২৯ মে বুধবার ঈদের আগে তিনি রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় তার পালিত একটি গরু বিক্রি করেন। এই টাকা নেয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে চাপ দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে তিনি পরদিন বিদ্যুৎ বিল দেয়ার নাম করে ৬ বছরের সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠেন।


পরে ৬ বছরের সন্তান মারুফ হোসেন ও পেটের ৫ মাসের সন্তানের কথা ভেবে বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে থেকে তিনি মহানন্দা ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে এসে নামেন। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ তাকে চিনতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।


গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বলেন, গোলাপী বেগম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমি বাদী হয়ে গত ১ জুন বাঘা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। মৃত ওই নারীর মুখে মবিল মাখানোর কারণে আমরা সঠিকভাবে লাশ চিনতে পারিনি।


বাঘা থানার ওসি বলেন, এখন মৃত নারীর পরিচয় মিলছে, তার নাম দোলেনা বেগম (৩৮)। বাড়ি পাশ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের চারা বটতলায়। তার স্বামীর নাম সুরুজ মিয়া। তিনি উদ্ধার হওয়া লাশের পোশাক, স্যান্ডেল ও ছবি দেখে পুলিশকে জানিয়েছেন মৃত ওই নারী তাঁর স্ত্রী। গত এক সপ্তাহ আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খুঁজেও তাকে পাননি। দু’দিন আগে চারঘাট থানায় একটি জিডি করেন। সেখান থেকে তথ্য পেয়ে বাঘা থানায় এসে তাঁর স্ত্রীর ছবি দেখে তিনি লাশ সনাক্ত করেন।


বাঘা-চারঘাট সার্কেলের সিনিয়র এএসপি নুরে আলম বলেন, আমরা প্রথমে জেনেছিলোম উদ্ধার হওয়া লাশ আড়ানী পৌর এলাকার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মোমিনের স্ত্রী গোলাপির। কিন্তু বুধবার সকালে গোলাপি নিজ থেকে থানায় হাজির হওয়ায় জানলাম এ লাশটি সুরুজ মিয়ার স্ত্রী দোলেনার। এখন সুরুজ মিয়ার তথ্য মতে পুলিশ অগ্রসর হচ্ছে। আশা করা যায় খুব শিগগির তার হত্যার প্রকৃত রহস্য আমরা উদঘাটন করতে সক্ষম হবো।

বিশ্বকাপ ম্যাচ হাইলাইটস-১৭ : অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান

বিশ্বকাপ ম্যাচ হাইলাইটস-১৭ : অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান

admin June 13, 2019

ভিডিও দেখতে স্ক্রল করে নিচে ⇓ যান অথবা এখানে ক্লিক করুন


বিশ্বকাপ ডেস্ক:
১২ জুন ২০১৯, বুধবার, টনটন। ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১৭তম আসর। এদিন ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পরও ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রেখেছিলেন মোহাম্মদ আমির। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পেরে উঠেনি পাকিস্তান। সরফরাজ আহমেদের দলকে হারিয়ে দারুণ এক জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিকেল সাড়ে ৩ টায় টস হেরে ৪১ রানে জিতেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ৩০৭ রান তাড়ায় ২৬৬ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।


আগের ম্যাচে ওয়ানডেতে নিজের মন্থরতম ফিফটি করা ওয়ার্নার এদিন শুরু থেকে ছিলেন আক্রমণাত্মক। শুরুতে একটু ভুগছিলেন ফিঞ্চ। প্রথম পাঁচ ওভারে আমিরের দুটি ওভার মেডেন খেলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।


ফিঞ্চকে ভোগাচ্ছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ। বাঁহাতি এই পেসারের বলে ২৬ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ডানহাতি ওপেনার। মোহাম্মদ হাফিজের বলে ৪৪ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন সরফরাজ। ৬৩ বলে ফিফটি করার পর রানের গতি বাড়ান ফিঞ্চ।


এবারের আসরে দুবার ওয়ানডেতে নিজের মন্থর ফিফটির রেকর্ড ভাঙা ওয়ার্নার শুরু থেকে ছিলেন স্বচ্ছন্দ। বাঁহাতি এই ওপেনার পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ৫১ বলে।


দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ফিঞ্চকে বিদায় করে ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আমির। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ৮৪ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায় করেন ৮২ রান। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।



বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচের হাইলাইটস:


[accordions title="হাইলাইটস"]
[accordion title="বাংলাদেশ ম্যাচ" load="show"]

[/accordion]
[accordion title="সব ম্যাচ" load="hide"]

[/accordion]
[/accordions]

এসেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে বোল্ড করার পর সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকে থামান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ওয়ানডেতে ১৫তম সেঞ্চুরি পাওয়া ওয়ার্নারের ১১১ বলে খেলা ১০৭ রানের ইনিংস গড়া ১১ চার ও এক ছক্কায়।


দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা উসমান খাওয়াজা ও শন মার্শকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় একটা ধাক্কা দেন আমির। সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ফিঞ্চের দল। মাত্র ১৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ ৩১০ পর্যন্ত যেতে পারেনি তারা।


৪৯তম ওভারে চার বলের মধ্যে অ্যালেক্স কেয়ারি ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার খুশিতে ভাসেন আমির। অস্ট্রেলিয়া থামে ৩০৭ রানে। ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন আমির। তরুণ পেসার আফ্রিদি ২ উইকেট নেন ৭০ রানে।


Australia vs Pakistan Match Highlights:


[embed]https://www.youtube.com/watch?v=MaqoEmrBPq8&feature=onebox[/embed]

সংক্ষিপ্ত স্কোর:


অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ৩০৭ (ফিঞ্চ ৮২, ওয়ার্নার ১০৭, স্মিথ ১০, ম্যাক্সওয়েল ২০, মার্শ ২৩, খাওয়াজা ১৮, কেয়ারি ২০, কোল্টার-নাইল ২, কামিন্স ২, স্টার্ক ৩, রিচার্ডসন ১*; আমির ১০-২-৩০-৫, আফ্রিদি ১০-০-৭০-২, হাসান ১০-০-৬৭-১, ওয়াহাব ৮-০-৪৪-১, হাফিজ ৭-০-৬০-১, মালিক ৪-০-২৬-০)


পাকিস্তান: ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ (ইমাম ৫৩, ফখর ০, বাবর ৩০, হাফিজ ৪৬, সরফরাজ ৪০, মালিক ০, আসিফ ৫, হাসান ৩২, ওয়াহাব ৪৫, আমির ০, আফ্রিদি ১*; কামিন্স ১০-০-৩৩-৩, স্টার্ক ৯-১-৪৩-২, রিচার্ডসন ৮.৪-০-৬২-২, কোল্টার-নাইল ৯-০-৫৩-১, ম্যাক্সওয়েল ৭-০-৫৮-০, ফিঞ্চ ২-০-১৩-১)


ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী


ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড ওয়ার্নার

২০১৯-২০ অর্থবছরের বিশাল বাজেট ঘোষণা হচ্ছে আজ

২০১৯-২০ অর্থবছরের বিশাল বাজেট ঘোষণা হচ্ছে আজ

admin June 13, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে আগামী বাজেট ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে।


গতবছর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। তিনি টানা ১০বার জাতীয় বাজেট পেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশে রেকর্ড গড়েন। ভ্যাট আইন কার্যকর ও বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল গঠনসহ বেশ কিছু নতুন বিষয় থাকতে পারে এবারের বাজেটে।


ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করা হতে পারে ব্যাংকিংখাত, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্রসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে। ঘোষণা থাকতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভ‚ক্তির। দেশের জনগনের ওপর নতুন কোন করচাপ তৈরি করতে চান না অর্থমন্ত্রী। এজন্য তিনি এবারের বাজেটে করজাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেবেন, যাতে করহার না বাড়িয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ করা যায়।


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবারের বাজেটের করহারের বিষয়ে একাধিবার বলেছেন, করের হার বাড়িয়ে কোন ধরনের করচাপ তৈরি হোক, এটা তিনি চান না। বরং করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে চানা।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য কানন কুমার রায় জানান, আগামী এক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় করদাতা বাড়ানোর লক্ষে বিশেষ উদ্যোগ থাকবে এবারের বাজেটে। বেকারদের জন্য প্রথমবারের মত ‘উদ্যোক্তা তহবিল’ গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য হলো নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ ছাড়া রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষে আগামী বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ থাকতে পারে।


অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তৈরি পোশাক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে যেভাবে প্রনোদনা পেয়ে আসছে, আরো কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রনোদনা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে,পুঁজিবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ঋণ ব্যবস্থার প্রস্তাব থাকবে এবারের বাজেটে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এনবিআর-বহির্ভূত কর ১৪ হাজার ৫০০ কোটি,কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।


প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ ৫ দশমিক ৫ শতাংশে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন

বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন

admin June 13, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণে আসন্ন বাজেটে অবহেলিত রংপুর বিভাগের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে রংপুরবাসী। দাবি বাস্তবায়নে আট দফা তুলে ধরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (১২ জুন) দুপুরে নগরীর কাচারি বাজারে রংপুর উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, 'সারাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, রংপুর তখন বাজেট বৈষম্যের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দরিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলছে বিভাগীয় এই অঞ্চলের। সারাদেশে দারিদ্রতার হার শতকরা ২৪ ভাগ হলেও রংপুরে এটি ৪৮ ভাগ।'


বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রংপুরের মানুষরা। এখানকার পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, তিনজন মন্ত্রী, দুইজন প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ রংপুর বিভাগের মানুষ হলেও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার এ বিভাগ। রংপুরের খাদ্য শস্য গোটা দেশের চাহিদা মেটালেও বার বার অবহেলিতই থাকছে রংপুরের মানুষ।'


ফোরামের আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ টিটনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ, কৃষক নেতা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, সনাক রংপুর জেলা সভাপতি মোশফেকা রাজ্জাক, যুবলীগ নেতা আতাউজ্জামান বাবু, ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়খ রুম্মান ইসলাম, অনিন্দ্য রায়, বেলাল হোসেন প্রমুখ।


পিছিয়ে পড়া রংপুরকে সারাদেশের উন্নয়নের সাথে এগিয়ে না রাখলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না বলে জানান বক্তারা। এ সময় সকল বিভাগে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা, রংপুরে দুইটি সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠা, রংপুর থেকে ঢাকাগামী বিরতিহীন ও বুলেট ট্রেন চালু, বাজেটে রংপুরকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমান বাজেট বরাদ্দ দেয়া, বিদেশে শ্রম রফতানিতে বৈষম্য দূর করা ও প্রণোদনা স্বাপেক্ষে রংপুরে শিল্পায়ন নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।


সমাবেশ শেষে রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা ও জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা: মান নিয়ে অভিযোগ বিটিআরসি’র গণশুনানিতে

ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা: মান নিয়ে অভিযোগ বিটিআরসি’র গণশুনানিতে

admin June 13, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
থ্রিজি-ফোরজিতে ধীরগতি, ভয়েস কল কেটে যাওয়া ও অযাচিত এসএমএস সার্ভিসের নামে টাকা কেটে নেওয়াসহ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক দুর্বলতার অভিযোগ তুলে গ্রাহকেরা তা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটরিয়ামে ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ বিষয়ে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। গণশুনানি কমিটির সভাপতি ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে গণশুনানি পরিচালনা করেন সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক এবিএম হুমায়ুন কবির। প্রশ্নকারী রাজকুমার সাহা জানতে চান, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো ও নূন্যতম মেয়াদ ৮ দিন করা যায় কিনা? জাকির হোসেন নামে একজন গ্রাহক ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর দাবি জানান।


এ বিষয়ে বিটিআরসির এবিএম হুমায়ুন কবির বলেন, অপারেটররা আশা করি বিবেচনায় নেবেন। ইন্টারনেটের মূল্য কমানো নিয়ে পর্যবেক্ষণে আছে। পর্যবেক্ষণ শেষে মূল্য ও সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আব্দুস সালাম নামে একজন গ্রাহক অযাচিত নম্বর থেকে কল আসা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন।


এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ডিএনডি (ডু নট ডিস্ট্রাব) অপশন কাজ করছে, এ ছাড়া অপারেটররাও ব্যবস্থা নেবে। ডি-অ্যাক্টিভেটেড নম্বর দিয়ে ইমো, ভাইবারের মতো অ্যাপস ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান জাহিদুল ইসলাম এবং ইমরান আহমেদ নামে গ্রাহক।


এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছে আইটিইউ, আমরাও কাজ করছি। আশা করি দ্রæতই সমস্যার সমাধান হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের সেবার মান নিয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, টেলিটক সরকারি প্রতিষ্ঠান। সৌদি টেলিকম আসছে, টেলিটক যাতে আরো উন্নতর হয়।


যত্রতত্র টাওয়ার বসানো নিয়ে টাওয়ার শেয়ারিং বিষয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নে বিটিআরসির মহাপরিচালক মাহফুজুল করিম মজুমদার বলেন, টাওয়ারের রেডিয়েশনের যে ফলাফল পেয়েছি তা আন্তর্জাতিকমানের চেয়ে অনেক নিচে। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। টাওয়ারের চেয়ে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের ঝুঁকিটা বেশি, এটাও মাথায় রাখতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিং নিয়ে অপারেটর ও টাওয়ারকো কাজ করছে।


মহাপরিচালক শহিদুজ্জামান বলেন, টাওয়ারের জন্য ক্ষতি হচ্ছে- এটা অমূলক ধারণা। যদি ক্ষতি হতো তাহলে উন্নত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। সারা দেশে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও জনবহুল এলাকায় রেডিয়েশন পরীক্ষা করে হাইকোর্টকে জানাবো।


আব্দুস সালাম নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি সেকেন্ড পালসের প্যাকেজ কিনে কথা বললেও অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মহাপরিচালক শহিদুজ্জামান বলেন, সুস্পস্ট অভিযোগ দিন। যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। অপারেটররাও সতর্ক থাকবেন, ভবিষতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না আসে।


তিনি বলেন, আমরা সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছি। এ বছরেই চালু করবো। এ সিস্টেম চালু হলে অভিযোগ করলে পরীক্ষা করে দেখবো কোনো ধরনের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কিনা এবং করে থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবো। বিটিআরসির হুমায়ুন কবির জানান, শুনানিতে প্রায় ২২টি প্রশ্ন এসেছে। অভিযোগের সমাধানের তথ্য আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।


বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, অভিযোগগুলো নিশ্চয়ই কমিশন সমাধান করবে। কল সেন্টার সপ্তাহে ৫ দিন ছিল। এখন সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। ফেসবুকসহ ওয়েবসাইটে অভিযোগ নেওয়া হবে। অপারেটরের যারা আছেন, কী কী অভিযোগ এসেছে তা শুনেছেন, কী কী সমস্যা? আমরা এটুকু শুনেছি আমরা আপনাদের বেশি বেশি সমর্থন করি! সত্যিকার অর্থে বিটিআরসি কখনও কাউকে সমর্থন করে না। আইন যেভাবে আছে আমরা সেভাবে আচরণ করি।


মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা খুবই তৎপর। আমরা টেস্ট করেছি, রেডিয়েশন নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফাইভ-জির জরিপ কাজ শেষ করা হবে বলে জানান একজন কর্মকর্তা।

ঈদযাত্রায় পথদুর্ঘটনা: নিহত ২৪৭, আহত ৬৬৪ জন

ঈদযাত্রায় পথদুর্ঘটনা: নিহত ২৪৭, আহত ৬৬৪ জন

admin June 13, 2019

স্টাফ রিপোর্টার:
ঈদযাত্রায় ১২ দিনে ১৮৫ সড়ক দুর্ঘটনায় সারাদেশে ২২১ জন নিহত হয়েছেন। মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মোট ৬৫২ জন আহত ও ৩৭৫ জন পঙ্গু হয়েছেন। তবে সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিত ২১২ দুর্ঘটনায় ২৪৭ নিহত ও ৬৬৪ জন আহত হয়েছেন।


বুধবার বেলা পৌনে ১২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন ২০১৯’ প্রকাশ উপলক্ষে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কামরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাড়ে ৫ কোটি মানুষ ঈদযাত্রায় বাড়ি ফিরেছেন।


৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ১২ দিনে মহাসড়কে ২২১ জন নিহত হয়েছেন। নৌপথে ৫ দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ট্রেনে কাঁটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন।


তিনি বলেন, ৬৩টি বাস, ৩৮টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রো, ৩০টি নছিমন-করিমন, ৬৪টি মোটরসাইকেল ও ২৬টি অন্য যানবাহনে এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিলো। ৫১টি গাড়িচাপায়, ৮১টি সংঘর্ষ, ১৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ও অন্যান্য কারণে ৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটে।


কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে ঈদে বাড়ি ফেরার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুবা ঈদের সময় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গাড়ি ভাড়া করে এনে যাত্রী সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।


নিরাপদ সড়কের জন্য তিনি ১০টি সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, বছরের প্রথম থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে যেকোনো উৎসবে যাত্রা নিরাপদ হয়।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অর্থ সম্পাদক সাইমুন নাহার এবং প্রচার ও প্রকাশনা আবুল বাশার হাওলাদার প্রমুখ।

দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৩ বছর

দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৩ বছর

admin June 13, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
গত বছরের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কিছুটা বেড়ে ৭২ দশমিক ৩ হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের আয়ু ৭০ দশমিক ৮ বছর আর নারী ৭৩ দশমিক ৮ বছর। ফলে পুরুষের থেকে নারীরা গড়ে তিন বছর বেশি বাঁচে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর ছিলো।


এ ছাড়া ২০১৬ সালে ৭১.৬, ২০১৫ সালে ৭০.৯, ২০১৪ সালে গড় আয়ু ছিলো ৭০ দশমিক ৭ বছর। ২০১৩ সালে গড় আয়ু ছিলো ৭০ দশমিক ৪ বছর। ২০০৮ সালে গড় আয়ু ছিলো ৬৬ দশমিক ৮ বছর।


বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মনিটরিং দ্যা সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্টাটিসটিক্স অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে এ চিত্র উঠে এসেছে। আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যানে ভবনে এ প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।


এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, নারীদের রোগবালাই কম হয়। তারা উচ্চ রক্তচাপে কম ভোগেন। তাই তাদের গড় আয়ু বেশি। প্রতিবছর বিবিএস ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশ করে থাকে। এ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে একজন মানুষের জীবনের জন্ম, মৃত্যু, আয়ুষ্কাল, বিবাহের মতো অবধারিত বিষয়ের চিত্র ওঠে আসে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।


বিবিএস জানায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগ। মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৯০৯ ডলার। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। দেশে দারিদ্রের হার কমছে। ক্ষুধামুক্ত দেশ সব খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। এমএসভিএস প্রকল্পের ২০১৮ সালের জরিপে উঠে এসেছে এরকম চিত্র।

ছাত্রদল নিয়ে উভয় সংকটে বিএনপি

ছাত্রদল নিয়ে উভয় সংকটে বিএনপি

admin June 13, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বয়সসীমা নির্ধারণ না করে চিরাচরিত ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে ছাত্রদলের আন্দোলন ও কমিটি নিয়ে উভয় সংকটে আছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।


ছাত্রদলের আন্দোলন ও কমিটির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটা নিয়ে আমরা উভয় সংকটে। এই যে ওরা (ছাত্রদলের নেতাকর্মী) দীর্ঘদিন জেল খাটলো, মামলা এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হলো, অথচ ওদের অবদানের বিনিময়ে ওরা কী পাবে? ওদের কী মূল্যায়ন হবে? দোষটা কার? দোষ কারও না। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না।


তিনি বলেন, ছাত্রদল বিরাট একটি সংগঠন। এই সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক ঐতিহ্য আছে। তবে অতীতের মতো ওদের আন্দোলনের ধারাবাহিক ঐতিহ্যটা নেই। কিন্তু তারপরও তারা প্রচেষ্টা করে।


ছাত্রদলের কার্যক্রমের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, ছাত্ররা কোথায় থাকবে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর তারা ক্যাম্পাসে যেতে পারে না। তাই তাদের কর্মকাণ্ডটা ক্যাম্পাসভিত্তিক কিংবা ছাত্রদের নিয়ে কর্মকাণ্ডটা তারা করতে পারছে না। ছাত্রদলের নিয়মিত কাউন্সিল হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউন্সিল হওয়ার মতো হয়তো পরিস্থিতি নেই, যে কারণে আমাদের কাউন্সিলগুলো বিলম্বিত হয়। এ কারণে অনেকের ছাত্রত্ব থাকে না। আর কাউন্সিল নিয়মিত হলে ছাত্ররা তাদের অবদান অনুযায়ী পুরস্কৃত হয়।


ছাত্রদলের বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার যেটা হয়েছে, সেটাকে আমি অস্বাভাবিক মনে করি না। কারণ বড় বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনে প্রতিযোগিতাগুলো অনেক সময় প্রতিহিংসারও রূপ নেয়। সুতরাং এটাকে বড় করে বা নেতিবাচক করে দেখার কিছুই নেই। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে- সেটা হলো, ওদের বোঝানো এবং এই বিষয়টা স্বাভাবিক করতে ইতিবাচক ভ‚মিকা পালন করতে হবে। আর তাদের মূল্যায়ন কিভাবে করা যায়, তা আমরা করবো। তাই আমি সবাইকে বলবো, এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেন।


বিএনপি একটি বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গয়েশ্বর বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলবো, উনি যেন নিজের চরকায় তেল দেন, তার চেহারাটা আয়নায় দেখুন। কারণ আমার সংগঠনকে তিরস্কার করে তার সংগঠনের দূরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সুতরাং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের ঘর গোছানোর কাজটা আগে করুন। ছাত্রদলের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা তাদের কথাগুলো শুনবো এবং সেই কথাগুলো শুনে আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো। আমি বিশ্বাস করি, ওরা এটা বুঝবে। সুতরাং ওদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা এটার সমাধান করবো।


প্রশ্ন উঠেছে যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করে বিএনপির কী লাভ হলো- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন কোনো দলের লাভ-ক্ষতির হিসাব করার সময় নয়। আর আমি যদি দলীয় লাভের হিসেব করি তাহলো তো ঐক্য হবে না। কবে নাগাদ বিএনপি মাঠে নামবে- জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, আমরা তো মাঠে নামি। কিন্তু আমাদের মাঠে নামাটা নামার মতো কেউ দেখেনি। সেই দেখানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর বিএনপির জন্ম বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে। আর যদি ঐক্য নাও হয়, তাহলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে? তাহলে তো জনগণের দল হিসেবে বিএনপি দায়িত্বশীল দল হলো না।


আন্দোলনের জন্য বিএনপি কতোটা সংগঠিত- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো সময় কোনো দল শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে এবং শতভাগ দল গুছিয়ে আন্দোলন করে না। কারণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দলটা গুছিয়ে আসে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ নেই- ক্ষমতাসীন দলের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, আমরা মনে করি, আমার দেশে আমি বাস করি। সুতরাং আমার দেশের সমস্যা আমাকেই সমাধান করতে হবে।

সরকার মানবাধিকার বিরোধী -সুলতানা কামাল

সরকার মানবাধিকার বিরোধী -সুলতানা কামাল

admin June 13, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বাংলাদেশ রাষ্ট্র বা সরকার মানবাধিকারের বিপক্ষে বা বিরুদ্ধে অবস্থান করে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেছেন, আমরা সবসময় মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলি। কিন্তু রাষ্ট্র বা বর্তমান সরকার আমাদের বিরুদ্ধাচারণ করে। এ থেকেই বোঝা যায় সরকার ‘মানবাধিকারবিরোধী’।


বুধবার রাজধানীর উইমেন্স ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল এ কথা বলেন। ‘কল্পনা চাকমার অপহরণের ২৩ বছর: ন্যায়বিচারের দাবি ও মামলার বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’ ও ‘বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক’।


সুলতানা কামাল বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে যে আচরণের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই আচরণই আমরা দেশের একটি জনগোষ্ঠীর ওপর করছি। এমনকি একই পদ্ধতিতে, যা পাকিস্তান আমাদের ওপর করেছিল। আর যারা হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারা অবশ্যই ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত থাকে। সেই ক্ষমতা রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো ধরনের হতে পারে।


তিনি আরও বলেন, দেশের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর করুণ অবস্থা আমরা দেখতে পাচ্ছি। দেশের মঙ্গলে কোনো সরকার আজ পর্যন্ত তেমন কোনো ভালো কাজ করতে পারেনি। অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন দেখালেও অভ্যন্তরীণ কোনো উন্নয়ন হয়নি। এসব কিছু আমাদের বলেই যেতে হবে। হয়তো একদিন তাদের টনক নড়তে পারে।


‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মনিরা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য লুৎফুননেছা খান, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাখি দাস পুরকায়স্থ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, লেখক ও সাংবাদিক বিপ্লব রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা, সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ২৩ বছরেও কল্পনা চাকমাকে ফিরিয়ে দিতে পারলো না রাষ্ট্র। নির্বাচনের আগের দিন তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ নেই। সরকার আদিবাসীদের কোনোভাবেই মূল্যায়ন করে না। পার্বত্যাঞ্চলে এখনো বাজারে গেলে তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। এখনো গ্রেফতার আতঙ্ক নিয়ে অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছে পাহাড়িরা।


২৩ বছরে ৪৩ জন তদন্তকারী অফিসারের প্রচেষ্টা সত্তে¡ও কল্পনা চাকমাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অদূর ভবিষ্যতেও এর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে দায়িত্বহীন ও হতাশাব্যঞ্জক বক্তব্য দেওয়া হয়। মাঝে কিছুদিন পাহাড়ে ভালো পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। যেখানে আদিবাসী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কারও কোনো নিরাপত্তা নেই। এ সময় কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের বিচার নিশ্চিতকরণসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে চার দফা দাবি জানানো হয়।


দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা এবং দোষীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত কল্পনা অপহরণকারীদের এবং রুপন, সুকেশ, মনোতোষ ও সমর বিজয় চাকমার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা, আদিবাসী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা।

কুড়িগ্রামে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া ফেরত দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

কুড়িগ্রামে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া ফেরত দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

admin June 13, 2019

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকাগামী নৈশকোচের যাত্রীদের টিকিটের অতিরিক্তি ভাড়া ফিরিয়ে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।


গত মঙ্গলবার রাতে কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী কলেজ সংলগ্ন সেতুতে ঢাকাগামী বিভিন্ন নৈশকোচে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রীদের ভাড়া চেক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত কুমার সিংহ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা এবং হাসিবুল হাসান।


নৈশকোচের যাত্রীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানের সময় অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েও টিকিটে তা না লেখার কারণে তারা বাড়তি টাকা ফেরত পাননি। তারপরও প্রশাসনের এ পদক্ষেপে খুশি যাত্রী সাধারণ।


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্তি ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীনের নির্দেশে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাঁঠালবাড়ী ব্রিজের উপর পুলিশের সহায়তায় নৈশকোচে অভিযান পরিচালনা করা হয়।


‘এ সময় যেসব যাত্রীদের টিকিটে অতিরিক্তি ভাড়া নেওয়া হয়েছে তাদের কোচের সুপারভাইজারের মাধ্যমে অতিরিক্তি গ্রহণকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত যাত্রীদের সচেতন হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে জানান, যারা টিকিট কিনবেন তারা প্রদেয় ভাড়া উল্লেখ করে টিকিট নেবেন। তাহলে বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব হবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদ্রাসাছাত্র পরানকে হত্যা করে শিক্ষক

বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদ্রাসাছাত্র পরানকে হত্যা করে শিক্ষক

admin June 13, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
যশোরের শার্শায় মাদ্রাসা ছাত্র শাহ পরানকে তার শিক্ষক হত্যা করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বলাৎকার করতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে পুলিশের ভাষ্য।


শার্শা থানার এসআই মামুনুর রশিদ বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা জেলার দিঘলিয়া আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসা থেকে হাফিজুর রহমান নামে এই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করার পর ‘তিনি হত্যার দায় স্বীকার’ করেছেন।


গত ২ জুন শার্শার গোগা গাজীপাড়ায় মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজুর রহমানের ঘরের খাটের নিচে থেকে শাহ পরান (১২) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হাফিজুর পলাতক ছিলেন।


এসআই রশিদ হাফিজুরের বরাতে বলেন, রোজার সময় তারাবি শেষে মাদ্রাসায় নিজ কক্ষে ওই শিশুকে হাফিজুর মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। পরে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরদিন ওই শিশুকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন।


‘সেখানে তাকে নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে আত্মগোপন করেন। হাফিজুর গোগা গাজিপাড়া গ্রামের মুজিবর রহমান মোল্লার ছেলে। বেনাপোলের কাগজপুকুর খেদাপাড়া হিফজুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম তিনি। নিহত শাহ পরান কাগজপুকুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে।’


শার্শা থানার ওসি এম মসিউর রহমান বলেন, বুধবার দুপুরে হাফিজুরকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অটোরিকশার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ: নওগাঁ ও পাবনায় নিহত ৫

অটোরিকশার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ: নওগাঁ ও পাবনায় নিহত ৫

admin June 13, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
নওগাঁ ও পাবনায় অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পাবনা শহরের চাঁদমারী এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।


মহদেবপুর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, নওগাঁ-পত্নীতলা সড়কের মহিষবাথান এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- মোটরসাইকেল আরোহী মহাদেবপুরের বিজয়পুর গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে সাগর হোসেন (১৮), একই গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে রুহানী (১৯) এবং দুলাল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম শরিফ (১৮)। আহত ইজিবাইক চালক কালুমিয়া ওরফে বাবু (১৯) মহাদেবপুরের কালুশহর গ্রামের খোয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তাকে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


মহদেবপুর ধানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলযোগে বিজয়পুর ফিরছিলেন। পথে মহিষবাথান ও কালনার মধ্যবর্তী স্থানে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে শরিফুল ইসলাম ও রুহানীর মৃত্যু হয়। সাগর ও কালু মিয়াকে মহাদেবপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাগরের মৃত্যু হয়। কালু মিয়াকে আশংকাজনক জনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি সাজ্জাদ হোসেন।


অপরদিকে পাবনা সকালে শহরের চাঁদমারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক জানান। নিহতরা হলেন- সদরের বললামপুর গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে ওয়ালিদ হোসেন ওরফে অলিব (২০) ও তার ভাই শফিকুলের ছেলে প্রান্ত (১৫)।


ওসি বলেন, ওয়ালিদ ও প্রান্ত মোটর সাইকেলে করে পাবনা বিসিক শিল্প নগরীতে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে একটি অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোট রসাইকেলের সংঘর্ষ হলে চাচা ভাতিজা আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪১ রানে হারালো পাকিস্তান

admin June 13, 2019

পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪১ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। টনটনে বারবার রঙ পাল্টানো ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৩০৮ রানের জবাবে পাকিস্তান ৪৫.৪ ওভারে অলআউট হয় ২৬৬ রানে।


টনটনে বুধবার টস হেরে ৪১ রানে জিতেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ৩০৭ রান তাড়ায় ২৬৬ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।


আগের ম্যাচে ওয়ানডেতে নিজের মন্থরতম ফিফটি করা ওয়ার্নার এদিন শুরু থেকে ছিলেন আক্রমণাত্মক। শুরুতে একটু ভুগছিলেন ফিঞ্চ। প্রথম পাঁচ ওভারে আমিরের দুটি ওভার মেডেন খেলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।


ফিঞ্চকে ভোগাচ্ছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ। বাঁহাতি এই পেসারের বলে ২৬ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ডানহাতি ওপেনার। মোহাম্মদ হাফিজের বলে ৪৪ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন সরফরাজ। ৬৩ বলে ফিফটি করার পর রানের গতি বাড়ান ফিঞ্চ।



এবারের আসরে দুবার ওয়ানডেতে নিজের মন্থর ফিফটির রেকর্ড ভাঙা ওয়ার্নার শুরু থেকে ছিলেন স্বচ্ছন্দ। বাঁহাতি এই ওপেনার পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ৫১ বলে।


দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ফিঞ্চকে বিদায় করে ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আমির। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ৮৪ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায় করেন ৮২ রান। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।


এসেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে বোল্ড করার পর সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকে থামান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ওয়ানডেতে ১৫তম সেঞ্চুরি পাওয়া ওয়ার্নারের ১১১ বলে খেলা ১০৭ রানের ইনিংস গড়া ১১ চার ও এক ছক্কায়।


দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা উসমান খাওয়াজা ও শন মার্শকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় একটা ধাক্কা দেন আমির। সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ফিঞ্চের দল।


মাত্র ১৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ ৩১০ পর্যন্ত যেতে পারেনি তারা।


৪৯তম ওভারে চার বলের মধ্যে অ্যালেক্স কেয়ারি ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার খুশিতে ভাসেন আমির। অস্ট্রেলিয়া থামে ৩০৭ রানে।


৩০ রানে ৫ উইকেট নেন আমির। তরুণ পেসার আফ্রিদি ২ উইকেট নেন ৭০ রানে।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:


অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ৩০৭ (ফিঞ্চ ৮২, ওয়ার্নার ১০৭, স্মিথ ১০, ম্যাক্সওয়েল ২০, মার্শ ২৩, খাওয়াজা ১৮, কেয়ারি ২০, কোল্টার-নাইল ২, কামিন্স ২, স্টার্ক ৩, রিচার্ডসন ১*; আমির ১০-২-৩০-৫, আফ্রিদি ১০-০-৭০-২, হাসান ১০-০-৬৭-১, ওয়াহাব ৮-০-৪৪-১, হাফিজ ৭-০-৬০-১, মালিক ৪-০-২৬-০)


পাকিস্তান: ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ (ইমাম ৫৩, ফখর ০, বাবর ৩০, হাফিজ ৪৬, সরফরাজ ৪০, মালিক ০, আসিফ ৫, হাসান ৩২, ওয়াহাব ৪৫, আমির ০, আফ্রিদি ১*; কামিন্স ১০-০-৩৩-৩, স্টার্ক ৯-১-৪৩-২, রিচার্ডসন ৮.৪-০-৬২-২, কোল্টার-নাইল ৯-০-৫৩-১, ম্যাক্সওয়েল ৭-০-৫৮-০, ফিঞ্চ ২-০-১৩-১)


ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী


ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড ওয়ার্নার

বিশ্বকাপ ম্যাচ হাইলাইটস ২০১৯ | Match Highlights | ICC Cricket World Cup 2019

admin June 13, 2019


বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচের হাইলাইটস:

এক নজরে বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত ম্যাস সমূহের হাইলাইটস দেখন ... এই লিঙ্কে >>

বাংলাদেশ ম্যাচ

সব ম্যাচ

নরসিংদী: হত্যার পর লাশকে ধর্ষণ, ধর্ষক সাইফুল গ্রেপ্তার

নরসিংদী: হত্যার পর লাশকে ধর্ষণ, ধর্ষক সাইফুল গ্রেপ্তার

admin June 12, 2019

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে হত্যার পর ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে (২৮) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১-এর সদস্যরা।


একই সঙ্গে ধর্ষক সাইফুল ইসলামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিবন্ধী তরুণীর মোবাইল ও ব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে নরসিংদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক কাজী শামসের আহম্মেদ।


তিনি জানান, গত ৬ জুন বিকেলে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের সাবিনা আক্তার (২১) নামে এক প্রতিবন্ধী যুবতীকে একই উপজেলার দুলালপুর (খালপাড়) গ্রামের মৃত হানিফ উদ্দিনের পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৮) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি সিএনজি যোগে স্থানীয় কাজীরচর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. নাজিম উদ্দিনের কলাবাগানের ভিতর নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে সাবিনা বাধা দিলে সাইফুল তার জামা দিয়ে সাবিনাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে এবং তার লাশকে ধর্ষণ করে। পরে তার লাশ কলা ক্ষেতে ফেলে চলে যায়।


এ সময় সে সাবিনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে তার নিজ বাড়িতে চলে যায়। ঘটনার পর থেকে সাইফুল আত্মগোপন করে থাকে। গত ৮ জুন স্থানীয় লোকজন উল্লেখিত কলাবাগানে লাশ দেখে শিবপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে সাবিনার মা আফিয়া আক্তার বাদী হয়ে শিবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।


র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিষয়ে খবর পেয়ে র‌্যাব তাদের একটি গোয়েন্দা দল এএসপি মোঃ আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। গত ১১ জুন র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল শিবপুর থানার কলেজ গেইট এলাকা থেকে হত্যা ও ধর্ষণকারী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। সাইফুলের দেখানো মতে তার বাড়ির বাথরুম থেকে সাবিনার মোবাইল ফোন ও বাড়ীর পাশের একটি নর্দমা থেকে সাবিনার ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে।

নিষিদ্ধ আরো ২২ পণ্য

নিষিদ্ধ আরো ২২ পণ্য

admin June 12, 2019

নিউজ ডেস্ক:
দ্বিতীয় দফায় ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষা করে ২২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে ‘নিম্ন মানের বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পণ্য আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাজার থেকে তুলে নিতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় মান নির্ধারণকারী সংস্থা বিএসটিআই এই নির্দেশ দেন।


এর মধ্যে রয়েছে- হাসেম ফুডসের কুলসন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই এবং এস এ সল্টের মুসকান ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, প্রাণ ডেইরির প্রাণ প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ঘি, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের রাঁধুনী ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুঁড়া ও জিয়ার গুঁড়া, চট্টগ্রামের যমুনা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের এ-৭ ব্র্যান্ডের ঘি, চট্টগ্রামের কুইন কাউ ফুড প্রোডাক্টসের গ্রিন মাউন্টেন ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল, চট্টগ্রামের কনফিডেন্স সল্টের কনফিডেন্স ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির জে কে ফুড প্রোডাক্টের মদিনা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, চাঁদপুরের বিসমিল্লাহ সল্ট ফ্যাক্টরির উট ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং চাঁদপুরের জনতা সল্ট মিলসের নজরুল ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ।


এসব পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করেছে বিএসটিআই। তবে থ্রি স্টার ফ্লাওয়ার মিলের থ্রি স্টার ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া এবং এগ্রো অর্গানিকের খুশবু ব্র্যান্ডের ঘি নিম্নমানের হওয়ায় কোম্পানি দুটির লাইসেন্স বাতিল করেছে বিএসটিআই।


এছাড়া আরও ৮টি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের কোনো লাইসেন্স ছাড়াই পণ্য বাজারজাত করছিল। তাদের নাম প্রকাশ না করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়োমিত মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।


এদিকে গত রোজাকে সামনে রেখে বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তার মান পরীক্ষা করে বিএসটিআই। গত ১ মে প্রথম ধাপে ৩১৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে তারা। সেখানে ৫২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে নিম্নমানের বলে ঘোষণা করা হয়। তবে পরে কয়েকটি পণ্য মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বিএসটিআই। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হল।

সংসদে যোগ দিয়েই উত্তাপ ছড়ালেন রুমিন ফারহানা

সংসদে যোগ দিয়েই উত্তাপ ছড়ালেন রুমিন ফারহানা

admin June 12, 2019

রংপুর এক্সপ্রেস ডেস্ক:
সংসদে যোগ দিয়েই উত্তাপ ছাড়িয়েছেন বিএনপি সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ।


তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’ এতে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানালে স্পিকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আপত্তিকর কোনো কথা থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে বলে জানান।


বিএনপির এই এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি। এ সময় স্পিকার সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

শেরপুরে অন্তঃসত্ত্বাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ!

শেরপুরে অন্তঃসত্ত্বাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ!

admin June 12, 2019

নিউজ ডেস্ক:



শেরপুরের নকলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ডলি খানম (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতন করা হয়েছে। ওই নির্যাতনে গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। গত সোমবার রাতে ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র ফাঁস হওয়ায় এলাকায় শুরু হয়েছে তোলপাড়।



 



ডলি খানম পৌর শহরের কায়দা এলাকার দরিদ্র কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী ও স্থানীয় চন্দ্রকোনা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ঘটনার হোতা নির্যাতিতা গৃহবধূর ভাসুর আবু সালেহসহ জড়িতরা এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকায়।



 



এ ঘটনায় অসহায় শফিউল্লাহ গত ৩ জুন শেরপুরের আমলী আদালতে তার ভাই আবু সালেহসহ ৫ জনকে স্বনামে ও আরো অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে একটি নালিশী মামলা দায়ের করছেন। আদালতের বিচারিক হাকিম শরীফুল ইসলাম খান ভিকটিমের এমসি তলব (ডাক্তারি পরীক্ষার সনদ) সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুর পিবিআই’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।



 



মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নকলা পৌর শহরের উপকণ্ঠ কায়দা গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহর সঙ্গে এক খণ্ড জায়গা নিয়ে তার সহোদর বড়ভাই আবু সালেহ (৫২), নেছার উদ্দিন (৪৮) ও সলিম উল্লাহর (৪৪) বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। এর জের ধরে ১০ মে সকালে স্থানীয় গোরস্থান সংলগ্ন শফিউল্লাহর দখলীয় জমির ইরি-বোরো ধান আবু সালেহ ও তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে কাটতে গেলে শফিউল্লাহ বাধা দেন।



 



এতে তিনি প্রতিপক্ষের ধাওয়ার মুখে পিছু হটে নকলা থানায় ছুটে যান। ততক্ষণে আবু সালেহর নেতৃত্বে একদল লোক ধান কাটতে শুরু করে। পরে শফিউল্লাহর ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম ডাক-চিৎকার দিয়ে বাঁধা দিতে গেলে আবু সালেহর হুকুমে তার ছোটভাই সলিমউল্লাহ, ভাইবউ লাখী আক্তারসহ অন্যান্যরা তাকে ঘেরাও করে ফেলে।



 



এক পর্যায়ে তার চোখে মুখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দিয়ে তাকে টানা-হেঁচড়া করে পাশের ক্ষেতের আইলের থাকা একটি গাছের সঙ্গে পেছনে হাত রেখে বেঁধে ফেলে। একইসঙ্গে পাশের অন্য গাছের সঙ্গে টানা দিয়ে বেঁধে ফেলে তার ২ পা। এছাড়া তার গোপনাঙ্গসহ পেটে, বুকে, পিঠে উপুর্যপরি কিল-ঘুষি-লাথির আঘাতে তাকে নিস্তেজ করে ফেলে। ওই নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে লাখী আক্তার।



 



এ ঘটনা দেখে শফিউল্লাহকে ওই নির্যাতনের খবর জানাতে ছুটে যায় থানায় এক প্রতিবেশী। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় ডলি খানমকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত আবু সালেহ ও তার ছোট ভাই বউ লাখী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসার কথা বলে ডলি খানমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর পর প্রভাবশালীদের তদবিরে ছাড়া পেয়ে যান আটক ২ জন।



 



অন্যদিকে বর্বর নির্যাতনে ডলি খানমের রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তাকে ১৬ মে পর্যন্ত ৭ দিন চিকিৎসা দেয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেও ২২ মে পর্যন্ত ৭ দিন চলে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয়েছে।



 



ওই ঘটনায় অসহায় শফিউল্লাহ ৩ জুন শেরপুরের আমলী আদালতে আবু সালেহসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুল ইসলাম খান ভিকটিমের এমসি তলব সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুরের পিবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।



 



মঙ্গলবার বিকালে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী শফিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার বড়ভাই সেনাসদস্য নেছার উদ্দিনের ইন্ধনে তার স্ত্রী লাখী আক্তার এবং অপর ২ ভাই আবু সালেহ ও সলিমউল্লাহসহ তাদের ভাড়াটে লোকজন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানমকে বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়া তার প্রভাবেই থানা পুলিশের এসআই ওমর ফারুক মহিলা কনস্টেবলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডলি খানমকে উদ্ধারের পরও কোন প্রতিকার পাইনি।



 



এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটিও থানাতেই গায়েব করে দেয়া হয়েছে। তবে অনেক চেষ্টায় ঘটনার প্রায় এক মাস পরে হলেও সেই ভিডিওর কিছু অংশ এক প্রতিবেশির কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি।



 



তিনি আরও বলেন, এমন বর্বর নির্যাতনের পরও তারা আজ বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। আর আমি অসহায়। এজন্য আমি ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।



 



বিষয়টি সম্পর্কে নকলা থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, জমি-জমার বিষয় নিয়ে ভাই-ভাইদের মধ্যে বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে দুপক্ষকেই শান্ত করা হয়েছিল। গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।



 



এ ব্যাপারে জামালপুর পিবিআইয়ের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রাণী সরকার বলেন, আদালতের কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। পেলে অবশ্যই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Image Gallary

 
1 / 3
   
Caption Text
 
2 / 3
   
Caption Two
 
3 / 3
   
Caption Three